মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকে মুখরিত সুন্দরবন

পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই দেশী-বিদেশী পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সুন্দরবন। পৃথিবীর বৃহত্তম এ ম্যানগ্রোভ বনের সব স্পটেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভিড় সামলাতে ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের সদস্যদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যটকদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য নদীতে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে।
দূরত্বের দিক দিয়ে মংলা বন্দর থেকে নদীপথে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে করমজল পর্যটনকেন্দ্র। সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পটের মধ্যে করমজলকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হরিণ ও বানরের বিচরণস্থল, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, কুমির ও কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র দেখতে সবসময়ই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। করমজল ছাড়াও হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী ও দুবলারচর সুন্দরবনের অন্যতম প্রসিদ্ধ পর্যটন স্পট। তবে সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাধারণত অক্টোবরের মধ্যভাগ থেকে পরবর্তী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে সুন্দরবনে পর্যটন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ায় চলতি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সুন্দরবনে নতুন করে পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। গত শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। দেশী-বিদেশী উভয় ধরনের পর্যটকই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সুন্দরবনে আসছেন।
এর মধ্যে করমজল ও হাড়বাড়িয়ায় আসা পর্যটকদের অধিকাংশই দেশী। তবে গহিন সুন্দরবন বলে খ্যাত হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী ও দুবলারচরে ভ্রমণকারী পর্যটকদের বড় অংশই বিদেশী। এসব পর্যটকের ভিড় সামলাতে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের সদস্যদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
করমজল পর্যটনকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি ছুটিতে করমজল পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আগমন অনেকাংশে বেড়েছে। এছাড়া বনের হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী, দুবলাচরসহ বিভিন্ন স্পটেও প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। বন বিভাগের কর্মীস্বল্পতায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় খুশি সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুরিস্ট বোট চালক-শ্রমিকরা। বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে পাস পারমিট নিয়ে তারা দর্শনার্থীদের সুন্দরবন দেখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার তারাই গাইডের মতো পর্যটকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। সুন্দরবনে বাঘ ও কুমিরের মতো বিপজ্জনক ও দুর্লভ প্রাণী দেখতে পর্যটকদের বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন তারা।
মংলার পর্যটন ব্যবসায়ী আবু হোসাইন সুমন বলেন, পর্যটন মৌসুম ও সরকারি ছুটি উপলক্ষে বর্তমানে পর্যটকদের আগমন খুব বেশি। আমরা চাই, সারা বছর ধরেই যেন এ অবস্থা বিরাজমান থাকে।
এদিকে সুন্দরবনে আসা পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা জোরদারে নদীতে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুত্ফর রহমান বলেন, পর্যটন মৌসুম উপলক্ষে সুন্দরবনে আগত দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নদীতে নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া দুটি নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিদেশীরা এলে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সঙ্গে পুলিশ দেয়া হচ্ছে। যারা আসছেন তারা ভালোভাবেই ভ্রমণ শেষে ফিরে যাচ্ছেন।