উন্নয়ন এবং সুশাসন পরস্পর পরিপূরক

রাষ্ট্রীয় অর্থ চুরি করে কিছু সুবিধাভোগী মানুষ কীভাবে বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলছে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ব্যাংকিং সেক্টর। সাম্প্রতিক ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চরম সীমায় উন্নীত হয়েছে। সামান্য কিছু মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে আটকে দিচ্ছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে না

কথায় বলে, সর্বোচ্চমাত্রায় বিনিয়োগ এবং স্ফীত বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে ভালো অবস্থার নির্দেশক। এমনকি প্রচুর বিনিয়োগ এবং তুলনামূলক স্বল্প রিজার্ভও একটি দেশের অর্থনীতির জন্য কাম্য হতে পারে। কিন্তু বিনিয়োগবিহীন স্ফীত রিজার্ভ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এটা একটি দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থারই প্রতীক। বিনিয়োগ ব্যতীত কোনোভাবেই একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বি^ত হতে পারে না। তাই প্রতিটি দেশই চেষ্টা করে কীভাবে তার বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো যায়। কারণ বিনিয়োগ ব্যতীত উৎপাদন সেক্টরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে না। আর উৎপাদন সেক্টরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত না হলে বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা, বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় না। এটা আজ প্রায় সব অর্থনীতিবিদই মেনে নিয়েছেন যে, ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান ব্যতীত দারিদ্র্যবিমোচনে কোনো পদক্ষেপই টেকসই হতে পারে না। বর্তমানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে তা হলো, উন্নয়নশীল দেশ, যাদের রয়েছে প্রচুর উদ্বৃত্ত জনসংখ্যা তাদের ক্ষেত্রে উন্নয়ন কৌশল কী হবে? তারা কি লেবার ইনটেনসিভ প্রোডাকশনে যাবে, নাকি ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ প্রোডাকশনকে উৎসাহিত করবে? লেবার ইনটেনসিভ প্রোডাকশনে গেলে তাদের উন্নয়নের গতি তুলনামূলকভাবে মন্থর হবে এবং উৎপাদিত পণ্য ও সেবার গুণগত মান নিম্নপর্যায়ের হবে। নিম্নমানের পণ্য ও সেবা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, বর্তমান সময় হচ্ছে বহুমুখী প্রতিযোগিতার সময়। কাজেই যে কোনো পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারকে বিবেচনায় রেখেই।
বর্তমানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয়কে বিবেচনায় রাখতে হয়, তা হলো সুশাসন। শুধু পণ্য ও সেবা উৎপাদন করলেই হবে না, যারা এ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তারা কতটা সুশাসন এবং সুনীতি মেনে চলছেন তাও বিবেচ্য বিষয় বটে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতারাও দেখতে চায় তারা যে দেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করছেন সেই দেশে শ্রমিকদের অধিকার, কর্ম পরিবেশ বজায় রাখা, উপযুক্ত মজুরি প্রদানÑ এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আইনের প্রতি তারা কতটা প্রতিশ্রুতিশীল। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রীতির মতোই উৎপাদন সেক্টরেও সুশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কোনো দেশের শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটলেই চলে না, সেই উন্নয়ন কীসের বিনিময়ে হলো, তাও বিবেচনা করা হয়। সুশাসনের অনুপস্থিতিজনিত উন্নয়ন এখন আর আগের মতো গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে না। অর্থাৎ এখন প্রতিটি দেশই উন্নয়ন এবং সুশাসনকে সমন্বিত করতে চায়। সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন (ঘুষ-দুর্নীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত উন্নয়ন অনুকূল পরিবেশ) নিশ্চিত করার পর অর্থনৈতিক উন্নয়ন যদি ব্যাপক আকারে সাধিত হয়, সেটাই একটি দেশের জন্য সবচেয়ে কাক্সিক্ষত অবস্থার নির্দেশক। এটিই সবাই কামনা করে। এমনকি সুশাসন নিশ্চিত করার পর উন্নয়নের গতি যদি কিছুটা মন্থরও হয়, তাহলেও সেটি কাম্য হতে পারে। কিন্তু দুর্নীতিযুক্ত দ্রুত উন্নয়ন কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। অর্থাৎ আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু তা সুশাসনের বিনিময়ে নয়। কারণ উন্নয়ন এবং সুশাসনের অভাব যদি একই সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে থাকে তাহলে সাধিত উন্নয়নের সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাতিসংঘ এ বছর থেকে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এসডিজির মূল কথাই হচ্ছে, কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। সবাইকে নিয়েই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শামিল হতে হবে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে আমরা এ অবস্থার অনুপস্থিতি প্রত্যক্ষ করছি। বিশ্বের সর্বত্রই সম্পদ বণ্টনের অসমতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কোনোভাবেই এ অসমতা দূর করা যাচ্ছে না।
আমরা যদি বাংলাদেশের প্রতি দৃষ্টি আরোপ করি তাহলে দেখতে পাব, আমাদের এখানে বণ্টন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আহরিত সম্পদ সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে না। আমাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার এটাই প্রধান কারণ। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চমৎকার উন্নতি সাধন করেছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে না। বরং একশ্রেণীর মানুষ দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে অন্যের ‘হক’ বা অধিকার ক্ষুণœ করছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এ দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ২ জন। এখন কোটিপতির সংখ্যা কত হবে, তা বোধ হয় সরকারও ঠিকমতো জানে না। দেশে যদি অর্থনৈতিক সুশাসন কায়েম থাকত তাহলে এমনটি হতো না। বাংলাদেশ একসময় সামরিক স্বৈরশাসনের অধীনে ছিল। সে সময় দেশে দুর্নীতিই ছিল প্রধান নীতি। যে কোনো মূল্যেই হোক অর্থবিত্ত কায়েম করাটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। সেই অর্থ বৈধ পথে উপার্জিত নাকি অবৈধ পথে, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতেন না। কারণ রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই এটিকে উৎসাহিত করা হতো। পরবর্তী সময়ে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হলে আশা করা হয়েছিল, দুর্নীতিমুক্ত হয়ে আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হব। কিন্তু সেই চাওয়া কতটা অর্জিত হয়েছে, তা বিবেচনার বিষয় বটে।
