নতুন মাত্রা ॥ উন্নয়নের মহাসড়কে ঢাকা-বেজিং সম্পর্ক

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে ২৭ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে আরও গতি পাবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ, বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে ও উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে। চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের সুবিধাও নিশ্চিত হবে। এদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ যে কৌশলগত সম্পর্ক তৈরির ঘোষণা দিয়েছে সেটা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অর্থে বোঝানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এছাড়া শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের মধ্যে দিয়ে এখন বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়তে চলেছে ঢাকা-বেজিং। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হতে চায় উন্নত দেশ। সে কারণে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব অবকাঠামোগত চুক্তি হয়েছে তার ফলে বিশেষ লাভবান হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতখাত বিকাশে বেশ কয়েকটি চুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও চীন এখন বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়তে চলেছে। ব্যবসাবাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে মানুষে মানুষে যোগাযোগের সম্পর্ককেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও বিদ্যুত খাত বিকাশে চীনের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলেই বাংলাদেশ দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আরও আকৃষ্ট করতে পারবে। সে কারণে এবারের চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয় ছিল এই দুটি খাত। বাংলাদেশ এই দুই খাতে সফলও হয়েছে। এই সফরের মধ্যে দিয়ে চারটি বিদ্যুত প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াটের দুটি বড় বিদ্যুত প্রকল্পও রয়েছে।

এদিকে ‘কৌশলতগত সম্পর্ক’ নিয়ে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে কৌশলগত সম্পর্কের কথা বলেছে, সেটা মূলত অর্থনৈতিক, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্পর্ক। এই সম্পর্ক সামরিক বা অন্য কোন সহযোগিতার সম্পর্ক নয়। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই অংশীদারিত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এখন অংশীদারিত্ব থেকে উন্নীত হয়ে কৌশলগত সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় উভয় দেশ।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। চীনে প্রতিবছর এক বিলিয়ন ডলারের নিচে রফতানি করে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চীনা বাজারে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধা চেয়ে আসছেন। চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ খুব সচেতনভাবেই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। সে সময় চীনা প্রেসিডেন্ট বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ আশা করছে, চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ্যে দিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশ কোটামুক্ত ও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিশ্চিত হবে।

চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময় চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার মনে করছে ’২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ’৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য রয়েছে তা অর্জনে এটা চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে আসবে। ২০১৩ সালে চীনের ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরপর থেকে এই উদ্যোগ ঘিরে চলছে দেশটির অর্থনৈতিক কূটনীতি। এই উদ্যোগ শুরুর পর থেকে বিদেশে অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে চীন।

সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট এবং একুশ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোডকে সংযুক্ত করে নেয়া এই উদ্যোগের আওতায় এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার ৩০ দেশকে একটি বাণিজ্য ও অবকাঠামো নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত করতে চাইছে চীন। যার মধ্য দিয়ে কার্যত প্রাচীন সিল্ক রোড রুট ফিরে পাওয়া যাবে। উদ্যোগের মূলে অন্যান্য দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার বা বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও কাজ করছে বেজিং। এই উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুত ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সমুদ্র খাত সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা এবং সংস্কৃতি ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি নিয়ে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে তার আওতায় ২৮ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থ সহায়তা পেতে চলেছে বাংলাদেশ। এর বাইরেও আট কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদানের জন্য অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি, দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পের জন্য ২৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি এবং ছয়টি জাহাজ সম্পর্কিত মোট চারটি ঋণচুক্তি।

মেরিটাইম কো-অপারেশন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই, আইসিটিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক, সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও তথ্য আদান-প্রদান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, এবং বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ ও দাশেরকান্দিতে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে দুটি কাঠামো চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তবে ঋণ চুক্তির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ জানতে কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। চীন-বাংলাদেশের সর্বাত্মক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার। অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতেও সম্মত হয়েছেন তারা। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সহযোগিতার মতৈক্য হয়েছে। এছাড়া চীন-বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে মতৈক্য হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে সফর বিনিময়ের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন একযোগে প্রথমবারের মতো সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশ জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির মধ্যে থাকায় সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ বাংলাদেশের পদক্ষেপ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে চীন। এ ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশীদের প্রশিক্ষণে সহযোগিতায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছে চীন। সন্ত্রাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

ঢাকা সফরের সময় ছয়টি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হলো-চট্টগ্রামের কর্ণফুলী মাল্টিলেন টানেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার, ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, পটুয়াখালীর পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র। এসব প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

দুই দেশের জনগণের কল্যাণে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে চীন ও বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বি^ত করতেও কাজ করবে দুই দেশ। অভিন্ন আকাক্সক্ষা এবং দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ওপর ভিত্তি করে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতায় উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীন ৫ মূলনীতির প্রতি আবারও অবিচল থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। এসব হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, ভাল প্রতিবেশীসুলভ মানসিকতা, পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

‘এক চীন নীতি’ এবং দেশটির মৌলিক জাতীয় স্বার্থ, এর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষায় চীনের পদক্ষেপের প্রতি ঢাকার সমর্থনের প্রশংসা করেছে বেজিং। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমর্থন দেয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। দু’পক্ষই উচ্চ পর্যায়ে মতবিনিময় বাড়ানো এবং বহুপক্ষীয় ফোরামের সাইডলাইনে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সমতা ও উভয় পক্ষের স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতে বিদ্যুত, আইসিটি, নদী ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২২ প্রকল্পে সহযোগিতার প্রস্তাবের বিষয়ে বিবেচনা ও চীনা উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে রাজি হয়েছে চীন। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি হওয়ায় দু’পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও এর উন্নয়নে একযোগে কাজ করতেও সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। ড্রেজিং ও ভূমি পুনরুদ্ধারসহ নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একমত হন তারা। এছাড়া চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে উভয়পক্ষ। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক জোন ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগে দক্ষ চীনা উদ্যোক্তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা দেবে চীন। চীনা উদ্যোক্তারা যাতে বাংলাদেশে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ঢাকা। সমুদ্র সম্পর্কিত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক ক্ষেত্র রয়েছে বলে দুই পক্ষই মনে করে। এ লক্ষ্যে সমুদ্র সম্পর্কিত বিষয়ে সহযোগিতার কৌশল নির্ধারণে সংলাপের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা এবং শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয়সহ নানা ক্ষেত্রের বাংলাদেশী পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং পেশাজীবীরা যাতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন সে বিষয়ে সহযোগিতা দিতে রাজি হয়েছে চীন। বাংলাদেশের জন্য চীনাভাষী ৫০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এক শ’ বাংলাদেশী সংস্কৃতি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেবে বেজিং। এছাড়া ২০১৬ থেকে ’২০ সালের মধ্যে ৬শ’ বাংলাদেশী ছাত্রকে তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুদিনের জন্য ঢাকা সফরে আসেন। শনিবার সকালে তিনি ভারতের গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ঢাকা সফরের সময় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ঢাকা সফরকালে দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে ২৭ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।