বাংলাদেশের জন্মের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারত সফর করেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জন কেরির এ সফর কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
ড. আকমল হোসেন : বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি করেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আমরা জানি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী ছিল? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করেছে। তারা বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের তৎকালীন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ভূমিকার কারণেই এটা করেছে। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়। বাংলাদেশের জন্মের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। এ রাজনৈতিক মেরুকরণে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ অঞ্চলে প্রাধান্য নেবে, এরকম একটি অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ অবস্থাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাই পুরো ’৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার বিরোধিতা করলেও তারা অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বাস্তবতাকে মেনে নেয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্ক তৈরি করে। বাংলাদেশের তৎকালীন নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ভূমিকা বিবেচনায় রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে সফরও হয়েছে। যদিও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পরও বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। যে কারণে ১৯৭৪ সালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে। এ সময় বাংলাদেশ কিউবার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছিল। বাংলাদেশ যাতে এ বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে না নেয় সে লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে খাদ্য সহায়তা প্রদান স্থগিত রেখেছিল। ১৯৭৫ সালের পর যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন তারা বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। ’৭৫-পূর্ব সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছিল তা আর অব্যাহত থাকল না। অর্থাৎ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ’৭৫-পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা আসীন হলেন, তারা ভাবলেন বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করাটাই বেশি জরুরি। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের জন্য যে বৈদেশিক সাহায্য এবং ঋণ প্রয়োজন, সে জন্যও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে হবে। আমরা বরাবরই দেখেছি, বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় স্থান দেয়ার চেষ্টা চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল পাকিস্তান। ভারতের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে রিজার্ভেশনগুলো ছিল ’৯০ দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাচ্ছে, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, এমন এক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন যে আনুকূল্য সেটা তারা আর ধরে রাখল না। তারা বুঝতে পারে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ করল। এই যে রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে পরিবর্তন অর্থাৎ ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট ঘনিষ্ঠতার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে দেশ দুইটির মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর। সম্প্রতি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তার অফিসিয়াল নাম হচ্ছে, ‘লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অব অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা (লেমোয়া)। এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ১২ বছর ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল। এ চুক্তির মাধ্যমে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি উচ্চতর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে আমেরিকার মাটিতে। আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকে জানাল যে, তারা এ ধরনের একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ঠিক সে সময়ই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশ ও ভারত সফর করেন। ভারত সফরকালে জন কেরি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কীভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করেন। এ চুক্তি তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনার ফল নয়। এটা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সম্প্রসারিত রূপ হিসেবেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি।
ষ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ চুক্তিটি কী কোনো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে?
ষষ এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন। এ ধরনের প্রশ্ন যে কারও মনেই আসতে পারে। ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে কিনা সে প্রশ্ন আলোচনা করা যেতে পারে। প্রথমেই আমাদের দেখতে হবে, এ চুক্তির লক্ষ্য কী? আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী যৌথ অভিযানে উপকরণগত সহযোগিতা আরও কার্যকর ও সহজ করা হবে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের মতে, সামরিক এ চুক্তির ফলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সেনারা সহজে পরস্পর সহযোগিতা করতে পারবে। একই সঙ্গে এটাও বলা হচ্ছে যে, মহড়ায় অংশ নেয়া বা মানবিক সহায়তা প্রদানের সময় তারা খুব সহজে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। এ চুক্তির বিষয়টি নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভারতের মধ্যেই কেউ কেউ বলছেন, এ চুক্তির ফলে ভারতের ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সামরিক জোট গঠনের চুক্তি, যা ভারতের জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। যেটা স্পষ্ট তা হলো, দুই দেশের সামরিক বাহিনী বিশেষ ক্ষেত্রে, বিশেষ প্রয়োজনে কীভাবে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। মনে হচ্ছে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজনীন যে লক্ষ্য সে লক্ষ্য পূরণে এ চুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ চুক্তি কি বিশ্বের যে কোনো স্থানে ব্যবহার করা হবে? এটা কি ইউরোপ বা আফ্রিকায় ব্যবহার করা হতে পারেÑ এ প্রশ্ন যে কেউ করতে পারেন। এ চুক্তিতে কোনো ভৌগোলিক এলাকার কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে এশিয়া, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে কেন্দ্র করে।
