অদম্য নেত্রীর সঙ্গে উন্নত বাংলাদেশে

৬৯টি বছর পেছনে ফেলে এসে ৭০-এ পা রাখলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। অংক কষলে দেখতে পাব বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার এই বয়সের অর্ধেক সময়ও তিনি নিজের জন্য ব্যয় করেননি- করতে পারেননি। বিগত ৩৬টি বছর ধরে আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে, আমাদের কল্যাণ ও মঙ্গলের লক্ষ্যে, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে, বিশ্বের বুকে আমাদের প্রিয় এই মাতৃভূমি বাংলাদেশটিকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র এবং বাঙালিকে মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েশত-সহ¯্র প্রতিকূলতাকে পশ্চাতে ঠেলে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সম্মুখের পানে এগিয়ে চলেছেন। তারই মমতাময়ী হাত ধরে ‘এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ’- বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে উন্নত দেশের লক্ষ্যাভিমুখে।
এ মাসের ২১ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে আবারো বাংলায় ভাষণ প্রদান করে জাতি হিসেবে আমাদের ‘মর্যাদা’ এবং ‘এগিয়ে যাওয়া’কে আরো স্পষ্ট করেছেন। অন্যান্য বারের মতো এবারো তার বক্তব্যে বিশ্বনেতারা চমৎকৃত হয়েছেন। তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বগুণে রাজনৈতিকভাবে তিনি পরিণত হয়ে উঠেছেন যুগোপযোগী এবং সন্দেহাতীতভাবেই কতগুলো অনিবার্য বিশেষণের অধিকারী। তিনি হয়ে উঠেছেন এদেশের স্বর্ণকন্যা, জননেত্রী, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার- সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘দেশরতœ’। দেশীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল-ব্যাপ্ত বহুমুখী সমস্যা ও সংকট শনাক্তকরণসহ সময়োপযোগী নেতৃত্ব গ্রহণের কল্যাণে তার কণ্ঠলগ্ন হয়ে উঠেছে ‘বিশ্বনেতা’র উপাধিটিও। এ বছরেও লিঙ্গ-সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি লাভ করেছেন ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’। এসব পুরস্কার বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এ পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় এ দেশের জনগণের পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাকে জানাই অভিবাদন-অভিনন্দন।
বিগত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অদম্য নেত্রী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হালটি ধরেছেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়ে যাওয়া দলটিকে কেবল পুনর্গঠনই করেননি- রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুর সব ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ করে এ দেশের মানুষের আশ্রয়ের স্থলে পরিণত করে তুলেছেন। ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ¯েøাগানে এ দেশের কোটি কোটি মানুষকে সঠিক ইতিহাসের ধারায় এনে বঙ্গবন্ধুর পর পুনর্বার শেখ হাসিনাই ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিন মেয়াদের রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতাগুণে উপরে বর্ণিত বিশেষণগুলো এখন তার নামের সঙ্গে অনায়াসেই উচ্চারিত হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণেই বিশ্বের কাছে নানা কারণে বাংলাদেশ আজ অনন্য দৃষ্টান্ত। উন্নত বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন এক জনপ্রিয় ‘প্রেসক্রিপশন’। তারা সব সাহায্য-সহযোগিতাকালে প্রায়শই অপরাপর দেশকে বাংলাদেশের কাছ থেকে ‘শিক্ষা’ গ্রহণের ‘প্রেসক্রিপশন’ দেয়। বাংলাদেশের কাছ থেকেই পরিবর্তনের প্রেরণা লাভের পরামর্শ দেয়। এটি সম্ভব হয়েছে বিগত কয়েক বছরের আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের’ সার্বিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন-সূচকে অগ্রগতির কারণে।
