হংকংয়ের আদলে গুলিস্তানে হচ্ছে এলিভেটেড ওয়াকওয়ে

রাজাধানীতে বাড়ছে জনসংখ্যা। পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার জন্য ফুটপাথগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। আর যতটুকু আছে, তাও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দখলে। সিটি করপোরেশন বার বার দখল হওয়া ফুটপাথ উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসছে না। বরং অবৈথভাবে ফুটপাথ দখলের মহোৎসব চলছেই। তাই নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য হংকং শহরের আদলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিস্তানে এলিভেটেড ওয়াকওয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে ফুটপাথ দখল বাণিজ্য যেমন কমবে, তেমনি নগরবাসীও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, রাজধানীর গুলিস্তানে প্রথম বারের মতো ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলিভেটেড ওয়াকওয়ে করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ১২০ মিটার (অর্থাৎ এক কিলোমিটারের বেশি)। এতে থাকবে ১০টি স্কেলেটর ও ১৬টি সিঁড়ি। কার্যত, নগরবাসী উভয় পদ্ধতিতেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পটি জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে হংকং শহরের আদলে তৈরি করা হবে। এটি সচিবালয়ের সামনে থেকে জিপিও হয়ে বায়তুল মোকাররম-গুলিস্তান-আহাদ পুলিশ বক্স থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত হবে। ইতোমধ্যে দেব কনসালট্যান্ট নামের এক প্রতিষ্ঠানকে ডিজাইনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ফুটপাথ অবৈধ
দখলদারদের হাত থেকে বাঁচানোয় ডিএসসিসি প্রথম বারের মতো রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে এলিভেটেড ওয়াকওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি নগরবাসীর জন্য সুবিধা হবে। এতে করে পথচারীরা কম সময়ে ও নির্বিঘ্নে গুলিস্তান এলাকায় চলাচল করতে পারবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী যায়যায়দিনকে বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে সংস্থাটি প্রথমবারের মতো এলিভেটেডে ওয়াকওয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি নির্র্মাণ করা হবে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ও বাস্ততম এলাকা গুলিস্তানে। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। তবে এর ব্যয় আরও বাড়তে পারে। হংকং শহরেও এমন এলিভেটেড ওয়াকওয়ে রয়েছে। তাই হংকংয়ের আদলেই তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটির দৈর্ঘ্য হবে এক কিলোমিটারের বেশি। এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আগামীতেও রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় এলিভেটেড ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এ সম্পর্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানীর গুলিস্তান একটি ব্যস্ততম এলাকা। তাই নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্নে ও সুবিধার জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে এলিভেটেড ওয়াকওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব ফুটপাথগুলোয় করার বিষয়টিও মাথায় রয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে নকশা প্রণয়নে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অবৈধ ফুটপাথ দখলদারদের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।