পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় ২৩২৯ কোটি টাকা

অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মেয়াদে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুন্ডলি রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায়ও এ খাতের রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুন্ডলি রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুন্ডলি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ১ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে পাটের সুতো ও কুন্ডলি রপ্তানিতে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে পাটের সুতো ও কুন্ডলি রপ্তানিতে ১৫ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল।
চলতি বছরের জুলাই-অক্টোবর মেয়াদে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম বেশি। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের আয় ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের একই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
ইপিবির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে পাটের অন্যান্য দ্রব্য রপ্তানিতে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের রপ্তানি আয় ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে।