অবশেষে জাপানের উচ্চ পর্যায়ের টেকনিশিয়ান দল মাওয়ায়

অবশেষে জাপানের উচ্চ পর্যায়ের টেকনিশিয়ান মাওয়ায় পৌঁছেছে। তিন সদস্যের এই দল বুধবার থেকে প্রকল্প এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এর আগে তারা কঠোর নিরাপত্তায় বুধবার মাওয়ায় এসে পৌঁছে। প্রফেশনাল সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার সোতমো কানামরির নেতৃত্বে এই দলটিতে আরও রয়েছেন কনিয়া ওবা এবং মাসাকাজু ইয়ামাউচু। চারদিনের সফরে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির তলদেশের পাইলের অবস্থান নিশ্চিত করছেন। জাপানী ইকো সাউন্ডার যন্ত্রটি প্রকল্প এলাকায় আগে থেকেই আনা হয়েছিল। কিন্তু এটি যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতেই দলটি এসেছে। তারা হাতে কলমে চাইনিজ প্রকৌশলীদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। পদ্মা সেতুর কাজের মান নিশ্চিত করার জন্য এই ইকো সাউন্ডার যথাযথভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির তলদেশে পাইলের অবস্থান নিশ্চিত করা অতি জরুরী। মাটির তলদেশে পাইলের অবস্থান সোজাসুজি না হলে ঝুঁকি থেকে যেত। তাই এই বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞ এই দল বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যথাযথ নিয়ম শেখাচ্ছে।

জাপানী টেকনিশিয়ান দলটিকে এর আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু গুলশান ট্র্যাজেডির ঘটনার কারণে তাঁরা কোনভাবেই আসতে রাজি হচ্ছিল না। পরে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি এবং দেশে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের খবরসহ সার্বিক অবস্থা বোঝানোর পর তাদের রাজি করানো হয়। তাদের বুধবার বিমানবন্দর থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়ে আসা হয়। পোস্তগোলা এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর স্কট দিয়ে মাওয়ায় আনা হয়। মাওয়ার নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ শনিবার তাদের জাপানে ফেরার কথা রয়েছে। সেই অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ভয়াডক্টের মূল পাইল এবং এ্যাপার্টমেন্টের মূল পাইলের কাজ সব শুরু হলেও এই দলটির জন্য বিলম্ব করা হচ্ছিল। মাটির তলদেশে পাইলিংয়ের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ার কারণে এই পাইলিংয়ের কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে এই দলটি আসার পর এখন পুরোদমে এসব পাইলিং চলছে। এতে মূল সেতুর কাজে অগ্রগতি হচ্ছে। এ পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কাছাকাছি।

এদিকে জামার্নি থেকে দুই হাজার কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারবাহী মাদার ভেসেল ন্যাদারল্যান্ড থেকে সমুদ্র পথে রওনা হয়েছে। এটি লৌহিত সাগর অতিক্রম করে ভারত মহাসগরে অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা অতিক্রম করছে। আগামী ১৫ অক্টোবর এটি মংলা পোর্টে পৌঁছার কথা রয়েছে। পরে ঠিকাদারের লাইটার ভেসেলে করে সরাসরি নিয়ে আসা হবে মাওয়ায়। এই হ্যামার আসার পর পদ্মায় মূল পাইলিংয়ে বিশেষ গতি সঞ্চার হবে। বর্তমানে ২ হাজার ৪শ’ কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামার দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে একটি হ্যামার দিয়ে কাজের গতি বাড়ানো যাচ্ছিল না। তাই এই হ্যামার আনা হচ্ছে। বর্তমানে পদ্মায় ৩৭টি পাইল স্থাপিত হয়েছে।

এদিকে সুপারস্ট্রাকচারের কাজও এগিয়ে চলছে। দুটি স্প্যান পরিমাণ সুপারস্ট্রাকচার এখন মাওয়ার কুমারভোগের ওয়ার্কসপে জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। এই দুটি স্প্যান পরিমাণ সুপারস্ট্রাকচার আগামী ডিসেম্বরে পাইলের ওপরে স্থাপন করা হবে। তাই জাজিরা প্রান্তে ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে। আশপাশের পিলারের কাজেও অগ্রগতি রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে দুটি স্প্যান পরিমাণ ৩শ’ মিটার দীর্ঘ সুপারস্ট্রাকচার এসেছে। বাকি আরও ২৩৯ স্প্যান পরিমাণ সুপারস্ট্রাকচার তৈরি হচ্ছে চীনে।

এদিকে এক হাজান টন ধারণক্ষমতার ভাসমান ক্রেন চীন থেকে আজ শনিবার (৮ অক্টোবর) সন্দীপে পৌঁছার কথা রয়েছে। পরে চট্টগ্রাম পোর্টের দুটি টাককেট টেনে নিয়ে আসবে চাঁদপুর। এখান থেকে নিয়োজিত ঠিকাদারের ব্যবস্থাপনায় আসবে মাওয়ায়। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশরী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জনকণ্ঠকে জানান, আশা করা যাচ্ছে সোমবার (১০ অক্টোবর) এই উচ্চ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেনটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছবে। নতুন হ্যামারটি পরিচালনার জন্য ক্রেনটি চীন থেকে আনা হয়েছে।

বর্ষার পানি নেমে যেতে থাকায় নদী শাসনের কাজেও এসেছে নতুন গতি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী শাসনের মাওয়া প্রান্তে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এদিকে সেতু ও পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখতে প্রায়ই আকস্মিত ভিজিট করছেন।

Views: 12