তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের ফলেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাংলাদেশী উদ্যোক্তা এবং সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র চেয়ারম্যান এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক সেবার বিকাশের ফলেই এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশের ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে আরও অফিস স্থাপন করা। দেশের আইটি খাতের প্রতিভাবানদের যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা।
শনিবার কারওয়ানবাজারের মোনেম বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে আলোকিত বাংলাদেশের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তার পরিচালনাধীন ঢাকাভিত্তিক বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও টানা তৃতীয়বারের মতো ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ আউটসোর্সিং প্রফেশনালস বা আইএওপি (িি.িরধড়ঢ়.ড়ৎম)-এর বিশ্বের সেরা ১০০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু দেশের অর্জন নয়, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সব পেশাজীবী এবং বাংলাদেশীদের জন্যও একটি বড় স্বীকৃতি। আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে দেশের জন্য এ অর্জন এক বিরল সুনাম। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও বিশ্বের সেরা ১০০ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশকে অন্যতম একটি সেরা আউটসোর্সিং সেবা প্রদানকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
মহিউদ্দিন মোনেম জানান, আইসিটি মন্ত্রণালয় তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আইটি আউটসোর্সিং অনুঘটক হিসেবে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। রফতানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে এবং এ খাতকে আরও প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার জন্য যে পূর্বশর্ত প্রয়োজন তাহলো যথাযথ মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিকল্প বিপিও হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নগদ রফতানি সহায়তা প্রদান করা। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এ অভিজাত তালিকায় উঠে আসার ক্ষেত্রে সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র যে বিষয়গুলো কাজ করেছে তাহল এর দ্রুত প্রবৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা ও চমৎকার গ্রাহক সুপারিশ। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল বাংলাদেশের ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে আরও অফিস স্থাপন করা। দেশের আইটি খাতের প্রতিভাবানদের যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা।
মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণ ও ‘ভিশন-২০২১; ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক সেবার বিকাশের ফলেই এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলো হচ্ছেÑ ব্যাক অফিস প্রসেসিং, ডিজিটাল অ্যাডভার্টাইজিং অপারেশন, ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা এগ্রেগেসন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স এবং টেস্টিং ও কল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির জন্য করা হয়।
সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি মহিউদ্দিন মোনেম এরই মধ্যে ‘প্রেসিডেন্ট পুরস্কার’, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার রফতানিতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘জাতীয় রফতানি স্বর্ণ ট্রফি’ এবং ‘সর্বোচ্চ করদাতা পুরস্কার’ লাভ করেছেন।
দেশের অন্যতম ব্যবসায়িক গ্রুপ আবদুল মোনেম লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও ‘দি গ্লোবাল আউটসোর্সিং ১০০’ তালিকায় ‘রাইজিং স্টার’ হিসেবে স্থান করে নেয়া একমাত্র বাংলাদেশী কোম্পানি যেটি ২০১৪ সাল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য এ স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। ২০০৬ সালে মাত্র ছয়জন নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া সার্ভিসইঞ্জিনবিপিওতে বর্তমানে ৫০০’রও অধিক প্রতিভাবান তরুণ কর্মরত আছে। বছরের প্রতিটি দিন, সপ্তাহের প্রতিটি দিন এবং প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিভাবান তরুণদের মূল সেবা মন্ত্র হচ্ছে ‘উত্তম জনবল, উত্তম সেবা ও উত্তম ফলাফল’। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর জনবলের এক তৃতীয়াংশই তরুণ ও শিক্ষিত নারী। মূল ব্যবসার পাশাপাশি সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও-এর প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষা, পুষ্টি, পরিবেশ ও কল্যাণমূলক খাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।