ষ অনেকেই মনে করছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে মোকাবিলা করার জন্যই এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর চীনের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ষষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, এটা খুব ভালো চুক্তি। চীন বলেছে, এ চুক্তি ভারত ও আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য খুবই ইতিবাচক। চীন এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু চীন আনুষ্ঠানিক যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এটা তাদের ভেতরের কথা নাও হতে পারে। ডিপ্লোমেসিতে কোনো কোনো বিষয়কে উহ্য রেখে কথা বলা হয়। এখন আমরা যদি বলি, এ চুক্তিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে উদ্দেশ করে স্বাক্ষর করা হয়েছে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কী ঘটছে? বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোন দেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করছে? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক কী গুরুত্ব আছে? সঙ্গত কারণেই এ প্রশ্নগুলো আসবে। আমরা দেখছি, প্রায় এক দশক ধরে চীন দক্ষিণ চীন সাগর যেটাকে বলা হয় তার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা স্বত্ব আরোপ করার চেষ্টা করছে। চীন সেখানে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করছে। সেখানে সামরিক বিমান নামানো হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সমুদ্র এলাকায় শুধু চীন নয়, আরও অনেক দেশ রয়েছে। তাইওয়ান বলছে, এ সাগরের মালিক তারাও। অন্যদিকে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ইত্যাদি দেশও এ সাগরের মালিকানা দাবি করছে। চীন এ সাগরের ওপর যে দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তা নিয়ে তো বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক আদালত দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর চীনের একক মালিকানার দাবি অগ্রাহ্য করেছে। দক্ষিণ চীন সাগর সমুদ্র যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এ পথে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পাদিত হয়ে থাকে। ৮০’র দশকে চীন যে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছিল তার পথ ধরে আজকের বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। চীন অর্থনৈতিক স্বার্থে তার সামরিক শক্তিকেও প্রক্ষেপ করতে চায়। মূলত এ কারণেই চীন দক্ষিণ চীন সাগরে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো বা দ্বীপ তৈরির মতো কাজগুলো করছে। ভারতও একটি বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। আর এটা করতে হলে তাকে চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে চলে যেতে হচ্ছে। কাজেই ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাতে কি লেখা আছে তা দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এ চুক্তির রাজনৈতিক বা সামরিক তাৎপর্য হচ্ছে, চীনের এ প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা করা। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লেমোয়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে অতি সম্প্রতি। বছর কয়েক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির ফলে মার্কিন পরমাণু সংক্রান্ত টেকনোলজি ভারতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ভারত যখন প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশ দুইটির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পরমাণু শক্তি নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। এমনকি এ বছর গোড়ার দিকে নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপে ভারতকে সদস্যপদ দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু পাকিস্তান এবং চীন এক্ষেত্রে আপত্তি উত্থাপন করে।
ষ কিছু দিন আগে উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকাকে এর মাধ্যমে এক ধরনের হুমকি দেয়া হলো। উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের কার্যকলাপ এ অঞ্চলে কি কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে?
ষষ এই বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তার শক্তি প্রদর্শন করল। উত্তর কোরিয়া এখন কার্যত একটি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সাল থেকেই পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আসছে। সম্প্রতি তারা যে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা নাকি অত্যন্ত শক্তিশালী। উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এদের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র চীনও উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণরূপে অনুমোদন দেয় না। উত্তর কোরিয়া এ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরনের বার্তা দিল যে, তাদেরও শক্তি আছে। বিশ্ব রাজনীতিতে আদর্শ জিনিসটি বর্তমানে বলতে গেলে নেই। শক্তি দিয়েই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়।
ষ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়ার এ কার্যক্রমের কারণে এ এলাকায় ভবিষ্যতে পারমাণবিক যুদ্ধের সৃষ্টি হতে পারে কী?
ষষ পৃথিবীতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে দু’বার। সেই পরমাণু অস্ত্র ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের বা শিশু অস্ত্র। এক সময় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বিশ্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা দেয়। অবশ্য পরে তারা সে অবস্থান থেকে ফিরেও আসে। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে উত্তেজনা সব সময়ই বিরাজমান ছিল। বিশেষ করে, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রধর দেশে পরিণত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরমাণু অস্ত্র প্রশ্নে উত্তর কোরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপিত রয়েছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু শক্তি ক্রমাগত বাড়িয়েই চলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তর কোরিয়াকে ফেরানোর জন্য আর এক ধরনের পরমাণু শক্তি প্রয়োগ রোধ করা হবে, এটা বোধ হয় ভাবা সম্ভব নয়। কারণ মানুষ পরমাণু অস্ত্রের পরিণতি সম্পর্কে জানে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তারা চাইবে না যে, দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো পরমাণু যুদ্ধ শুরু হোক।

আলোকিত বাংলাদেশ : সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ড. আকমল হোসেন : আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ।