ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে বিস্ময়কর সাফল্য

তৈরি পোশাক পণ্য ডেনিম বা জিন্স রপ্তানিতে বিস্ময়কর সাফল্য দেখছে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে এই পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে এক নম্বর হওয়ার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে অনেকটা। এখানেই শেষ নয়। চীন ও তুরস্কের ডেনিম বাজার দখলের হাতছানিতে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে সীমাহীন সম্ভাবনা দেখে উদ্যোক্তারা বলছেন, ‘ডেনিমের চাহিদার শেষ নেই। কিন্তু আমাদের চ্যালেঞ্জ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যু ৎ পাওয়া।’ জানা গেছে, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে ডেনিম পোশাক পণ্য। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। বিদেশি ক্রেতাদের বাড়ছে আগ্রহ। মোদ্দাকথা, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে ডেনিম। যদিও

বাংলাদেশে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডেনিম কাপড় এখনো উৎপাদিত হচ্ছে না। ফলে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, চীন থেকে একটা বড় অংশের ডেনিম পোশাক তৈরির কাপড় আমদানি করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ডেনিমঅ্যান্ডজিন্স ডটকমের তথ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ডেনিম পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয়। ২০১৫ সালে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬ কোটি মার্কিন ডলারের ৭ কোটি ৪৩ লাখ পিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৭৭ কোটি ডলারের ১৪ কোটি পিস ডেনিম পণ্য (জিনসের প্যান্ট, শার্ট, জ্যাকেট, ব্লেজার ইত্যাদি) রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩০টি ডেনিম পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আছে। তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে অনেক সম্ভাবনা আছে। বিশ্বে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও চীনের রয়েছে ৩৬ শতাংশ। তবে চীন ও তুরস্ক থেকে ডেনিমের বাজার বাংলাদেশে সরে আসার বিশাল সম্ভাবনা আছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগলে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডেনিম পোশাকের জন্য ওয়াশিং প্রয়োজন। এই ওয়াশিংয়ের জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যু ৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা। সরকার এটুকু করলেই আমরা খুশি।’ দেশের রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি ও এনভয় ডেনিমের কর্ণধার আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে সীমাহীন সম্ভাবনা। বিশ্ববাজারে ডেনিমের চাহিদার কোনো শেষ নেই। প্রবৃদ্ধিও ভালো। দেশে মাত্র ৩০টি ডেনিম পোশাক প্রস্তুতকারক কারখানা আছে। সম্মিলিতভাবে তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে। আর এককভাবে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে এ দেশের অবস্থান তৃতীয়। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে ডেনিমের। তবে সংকট হলো জ্বালানি। তাই সরকারের কাছে প্রত্যাশা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চিয়তা দেওয়া হোক।’

বাংলাদেশে ডেনিমের বাজার সম্পর্কিত কয়েকটি সমীক্ষার তথ্যমতে, ১৯৮৯ সালে প্রথম হংকং ও ফিলিপাইনের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ডেনিম পোশাক তৈরির দুটি কারখানা স্থাপন করে। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১তম ডেনিম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জানা গেছে, বর্তমান বিশ্বে ডেনিমের বাজার কমবেশি ৫৬ বিলিয়ন ডলারের। ২০২১ সাল নাগাদ এটি ৬৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। গড়ে কম মূল্যের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করে বলেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জোগান দেওয়া হয় ৩৫০ কোটি ডলারের ডেনিম পণ্য। বিশ্বে বাংলাদেশের ডেনিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সে হারে উৎপাদন হচ্ছে না বলে এ খাতে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডেনিম পোশাক উৎপাদনে উদ্যোক্তারা এখন বিনিয়োগ করছেন। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে ৭০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় সম্ভব। এই অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কম সুদে ঋণ, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।