নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা, ইউরোপে মারাত্মক অর্থ সংকট, বিশ্বের বাজারগুলোতে চাহিদা হ্রাসসহ নানামুখী নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বাংলাদেশ গড়ে ছয় দশমিক চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি, দুই হাজার সাত-আট অর্থবছরে বাইশ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা থেকে দুই হাজার তের চৌদ্দ অর্থবছরে পঁয়ষট্টি হাজার আটশ সত্তর কোটি টাকায় উন্নীত। এডিপি বাস্তবায়ন হার সাতানব্বই শতাংশে উন্নীত। রাজস্ব আদায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু আয় দুই হাজার আট সালে ছয়শ ত্রিশ ডলার থেকে এক হাজার চুয়াল্লিশ ডলারে উন্নীত। পাঁচ কোটির বেশি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার দুই হাজার পাঁচ সালের চল্লিশ শতাংশ থেকে ছাব্বিশ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে এক হাজার চারশ পঞ্চাশ কোটি ডলার রেমিটেন্স প্রাপ্তি। দুই হাজার আট এ ছিল আটশ আটানব্বই কোটি ডলার। বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশ। বাস্তবসম্মত শ্রম কূটনীতির ফলে জনশক্তি রপ্তানি গন্তব্য দেশের সংখ্যা একশ থেকে একশ পঞ্চান্ন এ উন্নীত। জি টু জি পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানি শুরু। ব্যয় হ্রাস। হয়রানি বন্ধ। চৌদ্দটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশগামী নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। নারী জনশক্তি রপ্তানি ব্যাপক বৃদ্ধি শেখ হাসিনার নারী নীতিমালার কারণে সম্ভব হয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মত চৌদ্দটি কমিউনিটি রেডিও’র লাইসেন্স প্রদান। তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন। তথ্য কমিশন গঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি ও প্রবিধিমালা প্রণয়ন। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন। তিন পার্বত্য জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি বিধিমালা দুই হাজার বারো প্রণয়ন। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এক লক্ষ বিশ হাজার ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে পঞ্চান্ন হাজার একর কৃষি খাস জমি প্রদান। ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় একশ তেষট্টিটি গুচ্ছগ্রামে সাত হাজার একশ বাহাত্তরটি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে একশ আঠাশটি টুইন হাউজ নির্মাণ। বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে তাত্ক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। বিদ্যুত্ উত্পাদনে অসাধ্য সাধন। লোডশেডিং এর দুঃসহ যন্ত্রণার অবসান হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণে। যা বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বীকৃত। চার হাজার চারশ বত্রিশ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাতান্নটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ। বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা নয় হাজার ঊনষাট মেগাওয়াটে উন্নীত। সর্বোচ্চ ছয় হাজার ছয়শ পঁচাত্তর মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ। উনিশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার গ্রাহককে বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান। বাষট্টি শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধা প্রাপ্তি। ছয় হাজার ঊনপঞ্চাশ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও বিশটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং তিন লক্ষ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ। পল্লী বিদ্যুতায়নের আওতায় ছাব্বিশ হাজার পাঁচশ দুই কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ। পাবনার রূপপুরে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি ইউনিট পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর। বিশ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন। এর আওতায় নব্বই মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন। পঁচিশটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত। দৈনিক গ্যাস উত্পাদন এক হাজার ছয়শ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে দুই হাজার তিনশ তিন মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নতির রূপকার শেখ হাসিনা।

মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ পূর্ণ গড় বেতনে চার মাস থেকে ছয় মাসে বর্ধিতকরণ। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের আসন সংখ্যা পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ এ উন্নীত। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে চৌদ্দ হাজারেরও বেশি নারী বর্তমানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এমডিজি তিন অর্জনে ব্যাপক সাফল্য। নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে ছেষট্টি হাজার সাতশ ষাটটি সমিতি ও দল গঠন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে আঠাশটি মন্ত্রণালয় জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতার পরিমাণ নয়শ টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় উন্নীত। এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানী হিসাবে বছরে তিনশ ষাট কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা ও নাতী-নাতনীদের সরকারি চাকরিতে ত্রিশ শতাংশ কোটা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ। বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা চল্লিশ শতাংশ বৃদ্ধি। দুই হাজার এগারো সালে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্থাপিত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন মডেল’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ সর্বসম্মতিক্রমে পাস। জাতিসংঘে দুই হাজার এগারো সালে বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাবটিও পাস। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দহগ্রাম আঙ্গরপোতায় অবাধ যাতায়াতে তিনবিঘা করিডোর চব্বিশ ঘণ্টা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। মায়ানমারের সাথে সমুদ্র জয়ের ফলে বঙ্গোপসাগরের এক লক্ষ এগারো হাজার ছয়শ একত্রিশ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উত্সবগুলো আনন্দপূর্ণ পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন, ‘ধর্ম যার যার, উত্সব সবার’ এ নীতি অনুসরণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজধানী ছাড়াও চারটি বিভাগ ও ষাটটি জেলা কার্যালয়, সাতটি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং তেত্রিশটি ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে ইসলামি আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রচার অব্যাহত আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চমক নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নের পথে কাজ করে চলা। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক দাতা সংস্থার বিরোধিতা সত্ত্বেও তার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বাঙালি জাতি নতুন করে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে পদ্মা সেতু নির্মাণের সমস্ত কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। শেখ হাসিনার এই সাহসী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এই রকম নানা সূচকে উন্নয়নের জন্যে বর্তমানে সারাবিশ্ব নেতাদের মুখেও শোনা যাচ্ছে শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রশংসা। পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ লাভের একদিন পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অতিসম্প্রতি নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য ‘প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পেয়েছেন বাঙালি ও বাংলাদেশের গর্ব বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সদর দফতরের ইউএন প্লাজায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল পার্টনারশিপস ফোরাম এর পক্ষ থেকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইম্যান এর পক্ষ থেকে ‘প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই দুটি পুরস্কার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিষ্ঠিত করলো বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। বিশ্ব বাঙালির আরও হাজার বছর প্রয়োজন আপনাকে। কারণ যতদিন আপনার হাতে দেশ ততোদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। জয় শেখ হাসিনার জয়…