বাংলাদেশ পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যেই নি¤œ আয় থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্জিত এই সক্ষমতায় এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখানোর মাধ্যমেও অনুপ্রাণিত করছেন। বিগত সাত বছরে এ দেশের মানুষের মধ্যে সার্বিকভাবে কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে ‘সৃষ্টিশীলতা’ও। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সাধারণের মধ্যে এই সৃষ্টিশীল কর্মোদ্যোগ ও কর্মচাঞ্চল্য জাগ্রত হওয়ায় ব্যক্তিক থেকে সামষ্টিক পর্যায়ের প্রতিটি স্তরে আমাদের উন্নয়ন এবং সক্ষমতার সূচকও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় অনুপ্রাণিত এবং কর্মোদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমরা ২০২১ সালে ‘মধ্যম-আয়’ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ‘উন্নত’ রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জনে সক্ষম হব। আত্মপ্রতিষ্ঠার এই স্বপ্ন আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দেখিয়ে যিনি উজ্জীবিত করেছেন তিনি শেখ হাসিনা। আমাদের এই আগামীর স্বপ্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণেই প্রাণচঞ্চল ও কর্মমুখর হয়ে উঠেছে- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ আর প্রেরণায় দেশের তরুণ প্রজন্মও আজ প্রাণচঞ্চল ও কর্মমুখর হয়ে উঠেছেন। বৈচিত্র্যময় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে তরুণদের জয়জয়কার সাফল্য তারই পরিচয় প্রকাশ করে। এক কথায়, তরুণ ও কর্মচঞ্চল সমগ্র জাতিকে সার্বিকভাবে জাগিয়ে তুলে উন্নয়নের মহাসড়কে মহাকর্মযজ্ঞের অভিযাত্রী করে তুলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই প্রজ্ঞাই আজ দেশের লক্ষ কোটি তরুণের ভরসা ও আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়ে উঠেছে। সুতরাং এ দেশের অগণিত তরুণের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আজকের এই শুভ প্রত্যুষে অভিনন্দন জানাই। কারণ একটি দেশের চালিকাশক্তি যে তারুণ্য তাকেই তিনি অনুপ্রেরণার মাধ্যমে জাগ্রত করেছেন, উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে যুক্ত করেছেন।
জননেত্রীর শুভ জন্মদিনে আমরা শুধু শ্রদ্ধা জানিয়েই তৃপ্ত হতে চাই না। তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমাদের স্বাধীনতার অহঙ্কারে গর্বিত মস্তকটিও অবনত করতে চাই আজকের দিবসের শুভ প্রত্যুষে। জানি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত প্রতিটি নাগরিক শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতায় তাদের মস্তক অবনত করবেন। কারণ, তিনি এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছেন বলেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ-সমরে নির্মম পাকিস্তানি আদর্শের দানবীয় বিরুদ্ধশক্তির অমানবিক আচরণের বিচারটি সম্ভব হয়েছে। বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাই তার নির্বাচনী সব প্রতিশ্রæতির একটি একটি করে পূরণ করে চলেছেন। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন বলেই একে একে দেশ আজ কুখ্যাত ও জঘন্য সব মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করণের মধ্য দিয়ে রাজাকারমুক্ত, কলঙ্কমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে। নাগরিক হিসেবে আমরাও হয়ে উঠছি গøানিমুক্ত- আত্মবিশ্বাসী।
রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এ দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার খুব সহজ কাজ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর ন্যায় নেতৃত্বের দৃঢ়তা শেখ হাসিনাও লালন করেন বলে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র, লবিস্ট ফার্ম এবং শক্তিধর গণমাধ্যমের অনুরোধ-উপরোধ, চোখ-রাঙানি আর উস্কানিকে তোয়াক্কা না করে স্থির সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে এ দেশবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রæতি রক্ষা করে চলেছেন। তার এমন দৃঢ়চেতা স্বভাবের কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শনে সাহসী ভূমিকায় নিজ অবস্থানটি সৃষ্টি করে নিয়েছে। পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো রাষ্ট্রগুলোর আস্ফালন, আল-জাজিরাসহ শক্তিধর বহুসংখ্যক গণমাধ্যমের তির্যক ও শ্লেষপূর্ণ মতামত বা সমালোচনাকে বাংলাদেশ আজ কোনোরূপ বিবেচনারই ধার ধারে না। এটি বাংলাদেশের সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের আরেক দৃষ্টান্ত- বাংলাদেশ ও বাঙালি যে প্রকৃতই স্বাধীন এটি তারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উল্লেখ বাহুল্য, এই দৃষ্টান্ত স্থাপনে আপসহীন মনোভাব প্রদর্শনের কারণে ব্যক্তিগতভাবে অনেকেরই ‘টার্গেট’-এ পরিণত হয়েছেন শেখ হাসিনা। বর্তমান বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায়ও প্রথম সারিতে অবস্থানটি নিয়ে ফেলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, ১৯ বার শেখ হাসিনার প্রণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল! বঙ্গবন্ধুর মতো বাংলাদেশ আর বাঙালিকে ভালোবাসার এই হলো চূড়ান্ত পরিণতি!
