চৌগাছায় চাষিরা আগাম শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন

চৌগাছায় আগাম শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে স্থানীয় চাষিরা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি গুরুত্ব সহকারে শিম চাষে মনোনিবেশ করেছেন।

চৌগাছা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রুপভান ও ইফশা দুটি জাতের শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪’শ হেক্টর জমি। গত বছর শিম চাষে কৃষক লাভবান হওয়ায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ৪৭০ হেক্টর।

চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী, মান্দারতলা গ্রামের শুকুর আলী ও খড়িঞ্চা গ্রামের হায়দার আলী জানিয়েছেন, শিম শীতকালীন ফসল হলেও এলাকার কৃষক গত বৃষ্টিতে সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঝুঁকি নিয়ে আগাম শিম চাষ শুরু করেছে। এখানকার চাষিরা প্রথমে নিজেদের অভিজ্ঞতায় শিম চাষ শুরু করে। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের লোকজনের পরামর্শে শিম অত্যন্ত লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। প্রথমদিকে এক কেজি শিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমান ৫৫/৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার হিজলি গ্রামের শিম চাষি জুলফিকার আলী জানান, এক বিঘা জমি শিম চাষ করতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। মৌসুমে এক বিঘা জমিতে শিম উত্পাদন হয় ৪০ থেকে ৪৫ মণ। ভরা মৌসুমে গড় ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে খরচ বাদে এক বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা সম্ভব। বিশেষ করে উপজেলার হাজরাখানা, খড়িঞ্চা, পেটভরা, হিজলি, চাঁদপাড়া. বুন্দেলীতলা, বাদেখানপুর, বড়খানপুর, হোগলডাঙ্গা, সিংহঝুলি, জগদীশপুর, মির্জাপুর, ইছাপুর, কান্দি, আড়কান্দি, আন্দারকোঠা ও পাতিবিলা গ্রামে ব্যাপকভাবে শিম চাষ করছে চাষিরা।

চৌগাছা কৃষি অফিসার সহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, এখানকার উত্পাদিত শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলাসহ ঢাকা সরবরাহ হচ্ছে। এছাড়া শিম চাষ শেষে একই জমিতে আলুর চাষ করতে পারছে চাষিরা। এতে জমির ব্যবহার বাড়ছে এবং চাষিরা লাভবান হওয়ায় আগাম শিম চাষে ঝুঁকে পড়েছে।