শীর্ষেন্দুর স্বপ্নের সেতু নির্মাণে প্রক্রিয়া শুরু সেতু বিভাগের

প্রধানমন্ত্রীর বাঁধানো চিঠি হাতে শীর্ষেন্দুপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখে আলোচনায় উঠে আসা ঝালকাঠী জেলার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দুর স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেতু বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতু নির্মাণের জায়গাটি সরেজমিন পরিদর্শনে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। গঠিত এই কমিটি শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তাদের দেয়া প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সেতু কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, শীর্ষেন্দু বিশ্বাস পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার স্কুলে যাওয়ার পথে থাকা নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন। চিঠির জবাবে শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট নদীর উপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিটি লিখে পাঠিয়েছিল শীর্ষেন্দু আর প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা চিঠি তার স্কুলে পেঁৗছায় ২০ সেপ্টেম্বর যাতে দেখা যায় চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন ৮ সেপ্টেম্বর।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানায়, শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের প্রস্তাবিত সেতুর স্থান সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখন সরেজমিন স্থান পরিদর্শনের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা তাদের করা সমীক্ষার স্থানটি সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সুবিধা-অসুবিধাগুলো প্রতিবেদন আকারে সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। তাদের দেয়া প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া শুরু হবে।
শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের প্রস্তাবিত সেতু পরিদর্শনের জন্য গঠিত ৭ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) পরিচালককে (পিঅ্যান্ডডি)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাসেকের পরিচালক অর্থ ও হিসাব, বাসেকের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (প্রকিউরমেন্ট ও মনিটরিং), অতিরিক্ত পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও সেতু বিভাগ এবং উপ-পরিচালক পিঅ্যান্ডডি বাসেক।
উল্লেখ্য, শীর্ষেন্দু তার চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছিল, তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি এবং বাড়ি যেতে তাদের মির্জাগঞ্জে পায়রা নদী পার হতে হয়। কিন্তু নদীটিতে প্রচ- ঢেউ থাকে। ফলে অনেক সময় নৌকো বা ট্রলার ডুবে যায় এবং অনেকে বাবা-মা হারায়। চিঠিতে শীর্ষেন্দু জানায়, তার বাবা-মাকে ভালোবাসে এবং তাদের কোনোভাবেই সে হারাতে চায় না। এ জন্য নদীর ওপর একটি ব্রিজ বা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তিনি জানেন মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং নদীটির বিষয়ে শীর্ষেন্দুর এই সচেতনতা তাকে মুগ্ধ করেছে। শীর্ষেন্দুকে প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে লিখেন, ‘মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্ত করছি।’