এশিয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ে ১৭তম বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তারই ধারাবাহিকতাপরিলক্ষিত হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারী ব্যয়ে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ১৭তম বাংলাদেশ। এশীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করে। আর বাংলাদেশ করে ১.৪ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এ খাতে তাদের মোট জিডিপির গড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে। এ অঞ্চলের ৩৮টি দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম।

ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিডিপির ২২ দশমিক ১ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে সামাজিক নিরাপত্তায় এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে জাপান। আর তলানিতে থাকা পাপুয়া নিউগিনির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় জিডিপির শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা জিডিপির সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে সামাজিক নিরাপত্তায়। নেপাল ২ দশমিক ২ শতাংশ, পাকিস্তান ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ও ভারত ১ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে ভুটান।

এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, অংশগ্রহণমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে তথ্যভাণ্ডারের বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিষয়টি সহায়ক হবে। বিশ্বের মাত্র ২৭ ভাগ মানুষ সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় রয়েছে। মাত্র ১৭ শতাংশ শ্রমিক এই সুবিধা পাচ্ছে।

এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর প্রশংসাও করা হয়েছে। মাথাপিছু কম ব্যয়ের পরেও বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে তুলনামূলক বেশি উপকারভোগী রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের চেয়েও বেশি মাথাপিছু আয় করা ভুটান, ভানুয়াতু, তাজিকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি জিডিপির তুলনায় কম ব্যয় করছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির তুলনায় ব্যয়ের শীর্ষ দেশ জাপানের পরেই রয়েছে উজবেজিকিস্তান, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কিরগিজিস্তান, কোরিয়া, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া ও মঙ্গোলিয়া। ভিয়েতনাম রয়েছে ১৪তম, শীলঙ্কা ১৯তম, নেপাল ২১তম, পাকিস্তান ২২তম, ভারত ২৪তম অবস্থানে।