বাঙালির সক্ষমতা, স্বাবলম্বিতা, দৃঢ়চেতা ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবই আমাদেরকে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে খ্যাতির প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে নিরন্তর। এসব অর্জনের পশ্চাতে চোখ মেলে তাকালে যার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বগুণ এবং মমতাময়ী শাসনের মূর্তি সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে তিনি শেখ হাসিনা- আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ ¯্রােতধারায় অবগাহনে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়- শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থ-ব্যবস্থাপনায় আমাদের সক্ষমতা আজ বহির্বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে পরিণত। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সে প্রমাণই বহন করে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে পরাজিত করার ধারাবাহিকতায় এখনো আমরা আর্থসামাজিক নানা সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে, পাকিস্তানকে পরাজিত করে এগিয়ে চলেছি সম্মুখের দিকে। জননেত্রী রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। তাই শেখ হাসিনা এবং তার প্রিয় মাতৃভূমি পাকিস্তানের ঈর্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত। পাকিস্তানের দোসর এদেশের অনেকেই বাংলাদেশের এই উত্থান ও অগ্রগতিকে সহজে মেনে নিতে পারছে না, মেনে নিতে পারছে না জননেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়াকেও। তাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে যখনই আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চাই তারা তখন নানারূপ মন্তব্য-ভাষ্যে আমাদের চটিয়ে দিতে উদ্যত-উদ্ধত হয়ে ওঠে। পাকিস্তান এবং জামায়াতের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বিএনপিও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিতর্কিত অবস্থানে দণ্ডায়মান। শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়- সাম্প্র্রতিককালের জঙ্গি নির্মূল ইস্যুতে সমগ্র বিশ্ব প্রশংসা ও সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করলেও এই গোষ্ঠীভুক্তরা শেখ হাসিনার উদ্যোগকে অশালীন আক্রমণে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না। কিন্তু সত্যের অবিচল পথে নিবেদিতপ্রাণ শেখ হাসিনা অকুতোভয়।
জাতির জনককে হত্যার পর ক্ষমতালোভী চক্র বিশেষত বিএনপি এই বাংলা-ভূখণ্ডের এক মিথ্যা ও উদ্ভট ইতিহাস রচনা শুরু করেছিল। সেই মিথ্যা ইতিহাসে আচ্ছন্ন-অবরুদ্ধ আমরা কখনো উচ্চারণ করতে পারতাম না ‘পাকিস্তানি হানাদার’ বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি- ‘ক‚টনীতির শিষ্টাচার’ রক্ষার অজুহাতে কেবল ‘হানাদার’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারতাম। সে সময় এমন প্রশ্ন উত্থাপনও অসম্ভব ছিল যে, এই ‘হানাদার’ জল-স্থল-নভোমণ্ডলের কোথা থেকে এসেছিল? ‘অতীত ভুলে’ সামনের দিকে অগ্রসরের কথা বলে মুক্তিযুদ্ধকালীন আমাদের শত্রুদের মন্ত্রী বানিয়ে বাড়িতে-গাড়িতে তুলে দেয়া হয়েছিল জাতীয় পতাকা। স্বাধীন রাষ্ট্রে বসবাসের পরও ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগানের উচ্চারণ অসম্ভব ছিল।
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন বলে, ক্ষমতায় আছেন বলে এ দেশের সতেরো কোটি মানুষ তীব্র ঘৃণাভরে বলতে পারে ‘পাকিস্তানি হানাদার’ এবং ‘পাকিস্তানি নরঘাতক’সহ নানা রকমের সত্যভাষণ। এ দেশীয় দালাল এবং বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টি ও প্রচারকারীদের মুখে থুথু ছিটিয়ে সতেরো কোটি মানুষ দীপ্ত অহঙ্কারের সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারে ‘জয় বাংলা’। অমিত শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় মানুষ উচ্চারণ করতে পারে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শব্দগুচ্ছও। শেখ হাসিনার কল্যাণেই বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস আজ সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ এক পটভূমির ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীন পথচলায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। আমরা যখন সত্য ইতিহাসের পটভূমির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি তখন ২০৪১ সালের মধ্যে জননেত্রীর স্বপ্নের ‘উন্নত বাংলাদেশ’তথা বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলায়’ পৌঁছাতেও সক্ষম হব। সেটিই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। শেখ হাসিনার হাত ধরেই কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাতে চাই। তখন রবীন্দ্রকাব্যের বক্তব্যটি শেখ হাসিনার জন্য হয়ে উঠবে সার্থক :
‘দলে দলে আসে লোকে, রচে তোমার স্তব নানা ভাষায় নানান কলরব।’
বাঙালির কল্যাণকর কর্ম ও চিন্তার অধিশ্বর মহানেত্রী শেখ হাসিনার আজকের জন্মদিনে তাই আমাদের উচ্চারণ হোক পুনর্বার- ‘জয়তু শেখ হাসিনা’। ‘উন্নত বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সব কর্ম ও সাধনায় আমাদের সতত উচ্চারণ হোক ‘জয়তু শেখ হাসিনা’
ড. আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।