জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক নেত্রী

দেশের গণমানুষের মুক্তির মূর্ত প্রতীক আওয়ামী লীগ প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এদেশের খেটে খাওয়া গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন প্রায় তিন যুগ ধরে। তার আন্দোলন সংগ্রাম ও সুশাসনের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে তৃতীয় বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে সরকার গঠন করেন। এটা তার দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দায়িত্ব লাভ করা। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং সরকার গঠন করে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেন।গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জননেত্রী শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পিতা-মাতার প্রথম সন্তান তিনি। তার মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছিলেন এক মহীয়সী নারী।শেখ হাসিনা গ্রামের স্কুলেই লেখাপড়া শুরু করেন। এরপর তাদের পরিবার ঢাকায় আসার পর তিনি ঢাকার টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি আজিমপুরে গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে এই স্কুল থেকেই তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপরে তিনি ভর্তি হন ইডেন গার্লস কলেজে। উক্ত কলেজ থেকে তিনি ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।একটি রাজনৈতিক পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান হিসেবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জ্ঞান অচিরেই অর্জিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের স্বাধীনতার জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি জেলে কাটিয়েছেন। শেখ হাসিনা ছোটকাল থেকেই তার বাবার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং স্বাধীনতার আন্দোলনের বীজ তার মনে অঙ্কুরিত হয়েছিল অল্প বয়সেই। এই রাজনৈতিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেখ হাসিনার হয়েছিল স্কুল জীবন থেকেই। তিনি ছোট হলেও চেষ্টা করতেন নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালন করতে। এভাবে তিনি এদেশের সংগ্রামের সঙ্গে, পিতার কার্যক্রমের সঙ্গে আস্তে আস্তে যুক্ত হন। তিনি পিতার মুখে আলোচনা শুনে শুনে নিজেকে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রতী হন।শেখ হাসিনা স্কুল ও কলেজ জীবনে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ইডেন গার্লস কলেজে ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দি্বতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ছাত্রলীগ হতে শেখ হাসিনা প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি কলেজ ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। কলেজের সবাই তার উদার মনোভাব ও রাজনৈতিক জ্ঞানের পরিধির জন্য তার ওপর ছিল খুবই আস্থাশীল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই উত্তাল দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কার্যক্রম ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে অন্য রাজনীতিবিদের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য সদস্যরাও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। এ সময়ে শেখ হাসিনা তার বাবার প্রতিটি ক্রিয়াকলাপের ছিলেন অংশীদার। বুদ্ধি, পরামর্শ, সময়োপযোগী সহযোগিতা দিয়ে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পিতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডিস্থ বাড়িতে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শহীদ হন। এ সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা (তার ছোট বোন) পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিনি মুছড়ে পড়েন। তার আপনজন সবাইকে পৃথিবী থেকে নৃশংসভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ শোক তার ব্যক্তিগত শোক নয়, এটা সারা জাতির জন্যও কলঙ্কজনক অধ্যায়। অসম্ভব ধৈর্যবলে অচিরেই তিনি এ শোক কাটিয়ে ওঠেন।বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আওয়ামী লীগের এক ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারির দলীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। এ বছরই ১৭ মে তিনি প্রবাস থেকে দেশে আসেন। এদিন ঢাকায় তাকে লাখো লাখো জনতা সংবর্ধনা জানায়। দেশে এসেই তিনি অগণতান্ত্রিক সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষাণলে পড়েন। তাকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। তাকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ২০ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়।জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। উক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ড. কামাল হোসনে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পড়ে। নির্বাচনের কিছুদিন পরই ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারি করে জেনারেল এরশাদ। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এরশাদ সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় আসতে পারেননি দেশি-বিদেশি চক্রান্তে। তবু তিনি দেশের সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ পদ্ধতির প্রবর্তনে তিনি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। এ ক্ষেত্রে তার অবদান অসীম।১৯৯২ সাল থেকেই খালেদা জিয়া সরকারের সাম্প্রদায়িক কর্মকা- ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। এর ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলগুলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে তার নেতৃত্বে। আন্দোলনে খালেদা জিয়া সরকারের পতন হয় এবং ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ২৩ জুন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য, ফারাক্কা সমস্যার সমাধান এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন। এছাড়া সন্ত্রাস দমন, দারিদ্র্যদূরীকরণ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে হাতে দেন।২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার দল আওয়ামী লীগ পরাজয় বরণ করে। শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার নির্বাচনে জটিলতা সৃষ্টি করলে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ঐ সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।২০০৯-২০১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাপিছু আয় ১,৩১৪ ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-‘১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস,২৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরু, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩, ২৬০ মেগাওয়াট উন্নীতকরণ ইত্যাদি।২০১৪ সালের পর এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে ১০ টাকা কেজি মূল্যে ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেয়ার ব্যবস্থা ইত্যাদি।শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবংর্ অাথ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিপ্লোমা প্রদান করে।সামাজিক কর্মকা-, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা সম্মানিত করেছে।পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাকে “হুপে-বোয়ানি” (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রানডলপ ম্যাকন উইমেন্স কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাসূচক “চবধৎষ ঝ. ইঁপশ্থ ৯৯” পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ (CERES) মেডেল প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে “মাদার তেরেসা” পদক প্রদান করে। ১৯৯৮ সাল আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন তাকে Paul Haris ফেলোশিপ প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে তাকে নেতাজী সূভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক প্রদান করে। আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে তিনি “Medal of Distinction” পদক ও ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে “Head of state” পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ও ডাইভার্সিটি পুরস্কার এবং দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘শান্তিরবৃক্ষ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপেমেন্ট এঙ্পো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে।জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডরশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়া ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য International Telecommunication Union (ITU) শেখ হাসিনাকে ICT in Sustainable Development Award-2015 প্রদান করে।জননেত্রী শেখ হাসিনা যেমন সফল আন্দোলন সংগ্রাম ও দেশ শাসনে তেমনি সফল লেখক হিসেবে। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে; ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমর স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো’, ‘সুবজ মাঠ পেরিয়ে’ (Miles to Go, The Quest for Vision-2011 two volumes)।শেখ হাসিনা গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।শেখ হাসিনা একজন আদর্শ বাঙালি মা। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কন্যা এবং আবহমান কাল ধরে চলে আসা বাঙালি নারীর আদর্শ প্রতিমূর্তি। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি শত্রু মিত্র ভুলে খালেদা জিয়াকে তার ছেলের মৃত্যুর জন্য সমবেদনা জানাতে গেছেন। প্রতিপক্ষের দুঃখে তিনি কষ্ট অনুভব করেছেন। কতটা উদারতা থাকলে এটা সম্ভব? বাঙালি এক নারী পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়ে দুঃসহ স্মৃতির রক্তক্ষরণকে জয় করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন; লড়াই করেছেন শুধু গণতন্ত্রের জন্যই নয়,সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেই তার সেই সংগ্রাম এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে কীভাবে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রেখেছেন সবই বিস্ময়কর। বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে তিনি জনগণের কাছে আজ নন্দিত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা।