‘খুলনা শিপইয়ার্ড জাহাজ রফতানি করবে ’

খুলনা শিপইয়ার্ড দেশের চাহিদা পূরণ করে ভবিষ্যতে বিদেশেও জাহাজ রফতানি করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ঐহিত্যবাহী নাম খুলনা শিপইয়ার্ড। প্রতিষ্ঠানটি স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই ৫টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

আজ রোববার (১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড কোস্টগার্ডের তিনটি ইনশোর পেট্রোল ভেসেলের এক্লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী শিপইয়ার্ডের এই অগ্রযাত্রা যেন কোনো কুচক্রী মহল ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাহাজ ৩টি নির্মাণ সম্পন্ন হলে কোস্টগার্ড সমুদ্র উপকূলে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এভাবে উপকূলে চোরাচালান বন্ধ এবং দস্যুতা দমন করা সম্ভব হবে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় আরও অধিক জাহাজ প্রয়োজন। খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর কে কামরুল হাসান জানান, খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য তিনটি স্তরে ইনশোর পেট্রোল ভেসেল (আইভিপি) নির্মাণ করছে। প্রায় ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে সর্ববৃহৎ আকারের নবনির্মাণ এগুলো। নির্মাণ কাজে কারিগরি সহায়তা করছে চায়নার সিএসওসি কোম্পানি।

নির্মাণাধীন এসব জাহাজের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৫০ দশমিক ৪০ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৫০ মিটার, গভীরতা ৪ দশমিক ১০ মিটার, ড্রাফট ১ দশমিক ৯৪ মিটার, ডিসপ্লেমেন্ট ৩শ’ মেট্রিক টন এবং সর্বোচ্চ গতি ২৩ নটিক্যাল মাইল। জাহাজে ২টি ৩০ মিমি সেমি অটোমেটিক গান, ২টি ১৪ দশমিক ৫ মিমি গান এবং ২টি এলএমজি সমরাস্ত্র থাকবে। নির্মাণাধীন এসব জাহাজে ৪৬ জনবল, ১৫শ নটিক্যাল মাইল এনডিউরেন্স, ২টি নেভিগেশন রাডার, ২টি কমিউনিকেশন এইচএফ, ১টি কমিউনিকেশন ভিএইচএফ এবং ১টি নাভটেক্স রিসিভার রাখা হবে।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন এই জাহাজ দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া, চোরাচালানবিরোধী অভিযান, দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগপরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের পথিকৃৎ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর আগে যাত্রা শুরু করে। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর এটি নৌবাহিনীকে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর লভ্যাংশ ৬৪ দশমিক ৬২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এ পর্যন্ত খুলনা শিপইয়ার্ড মোট ৭১৯টি জাহাজ নির্মাণ করেছে। একইসঙ্গে ২ হাজার ২১৯টি জাহাজ মেরামত করেছে। খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যেই দেশের মাটিতে প্রথম ৫টি যুদ্ধ জাহাজ-পেট্রোল ক্রাফট তৈরি করে নৌবাহিনীকে হস্তান্তর করে। বর্তমানে এখানে সর্ববৃহৎ আরও ২টি লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণ করছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান মিজান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাস, নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এসএএমএ আবেদীন, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এএমএম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক-উজ-জামান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর কে কামরুল হাসান। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।