উদ্বোধনের সম্ভাবনা জুনে কাজ শেষ ৭৫ ভাগ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ও বহু কাঙ্ক্ষিত স্থানীয় মধুমতি নদীতে শেখ হাসিনা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটির শতভাগ নির্মাণকাজ আসছে জুনের মধ্যে শেষ হলে উদ্বোধন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহা. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কাজের প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যত্নশীল হওয়ায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে নির্মাণকাজ।’ কাজের মানও সন্তোষজনক বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে মাগুরার নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মির্জা মো. ইফতেখার আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ সামনের জুনের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা সদরের মধুমতি নদীতে (বাঁশতলা খেয়াঘাট নামে পরিচিত) ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর কার্যাদেশ পায় ম্যাক্স-র‌্যানকেন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের এপ্রিলে সেতু নির্মাণের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যাদেশের ১৮ মাসের (দেড় বছর) মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮০ মিটার। ১৫০টি পাইল, ১৫টি স্প্যান এবং ৭৫টি পিসি গার্ডার রয়েছে। নির্মাণ ব্যয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৪ হাজার ৭০৫ টাকা ২৫ পয়সা।

স্থানীয়রা মনে করেন, ‘শেখ হাসিনা সেতু’ চালু হলে একদিকে যেমন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সময় এবং অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। মধুমতির দুই তীরের অগণিত মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে এই সেতুটি। ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনমান ও ভাগ্যোন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন সচেতন মহল।

মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলার একাংশের এবং ফরিদপুর, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশালসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়ক, সময় এবং নগদ অর্থ দুটোই বাঁচিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পদ্মা নদীর মাওয়ায় দীর্ঘ সেতু নির্মাণ শেষ হলে রাজধানীতে যাতায়াতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। মধুমতি ও পদ্মা সেতু উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা সদরের আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক ও সেতু-সংলগ্ন জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এ. কে. এম নাসিরুল ইসলাম বলেন, মধুমতি নদীর এই সেতুটিই বদলে দেবে উভয় পাড়ের অসংখ্য মানুষের ভাগ্য। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সেতুর পশ্চিমমুখের অধিবাসী ও মহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এই সেতুটিই উভয় পাড়ের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন এনে দেবে। উভয়পাড়ে শিল্প-কলকারখানা গড়ে ওঠার মধ্যদিয়ে বহু বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।