ব্রিটিশ কাউন্সিলের জরিপে বাংলাদেশ সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণরা

সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ হচ্ছে একটি ব্যবসা। এতে মালিক ও অংশীদারদের মুনাফার চেয়ে সামাজিক কর্মকা-ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ও গতিশীল খাত। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণরা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের দুইটি জরিপে এ তথ্য জানানো হয়। রোববার দুপুরে রাজধানীর বারিধারার হোটেল অ্যাসকট প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি ব্রিটিশ কাউন্সিল ‘দ্য স্টেট অব সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ পলিসি ল্যান্ডস্ক্যাপ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুইটি জরিপ পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছে ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আর সহায়তা করেছে বেটারস্টোরিজ, ইউএন লিমিটেড ও সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ইউকে। দেশে সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ওপর এটিই প্রথম কোনো গবেষণা।
এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ খাতে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত উন্নয়ন ঘটছে। বর্তমানে এ খাতে বার্ষিক গড় আয় ২ দশমিক ১ মিলিয়ন টাকা এবং আগামী অর্থবছরে এ খাত এক-তৃতীয়ংশ বাড়বে। এ খাত বেশিরভাগই কম সময় প্রতিষ্ঠিত, আর এগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণরা। মোট ১৪৯টি প্রতিষ্ঠান এ জরিপে অংশ নেয়। দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ পরিচালিত হচ্ছে। এতে নারী নেতৃত্ব ৬ শতাংশ, যা গতানুগতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি। দেশে গতানুগতিক ব্যবসায় নারী নেতৃত্ব ৫ শতাংশ। এখানে নারীরা ফুলটাইম কাজে ৪১ শতাংশ সক্ষম, যা গতানুগতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি। তবে এ খাতের বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপপরিচালক স্কার্ট ওবে বলেন, সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজে বাংলাদেশ বিশ্বে পথিকৃৎ দেশ হিসেবে বিবেচিত এবং আমার বিশ্বাস, এ জরিপ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশের তুলনায় রাজধানীতে স্বল্প পরিসরে কাজ হয়। তবে সারা দেশে এ খাতের কাজ ব্যাপক পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। জরিপের প্রতিবেদনের ফল সম্পর্কে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ পার্টনারশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ট্রিস্টান এইক বলেন, বাংলাদেশে সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ খাতে পরিচালনা, সুবিধাভোগী, বিনিয়োগ, কর্মী ও এ খাতের প্রভাব নিয়ে বহুমাত্রিক এবং তথ্যবহুল জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও ঘানায় ঠিক একইভাবে এ খাত নিয়ে জরিপ চালানো হয়েছে। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সরকারের এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর ডিজি মোঃ আসাদুল ইসলাম, ডিনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. অনন্যা রায়হান, বেটারস্টোরিজ, ইউএন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিনহাজ আনোয়ার প্রমুখ। এ সময় বক্তারা আশা করেন, সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের উন্নয়নে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক, সামাজিক বিনিয়োগকারী, এজেন্সিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।