বাংলাদেশ প্রায় ৮ বছর ধরে ৬ শতাংশ বা তারও বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। এটি বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে। কারণ বিশ্বের খুব কম দেশই সাম্প্রতিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে এমন টেকসই সাফল্য প্রদর্শন করতে পেরেছে। এমনকি চীন-ভারত যারা উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কয়েক বছর আগেও তাদের প্রবৃদ্ধির ধারাও শ্লথ হয়ে এসেছে। গত অর্থবছরে বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ ৬ শতাংশ বা তারও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক খাদ্য উৎপাদনে যে সাফল্য দেখিয়েছে তা অনেকের জন্যই ছিল কল্পনাতীত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। তখনও মানুষ না খেয়ে থাকত। এখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় আড়াইগুণ বেড়ে ১৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চারগুণ। ফলে বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা বাংলাদেশ নিজেরাই পূরণ করতে পারছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যশস্য রফতানির স্বপ্ন দেখছে। খাদ্য উৎপাদনে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের দেশে’ পরিণত হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ভালো একটি খবর। কিন্তু এ উন্নয়নের সুফল কি সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে? দুঃখজনক হলেও এ প্রশ্নের উত্তর নেতিবাচক। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেক্টরে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ঘরে উঠেছে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের উন্নয়ন বিঘিœত হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশ আরও দ্রুতগতিতে উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবিত হতে পারত যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যেত সব স্তরে। কিছুদিন আগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। কয়েক দশক আগে এটি ছিল ১২ শতাংশের মতো। তার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমাগত উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। কিন্তু এ উন্নয়ন কীভাবে হচ্ছে? দেশের খ্যাতিমান একজন অর্থনীতিবিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটি যে কোনো বিবেচনায়ই একটি ভালো সংবাদ। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দেখতে হবে, এ উন্নয়নটি কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে? উৎপাদনশীল খাতের সৃষ্ট গতিশীলতার মাধ্যমে যদি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ ঘটে তা হলে খুবই ভালো। কিন্তু আমাদের এখানে যে হচ্ছে তা তো উৎপাদনশীল কাজের মাধ্যমে অর্জিত নয়। বরং অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে কিছু মানুষ বিত্তবৈভব গড়ে তুলছে। এতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ যদি নদী দখল, চর দখল, অন্যের জমি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা এ ধরনের কোনো অনৈতিক কাজের মাধ্যমে বিত্তবৈভব গড়ে তোলে তাহলে পারিবারিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে ঠিকই কিন্তু এ উন্নয়ন নৈতিকভাবে মেনে নেয়ার কোনো অবকাশ নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু মানুষ অর্থবিত্ত গড়ে তুলছে, এটি জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রেও এর অবদান রয়েছে। কিন্তু এটি কি আমরা সমর্থন করতে পারি? দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে কিছু লোকের আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এ শ্রেণীর মানুষের অসৎ কর্মকা-ের দরুন প্রকৃত উদ্যোগী মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য। বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে না। একশ্রেণীর মানুষ রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতার বলে নিজেদের অবস্থা এবং অবস্থান আগের তুলনায় আরও ভালো করছেন, কিন্তু এতে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যরা। যার যে সুবিধা পাওয়ার কথা তিনি তা পাচ্ছেন না। যে সৃজনশীলতা প্রদর্শন করার তা আমরা পাচ্ছি না। দেশ বঞ্চিত হচ্ছে তার জনসাধারণের উৎপাদনশীলতা থেকে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় উন্নয়নশীল দেশ। এ সম্ভাবনার দিকটি নষ্ট করে দিচ্ছে ব্যাপকভিত্তিক দুর্নীতি এবং সর্বস্তরে সুশাসনের অভাব।
রাষ্ট্রীয় অর্থ চুরি করে কিছু সুবিধাভোগী মানুষ কীভাবে বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলছে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ব্যাংকিং সেক্টর। সাম্প্রতিক ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চরম সীমায় উন্নীত হয়েছে। সামান্য কিছু মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে আটকে দিচ্ছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে না। বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেখানো হচ্ছে ৬৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এটি দৃশ্যমান খেলাপি ঋণ। এছাড়াও অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়াবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার মতো। এ বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের মধ্যে সামান্যই আদায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ খেলাপি ঋণ মাত্র সামান্য কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে আটকে আছে। এরা অত্যন্ত ক্ষমতাধর এবং সব সময় তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের আশপাশে অবস্থান করেন। ফলে কোনো সরকারই এদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। এ বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আটকে থাকার ফলে ব্যাংকিং সেক্টর ঠিকভাবে চলতে পারছে না। এছাড়া নতুন ঋণের সুদের হারও কমানো যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণ আটকে থাকার ফলে সামান্য কিছু মানুষ লাভবান হলেও দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা নতুন করে ঋণ নিতে চান তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ করে কিছু মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকে আর যাই বলা হোক না কেন, সঠিক উন্নয়ন বলা যাবে না। আসলে আমাদের উন্নয়ন আরও কিছুটা ধীর গতিতে হলেও অসুবিধা নেই; কিন্তু তা হতে হবে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ব্যক্তি বা পরিবার, এমনকি জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখলেও তাকে প্রকৃত উন্নয়ন বলা যাবে না। এ ধরনের উন্নয়ন অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক