গুলশানে ১২০০ রিকশাচালকের বিনা মূল্যে চিকিৎ​সা

গুলশানে রিকশাচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন চিকিৎ​সক l ছবি: প্রথম আলোগুলশানে ১ হাজার ২০০ জন রিকশাচালক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান সোসাইটি লেক পার্কের মুক্তাঙ্গনে এই সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

গুলশান সোসাইটি ও হেলথ অন হুইলস, ইউএসএর যৌথ উদ্যোগে ‘আশার আলো’ নামের এই জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘গুলশান সোসাইটির এই উদ্যোগ কোনো কিছু গড়ার উদ্যোগ। এটা যেন ভেঙে না যায়, গড়ার মানসিকতা যেন থাকে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুলশান সোসাইটির সভাপতি এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘গুলশান সোসাইটি কেবল ধনী মানুষের সংগঠন নয়, আমরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষকে সেবা দিতে এগিয়ে এসেছি। পরে চেষ্টা করব তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে।’

গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের ভূগর্ভস্থ তলায় অস্থায়ীভাবে দুই দিনব্যাপী এই স্বাস্থ্য কার্যক্রম চলবে। এর আওতায় প্রত্যেক রিকশাচালকের জন্য স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ডেটাবেইস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পরে তাঁদের চিকিৎসায় পুরোনো অবস্থা জানা যায় এবং তাঁরা মুঠোফোনেও স্বাস্থ্যসেবা পান।

গুলশান সোসাইটির মহাসচিব ওমর সাদাত বলেন, নয়জন চিকিৎসকসহ ১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী দুদিনব্যাপী এই স্বাস্থ্য কার্যক্রমে গুলশানের নিবন্ধিত ১ হাজার ২০০ জন রিকশাচালক ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রোগ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হবে।

হেলথ অন হুইলসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রুহুল আবিদ বলেন, প্রত্যেকের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, যক্ষ্মা, হাঁপানি আছে কি না, তা দেখা হবে। শিশুর ক্ষেত্রে টিকা পেয়েছে কি না, পুষ্টি পাচ্ছে কি না। নারীর ক্ষেত্রে গাইনি সমস্যাও দেখা হবে। মারাত্মক রোগীকে যৌথ উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি মাসেই তাঁদের স্বাস্থ্যবিষয়ক খোঁজ নেওয়া হবে।

আবদুস সাত্তার (৫৬) গুলশান এলাকায় হলুদ রিকশা চালান। কয় দিন ধরেই তাঁর শরীরটা দুর্বল ও জ্বরজ্বর লাগে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে স্যালাইন ও জ্বরের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ রকম চেকআপের সুবিধা থাকলে তো ভালোই হয়। মাঝেমধ্যে দেখাইতে পারি। আমরা তো ম্যালা শরীর খারাপ না হইলে হাসপাতালে যাই না।’