আধা ঘণ্টার পথ দু’মিনিটেই পাড়ি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল আলোচিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের দ্বিতীয় অংশ উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এক কিলোমিটার অংশ খুলে দেয়ায় অনেকটাই সড়কের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেল নগরীর মানুষ। এখন আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে সর্বোচ্চ দুই মিনিট। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিউ ইস্কাটন থেকে মগবাজার রাশমনো হাসপাতাল পর্যন্ত উড়াল সড়ক অংশের উদ্বোধন করেন।

এর আগে গত মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দেশের দীর্ঘতম এ ফ্লাইওভারের রমনা থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল। ইস্কাটন-মৌচাক অংশের উদ্বোধন করে মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অলরেডি এ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করে দিয়েছেন। আমরা এর সাইডগুলো উদ্বোধন করছি। আমি যে অংশটার উদ্বোধন করলাম সেটার দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার। অন্য অংশগুলো আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে উদ্বোধন করতে সক্ষম হব ইনশা আল্লাহ।

এ উড়াল সড়কের সবচেয়ে বড় অংশটুকুর কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ অংশে ৫০ ভাগেরও কম কাজ হয়েছে। শান্তিনগর-রাজারবাগ, মালিবাগ, মৌচাক, মালিবাগ রেলগেট থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত অংশের কাজ কমবেশি হয়েছে। এ অংশের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আরও এক বছর। এছাড়াও হোটেল সোনারগাঁও থেকে হাতিরঝিল পর্যন্ত নতুন লুপ নির্মাণকাজ এখনও চলমান।

তিন দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২১৯ কোটি টাকায়। নির্মাণকাজের মধ্যেই নক্সায় ত্রুটি নিয়ে তৈরি হয় উদ্বেগ, সমালোচনা। তারপরও নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকায় বিশাল নির্মাণকাজের ভোগান্তি আর যানজটের ধকল থেকে রেহাই পেতে নাগরিকরা অধীর আগ্রহ নিয়ে ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আশা করি ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়ে গেলে তা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখাবে।

অন্যদের মধ্যে এলজিআরডি সচিব আব্দুল মালেক, প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু করা এ ফ্লাইওভার দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৫ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তবে ঠিকাদার ও তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণে তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর এখন ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। মেয়াদ বাড়ার সমান্তরালে প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ২১৯ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে সরকার।

সব মিলিয়ে আট কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার জন্য তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল, মগবাজার, রমনা (হলি ফ্যামিলি হাসপাতালসংলগ্ন রাস্তা), বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও শান্তিনগর মোড়ে লুপ বা র‌্যাম্প রাখা হয়েছে। ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি (এমসিসিসি) ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড উড়াল সড়কটির নির্মাণকাজ করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীকে নিয়ে অনেক সময় সিকিউরিটি প্ল্যান থাকে। সেজন্য শত চেষ্টা করলেও আমি উল্টোপথে যাওয়া বন্ধ করতে পারি না। আর একজন মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে গেলে যানজট সৃষ্টি করে বলেও আমি মনে করি না। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে গেলে যানজটের সৃষ্টি করে- কেউ যদি এমন কথা বলে থাকে তবে এটা পাবলিসিটি স্ট্যান্ড। সস্তা পাবলিসিটি পাওয়ার জন্য কেউ উল্টো কথা বললে আমার কিছু বলার নেই।

গত শুক্রবার গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালসংলগ্ন চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে আন্ডারপাসের উদ্বোধনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গাড়ি নিয়ে উল্টোপথে চললেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এমপি-মন্ত্রী, ভিআইপি যেই হোন না কেন, মহাসড়কে উল্টোপথে চললেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই অনেক সময় উল্টোপথে যাওয়া লাগে। ওরা (সিকিউরিটি) আমাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এমনটি করে। বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। একজন মন্ত্রীর ওপর যদি আঘাত আসে, তবে তার পুরো চাপ পড়বে সরকারের ওপর।

নগরীর যানজট নিরসনে সরকারের মাস্টারপ্ল্যানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি অনেক সময় ফ্লাইওভারও যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নগরীর যানজট নিরসনে যে মাস্টারপ্ল্যান নেয়া হয়েছে তা পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই ঢাকা যানজটমুক্ত হবে। উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফ্লাইওভারের খুলে দেয়া অংশ ঘুরে দেখেন।