ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেলগাছ বাংলাদেশে

নারিকেল ও ডাবের চাহিদা পূরণে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেলগাছ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় লাগানো শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ জাতের সোয়া লাখ চারা রোপণ করেছে। এ ছাড়া এ চারা রোপণ করা হয়েছে পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ের পাদদেশে। চলতি বছরের মার্চে ভিয়েতনাম থেকে আনা এ খাটো জাতের নারিকেলগাছের চারা রোপণ শুরু হয়। মোট ৪০ কোটি এ খাটো জাতের নারিকেলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিয়েতনামের আদলে নারিকেলভিত্তিক পরিবার বা সমাজ তৈরি করতে চায় সরকার। এ জাতের ডাব ও নারিকেল বিক্রি করে ভিয়েতনামে অনেক পরিবার বেঁচে আছে। বাংলাদেশেও, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই ধরনের ছোট জাতের নারিকেলগাছ আমদানি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নারিকেলগাছের পাতা, ফুল, ফল, কা-, শিকড় সব কিছুই বিভিন্ন ছোট-বড় শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নানারকম মুখরোচক খাবার তৈরিতেও নারিকেল ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া সুস্বাদু পানীয় ও রোগীর পথ্য হিসেবে ডাব ব্যবহার হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ নারিকেলগাছ লম্বা জাতের। ফলন তুলনামূলক কম। এ গাছের ফলপ্রাপ্তির সংখ্যা বছরে গড়ে ৩০-৪০টি। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় আগে থেকেই লম্বা জাতের নারিকেল চাষের প্রচলন আছে। তবে এ গাছ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ঝড়ো হাওয়া সহ্য করতে পারে না। এ ছাড়া গাছ লাগানোর পর ফল দিতে অনেক সময় লাগে। তবে ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেলগাছ অল্প সময়ে ফল দিতে শুরু করে। ফলদান ক্ষমতা অনেক বেশি। এ গাছ খাটো হওয়ায় সাধারণত ঝড়ে ভেঙে পড়ে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, বাংলাদেশে অতিমাত্রায় ডাব বিক্রি হওয়ায় নারিকেলগাছের ফল বা (বীজ) প্রাপ্তির সংখ্যা দিন-দিন কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম থেকে ছোট জাতের নারিকেলের চারা আমদানি করা হয়েছে। এ জাতের ডাব খুবই সুস্বাদু। এ ছাড়া ফলনও লম্বা জাতের গাছের চেয়ে অনেক বেশি। এ গাছে বছরে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি ফল ধরে। গাছ রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ফুল ফোটা শুরু হয়। দেশীয় লম্বা জাতের নারিকেলগাছে ফুল আসতে ৭-৮ বছর লেগে যায়। ভিয়েতনামের খাটো জাতের ডাবে পানির পরিমাণও অনেক বেশি। সব ধরনের মাটিতেই এ গাছ লাগানো সম্ভব। তা ছাড়া এ জাতের গাছ লবণাক্ততা অনেক বেশি সহ্য করতে পারে। গাছ খাটো হওয়ায় পরিচর্যাও সহজ।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ খাটো জাতের নারিকেলগাছ লাগানো শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান, রাঙামাটি জেলার পাহাড়ি এলাকায়ও এ জাতের গাছ লাগানো হয়েছে। রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ে এমনভাবে এ চারা রোপণ করা হয়েছে, ওপর থেকে দেখলে মনে হবে পাহাড় যেনো তার পায়ে নূপুর পরে আছে।

ভিয়েতনাম থেকে দুই ধরনের খাটো জাতের নারিকেল চারা এনেছে সরকার। এর একটি হল সিয়াম গ্রিন কোকোনাট। এটি ডাব হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই জনপ্রিয়। এ জাতের ডাবে ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পানীয় পাওয়া যায়। তবে ফলের আকার কিছুটা ছোট। আরেকটি জাতের নাম সিয়াম ব্লু কোকোনাট। এটিও অতি জনপ্রিয় জাত। এটা উদ্ভাবন করা হয় ২০০৫ সালে। ভিয়েতনামে এ চারা কৃষকের খুবই পছন্দ। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই দুই জাতের চারার দাম রাখছে প্রতিটি ৫০০ টাকা করে। তবে দেশি জাতের চারার দাম এর চেয়ে অনেক কম। কৃষকরা বলছেন, সরকারের উচিত এই চারার দাম আরও কম রাখা।