পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রাণী জাদুঘর

পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় প্রাণী জাদুঘরের পাশাপাশি একটি প্রজাপতি পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই এলাকার জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে সেতু প্রকল্পের দোগাছি সার্ভিস এরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রাণী জাদুঘরটি সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১৪ প্রজাতির প্রাণী সেখানে স্থান পেয়েছে। বিষধর পদ্ম গোখরা থেকে শুরু করে কুনো ব্যাঙ পর্যন্ত আছে এখানে। জাদুঘরটিকে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে এখানে পাঁচ হাজার প্রাণীর নমুনা রাখারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পর্যটক আকর্ষণে এই প্রাণী জাদুঘর ও প্রজাপতি পার্কটি অত্যন্ত গোছানো ও দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে প্রাণী জাদুঘর ও প্রজাপতি পার্ক স্থাপনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। এর আগে সেতু কর্তৃপক্ষ ও ঢাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মধ্যে এ সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর জরিপকাজ সম্পন্ন হয়। এর পর গত ছয়/সাত মাস আগে এখানে জাদুঘর গড়ে তোলা হয়। আগামী পাঁচ বছর এ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এখনই এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। সেতু হয়ে যাওয়ার পর কেনো একসময় এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই প্রাণী জাদুঘরটিতে একজন কিউরেটরসহ ২৬ জন কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন আছেন মাঠকর্মী এবং বাকিরা কনসালট্যান্ট, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, টেকনোলজিস্ট ও সাপোর্টিং স্টাফ। কনসালট্যান্টদের প্রত্যেকেই ঢাবির প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক।

জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম পর্যায়ে এতে প্রাণীদের সংগ্রহ বাড়ানো এবং তা সংরক্ষণের প্রতিই বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেতু এলাকা ও তার আশপাশের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগুলোর সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়াই এ জাদুঘরের লক্ষ্য। যমুনা সেতু গড়ে তোলার পর সেখানেও এ রকম একটি জাদুঘর করা হয়েছিল। তবে পদ্মা সেতুসংলগ্ন জাদুঘরটি আরও বড় এবং পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে।

জাদুঘরের কিউরেটর ড. আনন্দ কুমার দাস জানান, পদ্মা সেতু ও এ এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের তাগিদ থেকেই তাদের সংগ্রহের একটি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এবং সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি, কচ্ছপ, হরিণ, ইঁদুর, পোকামাকড়, প্রজাপতির পাশাপাশি এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার যন্ত্র, বিভিন্ন ধরনের নৌকাও জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর আশপাশে যেখানেই কোনো প্রাণী মারা যাচ্ছে, সেখান থেকে তা সংগ্রহ করা হচ্ছে।