গরুর নাড়িভুঁড়ি ও শিং রফতানিতে প্রণোদনা

এখন থেকে ফার্নিচার, প্লাস্টিক দ্রব্য, গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং, শস্য ও শাকসবজির বীজ এবং পাটকাঠির কার্বন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদিত ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রফতানির বিপরীতে রফতানি ভর্তুকি বা নগদ অর্থসহায়তা দেয়া হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজ করে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে এ সহায়তা পরিশোধ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে , এখন থেকে ফার্নিচার রফতানির বিপরীতে ১৫ শতাংশ, প্লাস্টিক দ্রব্য ও গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি রফতানির বিপরীতে ১০ শতাংশ, সাভারের ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে রফতানি ভর্তুকি দেয়া হবে। এ ছাড়া শস্য ও শাকসবজির বীজ ও পাটকাঠির কার্বন রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ হারে রফতানি ভর্তুকি বা প্রণোদনা দেয়া হবে। সেই সঙ্গে ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ৪ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ২ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেয়া হবে। এ ছাড়া চামড়াজাত দ্রব্যাদি রফতানি খাতে নগদ সহায়তার হার সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ এবং জাহাজ রফতানির বিপরীতে রফতানি ভর্তুকির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং আলু রফতানি খাতে ভর্তুকির হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা এবং এ খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা আগের মতো ৪ শতাংশ থাকবে। বস্ত্র খাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণে ৩ শতাংশ সহায়তা, হাতে ?তৈরি পণ্য (হোগলা, খড়, ছোবড়ার পণ্য) ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানিতে ১৫ শতাংশ, কৃষিপণ্য ও হালাল মাংস রফতানিতে ভর্তুকি ২০ শতাংশ বহাল আছে। এ ছাড়া হিমায়িত চিংড়ি রফতানিতে বরফ আচ্ছাদনের হার ৭ থেকে ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার ২ থেকে ৫ শতাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের পাটপণ্য রফতানিতে নগদ ভর্তুকি পণ্যভেদে ৫ থেকে ২০ শতাংশ বহাল আছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কোন অর্থবছরে সাড়ে ৩৫ লাখ ডলারের বস্ত্র বা সামগ্রী রফতানি করলে এবং বৃহৎ কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন না হলে পরবর্তী অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বস্ত্রশিল্প হিসেবে সংজ্ঞায়িত হবে।