দুই বছর পর দৃশ্যমান হবে ব্যাপক শিল্পায়ন

দুই বছর পর সারা দেশে ব্যাপক আকারে শিল্পায়ন দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। তার দাবি, দেশে পুরোদমে শিল্পায়ন শুরু হয়ে গেছে। দেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিদেশিরাও বিনিয়োগের বহর নিয়ে বাংলাদেশমুখী হয়েছেন। দেশে এখন ৪০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধীনে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি বেজার আওতায় এসেছে। আর শত অঞ্চল স্থাপনে বেজার টার্গেট ৭০ হাজার একর জমি। এই পরিমাণ জমি হলে আগামী ৫০ বছরে দেশে শিল্পায়নে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন সরকারের এই সচিব। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পবন চৌধুরী দেশের চলমান বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ৭৪টি স্থান নির্বাচন করেছি। এর মধ্যে ১১টি অঞ্চলের কাজ পুরোদমে চলছে। আবার এর চারটি অঞ্চলে ইতিমধ্যে শিল্প স্থাপন শুরু হয়েছে। এগুলো হলো—নারায়ণগঞ্জের আমান প্রাইভেট ইকোনমিক জোন, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আবদুল মোনেম প্রাইভেট ইকোনমিক জোন ও আকিজ ইকোনমিক জোন। দেশে বর্তমানে ২১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ চলছে জাানিয়ে সরকারের এই সচিব বলেন, ‘এখন ৩০টি অঞ্চলের কাজ চললেও বাকিগুলো নিয়ে সমীক্ষা করছে বেজা। সমীক্ষা শেষ হলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তবে আপাতদৃষ্টিতে আমাদের লক্ষ্য হলো সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এ জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান অঞ্চল উন্নয়ন কাজ করছে বা করবে, তাদের ১২ বছর মেয়াদি কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেসব প্রতিষ্ঠান শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিনিয়োগ করবে, তাদের ১০ বছর মেয়াদি কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হবে। এ সুবিধা প্রদানের বিষয়টিও আইনের অধীনে নিশ্চিত করা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বেজার কাছে আছে শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য বিশাল বিশাল জমি। আছে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত রাস্তাঘাট, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি, পয়োনিষ্কাশনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনার আলোকেই দেশজুড়ে তৈরি হচ্ছে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল। ফলে আগামী দিনের বাংলাদেশে কোনো দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীকে জমির জন্য বছরের পর বছর বসে থাকতে হবে না। দেশে ১০০ একর জমির নিচে কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল নেই জানিয়ে বেজার এই নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারি- বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) ছাড়াও বিদেশি ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ চলছে। আমাদের অধিকাংশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমিই ৫০০ একরের বেশি। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ৩০ হাজার একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে সব ধরনের কারখানা স্থাপনের সুযোগ থাকছে। এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পনগরী। এখানে কোনো কিছুরই অভাব থাকবে না। এখানে উৎপাদিত পণ্যের শতভাগ হবে রপ্তানিমুখী। এমনকি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারে বিক্রি হলেও সরকার রপ্তানি শুল্ক পাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো উন্মুক্ত থাকবে জানিয়ে পবন চৌধুরী বলেন, এশিয়ার তিন অর্থনৈতিক শক্তি চীন, ভারত ও জাপানের বিনিয়োগের বিশাল বহর বাংলাদেশে আসছে। ভারতের জন্য কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৪০০ একর ও বাগেরহাটের মংলায় আরও একটি অঞ্চল হচ্ছে। চীন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৭৪ একর জমি নিয়ে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (আনোয়ারা-২) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চায়না হারবার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এটি গড়ে তুলবে। জাপানের জন্য জাপানিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তুলতে গাজীপুরের শ্রীপুরে জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশভিত্তিক আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এগিয়ে আসছেন। প্রশাসনে দীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকারী এই আমলার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল সম্ভাবনা এনে দেবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বেজা। সরকারি খাতের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো তৈরি হলে এখানে বিনিয়োগের জন্য বেজার কাছে আবেদন করতে হবে। তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে শিল্পপ্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর বেসরকারি খাতের আঞ্চলিক কোম্পানিগুলোই শিল্প বরাদ্দে তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পপ্লটই বেশি দিন খালি রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান।