আরো সাড়ে পাঁচ হাজার লোক নিয়োগের সুযোগ

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই নিয়োগের সুযোগ রেখে সংশোধিত তৃতীয় প্রকল্প চলবে আরও চার বছর। চার কোটি মানুষকে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্ত করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে বলা হচ্ছে।

 

দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে এই প্রকল্প চালু করে। তখন গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি দেওয়া হতো প্রকল্পের অধীনে। ২০১২ সালে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। তখন প্রকল্পটি ক্ষুদ্র সঞ্চয়ী প্রকল্পে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির সদস্যরা নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে ২০০ টাকা এবং সমপরিমাণ টাকা সরকার থেকে ওই গ্রাহককে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীর মেয়াদ শেষ হয়েছে।

 

এখন পর্যন্ত ৬৪ জেলার ৫৮৫টি উপজেলার ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়ন ও ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডের এক কোটি ২১ লাখ ৫৮ হাজার ১০০টি পরিবারকে প্রকল্প সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

 

তৃতীয় সংশোধনী অনুযায়ী প্রকল্পে ২০২০ সাল নাগাদ উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার। এ জন্য প্রকল্পে বরাদ্দ হবে ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ওপরে।            পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. প্রশান্ত রায় জানান, ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ২ লাখ ৮৬ হাজার ১০০ পরিবারকে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে এখন পর্যন্ত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে নিয়োজিত ৭ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংকে স্থানান্তর হবে। আর নতুন প্রকল্পের জন্য সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০২০ সালে তৃতীয় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে এই জনবলও ব্যাংকে স্থানান্তর হবে।

 

একটি বাড়ি একটি প্রকল্প যাতে ব্যাংকের পাশাপাশি চলতে পারে সে জন্য পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক আইনেও কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী প্রকল্পের সমিতিকে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধন করতে হবে না। নিবন্ধিত সমিতির আইনগত মর্যাদা, ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন, বার্ষিক সাধারণ সভা, সম্পত্তি, তহবিল ব্যবস্থাপনা নিরীক্ষা, পরিদর্শন, তদন্ত, বিরোধ নিষ্পত্তি, বিলুপ্তি, বিশেষ অধিকার, সদস্যদের বিশেষ সুবিধা, দায়-দায়িত্ব, বকেয়া অর্থ আদায়, প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা প্রদান সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পে কর্মরত জনবল এবং গঠিত সমিতি ব্যাংকে স্থানান্তর হয়ে ব্যাংকের কর্তৃত্বাধীনে পরিচালিত হবে। ৩০ জুনের পর প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত সমিতি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এসব সমিতি আইন অনুযায়ী ব্যাংকে স্থানান্তর হবে। প্রকল্প ও ব্যাংকের কার্যক্রম সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

 

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে পল্লী উন্নয়ন ব্যাংকের ১০০টি উপজেলায় ব্যাংকটির ১০০টি শাখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন। অবশিষ্ট ৩৮৫টি উপজেলায় শাখা খেলার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯০টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নে ৪০ হাজার ৯৫০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।