‘রংপুর হচ্ছে চার দেশের মিলনস্থল’

ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান—এই চার দেশের মিলনস্থল হচ্ছে রংপুর জেলা। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হতে পারে। সেই লক্ষ্যে কাজও চলছে। তিস্তা নদীর পানি সমস্যা দ্রুত সমাধানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রবিবার রাতে রংপুর নগরের মাহিগঞ্জ এলাকায় রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। পরে তিনি রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

আরসিসিআই অডিটরিয়ামে রংপুর চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘রংপুর হচ্ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান—এ চার দেশের মিলনস্থল হচ্ছে এই জেলা। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হতে পারে। সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ভৌগোলিক সুবিধা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, একই ধরনের জীবনধারা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কারণে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল—চার দেশের উদ্যোগে বিবিআইএন পুরোপুরি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে এ দেশগুলোর মধ্যে অবাধে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সমস্যা সমাধানে রংপুর চেম্বারের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার রংপুরের রামকৃষ্ণ আশ্রমে পৌঁছালে তাঁকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে স্বাগত জানানো হয়। তিনি আশ্রমের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি ৩০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার চেক আশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশন রাজশাহীর সহকারী কমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ফার্স্ট সেক্রেটারি নিনাদ দেশপাণ্ডে, আশ্রমের পুরোহিত সত্যানন্দ মহারাজ, রংপুর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা প্রমুখ।

গতকাল সোমবার সকালে ভারতীয় হাইকমিশনার রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন।