বিনিয়োগ বাড়বে বাংলাদেশে

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মনে করছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার ধারণা এবং জ্বালানি ও পরিবহন খাতের কয়েকটি বড় প্রকল্প শেষ হওয়ায় এমন পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে এডিবির পূর্বাভাস সরকারের চেয়ে কিছুটা কম। এডিবির অনুমান, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির আকার বাড়বে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সরকারের আশা, প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশের আরেক উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক মনে করে চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

গতকাল মঙ্গলবার ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত এডিবির বার্ষিক মূল অর্থনৈতিক প্রকাশনা ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) ২০১৬’-এর হালনাগাদ সংস্করণে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এডিবির এবারের প্রতিবেদনে এশিয়ার দেশগুলোতে কার্বন নিঃসরণ কম রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ স্থান পেয়েছে।

এডিবির প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ এশিয়ার প্রত্যেক দেশ সম্পর্কে আলাদা পর্যালোচনা রয়েছে। বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এমন অনুমান থেকে চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগে ঊর্ধ্বগতির প্রত্যাশা করা যায়। সরকারি খাতে সমাপ্ত জ্বালানি ও পরিবহন প্রকল্পগুলোও এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এগুলো ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যয় কমাবে। বিশেষত ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের সড়ক পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমাবে। জ্বালানি ও পরিবহন খাতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এমন আরও কিছু বড় প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে, যা ব্যবসা- বাণিজ্যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বেসরকারি বিনিয়োগে অধিকতর উৎসাহ দেবে।

সরকারের হিসাবেই বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবে, গত অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। অবশ্য সরকারি বিনিয়োগ আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে ২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিমিত প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছে এডিবি। এর ব্যাখ্যায় সংস্থাটি বলেছে, বাজারে চালের নিম্ন মূল্য আবাদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির কারণে শিল্প খাতে ১০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে এডিবি। আর

সেবা খাতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা সংস্থাটির।

এডিবি বলেছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি এবং ভোগ্যপণ্য ক্রয়ে ঋণ গ্রহণ তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ভোগ ব্যয় বাড়বে, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে নিকট ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ প্রেরণ চাঙ্গা হবে না। কম দামি পোশাকের চাহিদা বজায় থাকবে এমন ধারণা থেকে রফতানিতে তেজি অবস্থা থাকার আশা করছে এডিবি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়েও সংস্থাটি ইতিবাচক।

এডিবির মতে, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্টম্ফীতি হতে পারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। মূল প্রতিবেদনে ( এডিও) এ হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার চাপ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। পাশাপাশি পণ্যের সরবরাহে গতিশীলতা থাকতে

পারে। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি পরিমিত থাকবে বলে মনে করছে এডিবি।

প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে উন্নয়নশীল এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি কমে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলা হয়েছে। ২০১৫ সালে এশিয়ায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।