সক্ষমতা বাড়ছে ট্যুরিজম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের

এনএইচটিটিআই বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে জনবল তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নয়টি প্রধান বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়
আবু সাইম
চলতি বছরকে দেশের পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতের বিস্তার ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এ সময়ে বিদেশি পর্যটক আনা ও এ খাতের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যও নেয়া হয়েছে। এজন্য সম্ভাবনাময় এ খাতে প্রচুর দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তাই সময়ের চাহিদামতো দক্ষ জনবলের জোগান দিতে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (এনএইচটিটিআই)। এ জন্য একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে পর্যটন করপোরেশন।
জানা গেছে, পর্যটন বর্ষের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী তিন বছরের মধ্যে এ খাতের আয় বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। তিন লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থানের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি বছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ লাখে উন্নীত করা হবে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বছরে দেশে প্রায় চার-পাঁচ লাখের মতো বিদেশি পর্যটক আসে। এ সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হলে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলোরও সংস্থান রাখতে হবে। এ বিপুলসংখ্যাক পর্যটককের জন্য দক্ষ ট্যুর অপারেটর ও গাইড প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদের আরাম-আয়েশ ও বিনোদনের জন্য হেটেল সেক্টরেও প্রচুর দক্ষ জনবল প্রয়োজন, বিশেষ করে হাউস কিপিং, লন্ড্রি, হোটেল রির্জাভেশন, অভ্যর্থনা, সেফ, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইত্যাদি।
এ জন্য গৃহীত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে নয় কোটি টাকা। প্রকল্পের অন্যতম কাজ হচ্ছে এনএইচটিটিআইতে কর্মরত জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পর্যটন খাতের দক্ষজনশক্তি তৈরি করা এবং এ খাতে দেশে-বিদেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ও আয় বৃদ্ধি করা। এটি বাস্তবায়ন হলে এ খাতে বছরে প্রায় তিন হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। প্রকল্পের প্রধানতম কার্যক্রম হচ্ছে, ৩৭৩৫ বর্গমিটারের ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রশিক্ষণের জন্য ৩১২টি কম্পিউটার সংগ্রহ ও আসবাবপত্র ক্রয় করা। পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদের সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট পর্যটন মোটেলের উন্নয়ন করা হবে এ প্রকল্পে। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তবে আন্তর্জাতিকভাবে এর অবস্থা তেমন শক্তিশালী নয়। পর্যটন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের জিডিপিতে মূখ্য ভূমিকা রাখে। বিশেষত, এ দেশে বিদেশি পর্যটকদের জন কোনো সুবিধা তৈরি হয়নি। তাই এ দেশের জিডিটিতে তেমন অবদান রাখতে পারছে না। যথাযথভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারে। এ খাতের উন্নয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত এয়ারলাইন্স, শিপিং, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, কার রেন্টাল ফার্ম, ক্যাটারা, হস্তশিল্প, কৃষি পণ্যের বাজারের উন্নয়ন ঘটে। এ জন্য এসব খাতের জনবল তৈরি করে এনএইচটিটিআই।
পর্যটন একটি শ্রমঘন ও বহুমাত্রিক শিল্প। কিন্তু দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তির অভাবে এখাতে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। এজন্য এনএইচটিটিআই বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে জনবল তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নয়টি প্রধান বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল সেফ কোর্স ও দেড় বছর মেয়াদি ন্যাশনাল সার্টিফিকেট কোর্স। এ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি অ্যান্ড ট্যুর অপারেট কোর্স, ফ্রন্ট অফিস সেক্রেটারিয়াল অপারেশন্স কোর্স, হাউসকিপিং অ্যান্ড লন্ড্রি কোর্স, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশ ইতাদিও রয়েছে। কোর্সগুলো এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, চাকরির বাজারেও এর রয়েছে বেশ কদর।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে এশিয়াকে পরবর্তী পর্যটন গন্তব্য (হাব) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর নদী, পাহাড়, সাগরসমৃদ্ধ এ দেশের সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। এমনকি ঋতু, ভূতাত্তি্বক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতি-সহায়তা পেলে পর্যটনই হতে পারে দেশের প্রধান খাত। পর্যটনশিল্পের জন্য অবকাঠামোর বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ বা প্রয়োজনীয় বিনোদনের সুবিধা সবই রয়েছে। এ খাতে দক্ষ জনবল ও উপযুক্ত অবকাঠামো দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।