ব্যাঙ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা

বাংলাদেশে ব্যাঙ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশের সমুদ্র উপকূল ও মিঠা পানিতে চাষের উপযোগী প্রজাতি আবিষ্কার হয়েছে। এগুলো বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব, তেমনি এর মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশে ব্যাঙের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাঙের হাড় ও চামড়া দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ও শোপিস তৈরি হচ্ছে।

জাপানে কর্মরত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী ড. মাহমুদুল হাসান ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি গবেষণা করে ব্যাঙের নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশের ৪৩ প্রজাতির ব্যাঙ শনাক্ত করে সবগুলোর জীবনরহস্য উদ্ঘাটন করেছেন। তার ওই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে আবিষ্কৃত ব্যাঙের প্রজাতি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে দেশ লাভবান হতে পারে।

ব্যাঙকে উপকারী প্রাণী হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর শরীরের সব উপকরণ যেমন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তেমনি ফসলের তিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ কারণে ব্যাঙকে প্রাকৃতিক কীটনাশক বলেও অভিহিত করা হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লিটোরালিস বা উপকূল প্রজাতির ব্যাঙটি কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা টেকনাফ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি উপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যেতে পারে। বর্তমানে যেখানে চিংড়ির চাষ হচ্ছে, সেখানে ব্যাঙের চাষ হলে পরিবেশ আরও সহায়তা হবে। চিংড়ি চাষের জন্য লবণযুক্ত পানির প্রয়োজন হয়। এতে জমির উর্বরতা কমে। কিন্তু ব্যাঙ চাষে লবণাক্ত পানির প্রয়োজন হয় না। সব ধরনের পানিতে চাষ করা যায়। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হবে না। বর্তমানে চিংড়ির চেয়ে ব্যাঙের মাংসের দাম বেশি। উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের মিঠা পানিতেও ব্যাংক চাষ করা যেতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাঙের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে পায়ের মাংসের চাহিদা বেশি। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, চিন, ভিয়েতনাম থাইল্যান্ড, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাঙের মাংস রপ্তানি হচ্ছে। মিয়ানমার, ভারত, চিন, ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে ব্যাঙের। নিজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে তারা সেগুলো রপ্তানিও করছে।

গবেষক ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল বা মিঠা পানির অঞ্চলে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ব্যাঙের চাষ করা যায়। আবহাওয়া পুরোটাই এর অনুকূলে। চাষের খরচও কম। উৎপাদন ভালো। ফলে এটি হবে লাভজনক।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে খুব সীমিত আকারে ব্যাঙ রপ্তানি হচ্ছে। একটি কোম্পানি এই রপ্তানি করে থাকে। তারা বছরে দেড় থেকে ২ কোটি ডলারের ব্যাঙ রপ্তানি করে।

বিশ্বে সারা বছর প্রায় ৩২০ কোটি পিস ব্যাংকের চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি ব্যাঙের মূল্য প্রায় ১৬ ডলার, এ হিসাবে যার মূল্য প্রায় ৫ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এর বড় অংশের জোগান দিচ্ছে চিন, ভারত ও মিয়ানমার। বাংলাদেশও এখানে ভাগ বসাতে পারে।

এ ছাড়া ব্যাঙের চামড়া দিয়ে উন্নত মানের মানিব্যাগ এবং হাড় দিয়ে বিভিন্ন শোপিস ও প্রসাধনী তৈরি হচ্ছে। এ কারণে এগুলোর চাহিদাও বেশি। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।