এক জমিতে একাধিক ফসলে সফল কৃষক

শাকসবজি আর দানাদার খাদ্যশস্যসহ কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে কিশোরগঞ্জের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। হাওর-নদী বিধৌত এ জেলার মাটি যেমন উর্বর, এ জেলার কৃষকদের মধ্যেও রয়েছে সৃজনশীল কর্মঠ মানসিকতা। যে কারণে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে কিশোরগঞ্জ সবসময়ই একটি উদ্বৃত্ত জেলা। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের কৃষকদের রয়েছে উদ্ভাবনী দূরদর্শিতা।এক সময় কোন একটি জমি থেকে একটি ফসল আহরণ করে জমিটি পতিত ফেলে রাখা হতো। বেশ কিছুদিন বিরতি দিয়ে অন্য একটি ফসল ফলানোর জন্য জমি প্রস্তুতে নামতেন কৃষকরা। যে কারণে তখন একই জমিতে বছরে হয়ত দুটি ফসল ফলাতে পারতেন। কিন্তু এখন কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রসার ঘটছে। কি করে দুই ফসলি জমিতে চারটি ফসল ফলানো যায়, এসব নিয়েই এখন তাদের ভাবনা। যে কারণে একটি ফসল ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি ফসল বুনে ফেলেন। এমনকি জমিতে একটি ফসল শেষ হবার আগেই পরবর্তী ফসলের বীজ বুনে ফেলেন। এর ফলে পূর্ববর্তী ফসলটি একাদিকে শেষ হতে থাকে, অন্তিম পরিণতির দিকে এগুতে থাকে, আর এর পেছন পেছন পরবর্তী ফসলের গাছগুলো বেড়ে উঠতে থাকে। এভাবে শস্য বিন্যাস পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে একই জমিতে চার ফসল ফলিয়ে কৃষকরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, দেশে ফসল উৎপাদনও বেড়ে চলেছে। পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপাকুন্দিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, একটি মরিচ ক্ষেতের সমুদয় মরিচ আহরণের পর গাছগুলো জমিতেই দাঁড়িয়ে আছে। এই পুরনো মরিচ গাছের ওপরই ওঠানো হয়েছে লাউ গাছ। পুরো জমিটি যেন একটি মরিচ গাছের মাচা। মাচার লাউ গাছে অজস্র ফুল ধরেছে। আর মাচার নীচের দিকে ঝুলে আছে বহু লাউ। বর্ষাকালে সারাদেশেই কাঁচা মরিচের দাম থাকে আকাশ ছোঁয়া। কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরাও পুরো বর্ষাকালব্যাপী তাদের উঁচু জমিগুলোতে মরিচের আবাদ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছেন। আর এখন একই জমিতে পরিত্যক্ত মরিচ গাছের ওপর লাউ গাছ উঠিয়েছেন। এতে একদিকে যেমন বিরতিহীন ফসল আবাদের নজির সৃষ্টি হচ্ছে, পাশাপাশি কৃষকরা বাড়তি খরচ থেকেও নিজেদের বাঁচিয়ে রাখছেন। কারণ মরিচ গাছ না থাকলে জমিতে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাঁশের মাচা তৈরি করে তারপর লাউ গাছ ওঠাতে হতো। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের শস্য বিন্যাস পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলেই দুটি ফসলের মধ্যে আবাদের সময়গত ব্যবধান কমে আসছে, একই জমিতে বাড়তি ফসল ফলানো যাচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকও বাড়তি আয় করতে পারছেন। জেলার আরো অনেক এলাকাতেই এরকম উদ্ভাবনী পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।