সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পথ দেখাল ৫০০ নারীকে

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ফ্রি প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫ শতাধিক নারী খুঁজে পেয়েছেন কাক্সিক্ষত পথ। অভাবকে জয় করে তারা আজ স্বাবলম্বী। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার খরচেও সহযোগিতা করছেন এসব নারী।
২০১২ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৫ শিক্ষার্থী নিয়ে পলাশ উপজেলা চরসিন্দুর ইউনিয়নে সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণের যাত্রা শুরু হয় বলে জানান এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল মুজাহিদ হোসেন তুষার। তিনি বলেন, আমি এবং আমার মা নিগার সুলতানা শিক্ষিত বেকার ছাত্রী, হতদরিদ্র ও বিধবা মহিলাদের কীভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, এ চিন্তা করে ফ্রি সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলি। আমাদের নিজ অর্থায়নে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক নারীর অলস হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করেছি। উপজেলার চরসিন্দুর, গজারিয়া ইউনিয়নে আমরা এ কার্যক্রম শেষ করে বর্তমানে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচরপাড়ায় কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতিটি ব্যাচে ৩০ থেকে ৩৫ শিক্ষার্থীকে ৩ মাস প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এজন্য ছয় প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে কয়েকটি ব্যাচে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীকে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছি। বর্তমানে ১৫তম ব্যাচ চলছে।
সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সভাপতি নিগার সুলতানা বলেন, মানুষকে নিয়ে রাজনীতি সবাই করেন; কিন্তু হতদরিদ্র, বেকার নারী ও সাধারণ নারীদের নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেন না। আমার চিন্তা ছিল সাধারণ নারীদের জন্য কিছু করা। তাই আমার ছেলেকে নিয়ে এ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলি।
সুলতানায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কলেজছাত্রী আসমা, সুমী, পারুল ও মোমেনা খাতুন জানান, এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করছেন। নিজেদের লেখাপড়ার খরচ নিজেরাই চালাচ্ছেন। এর ফলে পরিবারের কেউ এখন তাদের বোঝা মনে করে না। চরসিন্দুরের স্বামীপরিত্যক্তা শাহানাজ ও সুমী আক্তার জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ তাদের নতুন করে বাঁচার পথ দেখিয়েছে। এখন কাপড় সেলাই করে তাদের সংসার চলে। চরসিন্দুর সুলতানপুরের গৃহবধূ হাবেজা বেগম জানান, তার স্বামী যে আয় করতেন, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। সুলতানায় প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন তিনি নিজেই সেলাই কাজ করে মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন। গজারিয়া ইউনিয়নের গৃহবধূ মরিয়ম জানান, লেখাপড়া শেষ না হতেই বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। তারপর থেকে স্বামী-সংসার সামলাচ্ছেন। তার ইচ্ছে ছিল নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার। সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সে পথ দেখিয়েছে। তার মতো অনেক নারীই সুলতানায় সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।