শেরপুরে সমতল ভূমিতে চা চাষে বাণিজ্যিক সফলতা

শেরপুরে সমতল ভূমিতে চা চাষে বাণিজ্যিক সফলতা পেয়েছেন উদ্যোক্তা নকলা উপজেলার টালকী ইউনিয়নের রামেরকান্দি গ্রামের যুবক রোকন উদ্দিন সাগর। শখের চা বাগান থেকেই চা উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে প্যাকেটজাত করে সাগর চা নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সাগরকে অনুসরণ করে এলাকার অনেক যুবক পতিত জমি, কাঠ ও ফলদ বাগানে চা চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
সরেজমিনে গেলে সাগর জানান, লালমনিরহাট ভ্রমণকালে কয়েকটি চা গাছ এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করি। চা গাছের বেড়ে ওঠা দেখেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের নেশা চেপে বসে। ২০১২ সালে ইচ্ছা পূরণের লক্ষ্যে পঞ্চগড় থেকে সাত হাজার চা চারা কিনে আনেন এবং চাষের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে প্রায় আট বিঘা জমিতে রোপণ করে তিনজন শ্রমিক নিয়োগ করে চা গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। দুই বছর পর ঘরোয়াভাবে চা তৈরি করে পরিবারের সবাই পান করেন। সবার কাছে ভালোমানের চা মনে হওয়ায় বাগানের তদারকি আরো বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্যাকেটজাত করে সাগর চা নামে জেলার বাইরেও সরবরাহ করছেন। প্রতি কেজি চা পাতা ২৩০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।
স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন হাওলাদার বলেন, সাগর চায়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরেও। এলাকার এমপি ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এই বিষয়ে উদ্যোগ নিলে শেরপুরে গড়ে উঠতে পারে চা শিল্প, দূর হতে পারে বেকারত্ব, সৃষ্টি হতে পারে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান।
নকলার বানেশ্বর্দী গ্রামের যুবক রুহুল মিয়া, টালকী গ্রামের শরাফত আলী ও চন্দ্রকোনা গ্রামের আলম শেখ বলেন, রোকন উদ্দিন সাগর চা চাষ বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পেয়েছেন। তা দেখে আমরা আমাদের পতিত জমিতে চা চাষের পরিকল্পনা করেছি। ইতোমধ্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে যোগাযোগ করা হয়েছে। চা গাছের চারা সংগ্রহ করতে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চলছে। নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, সমতল ভূমিতে চা চাষ এক বিরল উদ্যোগ। পতিত জমিতে অথবা ফলদ ও কাঠ বাগানে চা বাগান গড়ে তুলতে পারলে কৃষি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, শেরপুরে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০২ সালে জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে চা চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ দল ওইসব এলাকা পরিদর্শন করেন। তাদের প্রতিবেদন অনুুযায়ী জেলার সাত হাজার হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চা চাষ করা সম্ভব। এ লক্ষে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেন তারা।

অজ্ঞাত কারণে তা ফাইলবন্দি।