বীরগঞ্জে এবার চা চাষে সাফল্য

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কমলা, মাল্টা ও ড্রাগন ফলের পর পরীক্ষামূলক চা চাষের সাফল্যে উত্তরের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলার ঝলঝলি গ্রামের নজরুল ইসলাম এক একর জমিতে চা চাষ শুরু করেছেন। তার সাফল্য দেখে একই উপজেলার পাল্টাপুর আশ্রয়ণ এলাকার কৃষক আজাদ আলী চা চাষ শুরু করেছেন। তিনি এক একর জমিতে চাষ গাছের চারা রোপণ করেছেন। এখন তার চা গাছের বয়স প্রায় আটমাস। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চা বাগান উদ্যোক্তা পলাশবাড়ী ঝলঝলি বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি পঞ্চগড়ের সাকোয়ার চা চারা বিক্রেতা শরিফের পরামর্শে গত বছরের আগস্টে চা চাষ শুরু করেন। এরই মধ্যে চারবার চা পাতা সংগ্রহ করে পঞ্চগড় নর্থ বেঙ্গল চা কারখানায় বিক্রি করেছেন। গাছের বয়স বাড়বে সঙ্গে সঙ্গে চা পাতা সংগ্রহের পরিমাণও বাড়বে। প্রতি মাসেই চা পাতা বিক্রি করা যাবে।
চা চারা রোপণে তার ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ গত বছরের আগস্টে চারা রোপণ করে এরই মধ্যে তিনি চার বার চা পাতা তুলে ২৫/২৬ টাকা কেজি দরে ২৪ হাজার টাকার চা পাতা বিক্রি করেছেন। গাছের বয়স দুইবছর হওয়ার পর প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার চা পাতা বিক্রি করা যাবে। বছরে দুইবার সার ব্যবহার করলেই চলে। তিনি জৈব সার বেশি ব্যবহার করেন। পরিচর্যা ছাড়া তেমন খরচ নেই বললেই চলে। চা গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে এজন্য জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচ- রোদে ছায়া দিতে চা গাছের মাঝে মাঝে নিম গাছ লাগিয়েছেন। খরার সময় পাইপের সাহায্যে গাছে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় এলাকায় চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলায় কমলা, মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের সাফল্যের পর চা চাষে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সহযোগিতা দেয়া হয়। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযুক্ত থাকায় চা উৎপাদন সম্ভব। চা গাছে পরিমিত পানি সেচ ও পরিচর্যা করতে হবে।