কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রসারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। দেশে শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও এখনও কৃষিই গ্রামীণ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস বা পেশা। তাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রসারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, নতুন করে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোতে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার তৈরিসহ অন্যান্য কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্প্রতি রাজধানীর ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ : বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ সূচক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ মন্তব্য করেছেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সেমিনারের আয়োজন করে। ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশীদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। এতে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ইয়াসমিন সুলতানা, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষক ড. আশিকুর রহমান, নারী শিল্প উদ্যোক্তা কাজী মুন্নি, ডিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক খায়রুল মজিদ, শিল্প উদ্যোক্তা খন্দকার শহীদুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, টেকসই শিল্পখাত বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে সরকার জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ ঘোষণা করেছেন। এ নীতি শিল্পখাতের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এ নীতি ঘোষণা করা হলেও শিল্পায়নের স্বার্থে এতে নতুন কিছু সংযোজনের প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। শিল্পখাতে গতি আনতে নতুন শিল্পনীতির আলোকে সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোতে ক্লাস্টারের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তরের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ওষুধ, চামড়া, প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিক, প্লাস্টিক, কেমিক্যালসহ উদীয়মান শিল্প খাতগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সেমিনারে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬-এর বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এ নীতিতে উচ্চ-অগ্রাধিকার ও অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করায় দেশের শিল্পায়নে গতি আসবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন। শিল্পনীতির যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য একে একটি আইনী কাঠামোতে রূপ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের প্রসারে শিল্পনীতির আলোকে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন সেল গঠনের তাগিদ দিয়েছেন। নতুন শিল্পনীতিতে সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে তারা মন্তব্য করেছেন। জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬-এর আলোকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, শ্রমিক নিরাপত্তা জোরদারে শতভাগ শিল্প কারখানাকে বীমার আওতাভুক্তকরণ এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমূল্যে জমি, জ্বালানি ও ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে স্থাপিত এসব এআইসিসির মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরাই নিজেদের মাঝে তথ্যসেবা গ্রহণ ও বিতরণের কাজটি করছেন। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় আইসিটি উপকরণ (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, মডেম, ক্যামেরা ইত্যাদি) সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে কৃষি পরামর্শ গ্রহীতাদের অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগণের মাঝে তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে দেশব্যাপী ৪৯৯টি কেন্দ্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতিটি এআইসিসি থেকে দৈনিক ২২-২৫ জন মানুষ তথ্যসেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষিকে আর কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোন অবকাশ নেই। আজ কৃষি একটা শিল্প আর এ শিল্পে অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে দেশের প্রতিটি মানুষের। তাই আসুন আমরা প্রত্যেকে কৃষিতে কিছু না কিছু অবদান রাখি। বাড়ির ছাদ, ঘরের বারান্দা, সামনের উঠোন অথবা কোন ফসলি জমি যেখানেই সম্ভব গড়ে তুলি ছোট্ট একটি কৃষি খামার আর অবদান রাখি সামান্যতম হলেও দেশের খাদ্য ঘাটতি মোচনে।