চা উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে

বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল চা চলতি মৌসুমে উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০১৫ সালে দেশে চা উৎপাদনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ওই বছর দেশে ৬৭.৩৮ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়, যা ছিল ১৬১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সে রেকর্ড ভেঙে এবার চা উৎপাদন ৭০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলের প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের পরিচালক মঈন উদ্দীন বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এরপর আরও এক মাস সময় অতিবাহিত হলেও এর সম্পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি। চা বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ন্যাশনাল টি-কোম্পানি (এনটিসি), ডানকান ব্রাদার্স, ফিনলেসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানগুলোতেও এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। তাদের ধারণা, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উৎপাদনের সাথে গত এক মাসে সবগুলো বাগানের উৎপাদন যুক্ত করলে গত বছরের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে। দেশের ১৬২ বছরের বাণিজ্যিক চা উৎপাদনের সব রেকর্ড ভেঙে এবার দেশে চায়ের উৎপাদন ৭০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন চা শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। মৌসুম শেষে তাই চা উৎপাদনে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টির ধারণা ক্রমেই বাস্তব রূপ লাভ করছে। বছরের শেষ পর্যন্ত চা উৎপাদনের এ ধারা ঠিক থাকলে তা হবে গত ১৬২ বছরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড।

চা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৫ সালে দেশে চা উৎপাদন হয় ৬ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার কেজি। কিন্তু ২০০৬ সালে উৎপাদন ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার কেজিতে নেমে আসে। পরবর্তী বছর থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। ২০০৭ সালে ৫ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার কেজি, ২০০৮ সালে ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার, ২০০৯ সালে ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার, ২০১০ সালে ৬ কোটি ৪ লাখ, ২০১২ সালে ৬ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার, ২০১৩ সালে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। তবে ২০১৪ সালে উৎপাদন কিছুটা কমে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার কেজি হলেও ২০১৫ সালে তা আবার ঘুরে দাঁড়ায়। ২০১৫ সালে দেশের বাগানগুলোয় ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়, যা সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে।

এদিকে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে চা রফতানি হয়েছিল সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪০ লাখ কেজি। এরপর ধারাবাহিকভাবে রফতানি কমেছে। সর্বশেষ ২০১১ সালে রফতানি ২০ লাখ কেজির নিচে নেমে আসে। ২০১৪ সালে রফতানি হয় সর্বনিম্ন ১৩ লাখ কেজি।

দেশে ১৬৬টি মূল চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯০টি। এছাড়া হবিগঞ্জে ২৩, সিলেটে ২০, চট্টগ্রামে ২২, রাঙামাটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি করে ও পঞ্চগড়ে নয়টি চা বাগান রয়েছে। ছোট পরিসরের চা চাষসহ দেশে চা বাগানের মোট ভূমি ১ লাখ ১৬ হাজার ২১৯ হেক্টর। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমি চা চাষের আওতায় রয়েছে। তবে চা বাগানের নামে বন্দোবস্তকৃত ৩৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রাবার, বাঁশ, ধান, কাঁঠাল, লেবুসহ বিবিধ ফলের চাষসহ, পরিকল্পিত ও অপরিকল্পিত বনায়ন হয়েছে।

ন্যাশনাল টি-কোম্পানির ডিজিএম মো. শাহজাহান বলেন, আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশের কারণেই এ বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। অন্যান্য বছর সেপ্টেম্বরে সচরাচর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রেডস্পাইডারসহ চা গাছে রোগ ব্যাধী সৃষ্টি হয়। কিন্তু এ বছর সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টিপাত হওয়ায় চা বাগানে রোগের তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হলেও ইতিমধ্যে অক্টোবর মাসও ছাড়িয়ে গেছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন হবে। তাতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।