আমতলীতে পান চাষে স্বাবলম্বী পারভীন

পানের বরজে পানের পরিচর্যা করছিলেন পারভীন বেগম। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলেই পানের বরজের যতœ নেন। এর আগে তাদের সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরোতো। স্বামী, তিন সন্তানকে নিয়ে যেন অথই সাগরে পড়েন কিন্তু মনোবল হারান না তিনি। সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে নিজেরা কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ঠিক করেন পানের বরজ করবেন। কিন্তু পানের বরজ করতে টাকা লাগবে। এই টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবেন? ঠিক এ সময় তাদের দিকে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় মুসলিম এইড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

এ প্রসঙ্গে বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের পারভীন বেগম বলেন, মুসলিম এইডের সদস্য হলাম। প্রথমে এই সংস্থা থেকে ১৫ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে পানের চাষ শুরু করি। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে পানের বরজে কাজ করি। শুরু হল আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের এক কঠিন লড়াই। পরিশ্রম বৃথা যায়নি। প্রথম অবস্থায় পান বিক্রি করে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় করি। এভাবেই সংসারের কাজ, সন্তানদের দেখাশুনা করে পানের বরজে পান গাছের পরিচর্যা করি। যাতে পানের ফলন ভালো হয়। ধীরে ধীরে সংসারের দৈন্যদশা কাটতে থাকে। পানের বরজের আয়তনও বাড়তে থাকে। মুসলিম এইড থেকে ছয়বারে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ১০ টাকা সার্ভিস চার্জে ঋণ নেই। বেশি জায়গা জুড়ে চাষ করায় এতে লাভও হয়। একটু একটু করে ঘুরতে থাকে ভাগ্যের চাকা। এখন প্রতি সপ্তাহে পানের বরজ থেকে আয় হয় ৫ হাজার টাকা।

পারভীন বেগমের মতে, প্রত্যেক মানুষই পারে তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে। এর প্রমাণ আমি নিজেই। এজন্য দরকার সৎ চিন্তা, মনের জোর এবং পরিশ্রম। আমি শূন্য থেকে শুরু করেছি। বড় ছেলে মামুন আমার সঙ্গে পানের বরজে সহযোগিতা করে। আর মেজ ছেলে এনামূল হক মিরাজ আমতলী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে আর মেয়ে তানজিলা ঘটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারের যাবতীয় অভাব পূরণ করে এখন আমরা সুখেই আছি।