বাংলাদেশের উন্নয়নে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন

সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সতর্ক পদক্ষেপে এসব হামলার পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রশংসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ইতিবাচক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতিরূপে ধরে নেয়া যায়।
রতনতনু ঘোষ
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর ছিল মাত্র ৯ ঘণ্টার জন্য। এর মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি স্বচক্ষে দেখে বিস্মিত হয়েছেন। প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এসে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সেই আপবাদ বাংলাদেশকে সইতে হয়েছে তিন দশক ধরে। এখন বাংলাদেশের শূন্য ঝুড়ি উপচে পড়ছে অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারায়। সেই স্বীকৃতি দিয়ে গেলেন মার্কিন প্রতিনিধি জন কেরি বাংলাদেশ সফর করে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ অনুসরণে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে অগ্রসরমান। এ অগ্রগতির সুদীর্ঘ গল্প আছে। জনগণের প্রচেষ্টা আর সংস্কারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যে অগ্রগতি তার গর্বিত অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। এতে ভূমিকা রেখেছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকশিল্প। প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে উন্নীত করার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভূমিকা। রানা প্লাজার ধস আর তাজরিন ফ্যাক্টরিতে আগুনের ঘটনায় বাংলাদেশের গার্মেন্টশিল্পের যে বদনাম হয়েছিল তা ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ উদ্যোগে গার্মেন্টশিল্পের বিপর্যয় ও দুর্যোগ মোকাবেলা করা হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প নিয়ে কোটাপদ্ধতির সুবিধা থেকে বঞ্চনার অজুহাত তৈরি হয়েছিল। শেষপর্যন্ত শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রদত্ত শর্তাদী সরকার পূরণ করেছে। তারপরও জেএসপি সুবিধা না দিলে আমরা তা আর চাইব না। সম্প্রতি জঙ্গি সন্ত্রাস মোকাবেলায়ও জন কেরি বাংলাদেশ তথা হাসিনা সরকারের প্রশংসা করেছেন। জঙ্গি দমনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই বলেছেন, বাংলাদেশের ভূমিসন্ত্রাসীরা ব্যবহার করতে পারবে না। জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় একের পর এক জঙ্গি গ্রেপ্তার ও হত্যার মাধ্যমে। জঙ্গি আস্তানায় হামলা, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত কার্য অব্যাহত আছে। শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের দমনের ফলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে সরকার ও জনগণ যৌথভাবে এটিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে নিয়ে জনসচেতনতামূলক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের পর্যায়ভুক্ত করেছে। মানববন্ধন, সভা, মিছিল চলছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী ও অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তায় সহযোগিতা দিতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা মীমাংসিত। এর সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকার সতর্ক। বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ নিয়ে চলছে গবেষণা ও পরিকল্পনা। বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে বার বার ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সরকার মনে করে জঙ্গিরা দেশীয়। তারা বিদেশ থেকে আসে কিংবা তাদের সঙ্গে বিদেশি অর্থায়নের যোগাযোগ থাকতে পারে। জঙ্গি সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, তা বৈশ্বিক সমস্যা। সেজন্য বাংলাদেশ একদিকে দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি সমস্যা মোকাবেলা করছে অন্যদিকে বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ মোকাবেলায়ও ভূমিকা রাখবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায়। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিষয়ক দ্বীপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। পৃথিবী থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতেই গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকদের খুন করেছিল ভয়ঙ্করভাবে। এটি জন কেরিও স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধের বিচারে দৃষ্টান্ত হয়েছে। এ বিচার বানচালে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হলেও সরকার ঝুঁকি ও সতর্কতা নিয়ে তা সম্পন্ন করে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। পলাতক যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন জন কেরি। বঙ্গবন্ধু আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে সরকার। জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে গণতন্ত্র সহায়তা হতে পারে। সুশাসন ও গণতন্ত্র বিস্তারে বাংলাদেশের আরো অগ্রগতি কামনা করেছেন জন কেরি। জঙ্গি দমনে গণতন্ত্র মুখ্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগ আন্তরিক। বাংলাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে চমকপ্রদ অগ্রগতি লাভ করেছে তার প্রশংসা করেছেন জন কেরি। যুক্তরাষ্ট্র এখন চায় বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সহায়তা করতে। বাংলাদেশে হুজি, জেএমবি ও হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ হয়েছে। তাদের তৎপরতা দমনে সরকার সচেষ্ট। আইএসের জন্মের আগেই এ জঙ্গি দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এসব দলের শাখা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে, শুধু বাংলাদেশে নয়। পৃথিবীর ৫০টি দেশে হিযবুত তাহরীর শাখা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও আইএস বাংলাদেশে সুবিধা করতে পারেনি। জামায়াত-শিবিরের তা-ব অনেকাংশে দমন হয়েছে। ‘৭৫ ও ২১ আগস্টের খুনিরাও বিচারের আওতায় এসেছে। জঙ্গি সন্ত্রাস মেনে চলছে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম। জন কেরি এ তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।
ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে জঙ্গি হামলার ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গি সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এসব দেশের চেয়ে বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করা হয়েছে অধিক। জন কেরির সফরের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হলো। দৃষ্টিভঙ্গিতে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি দূর হলো। জন কেরি মনে করেন, কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদ থেকে নিরাপদ নয়। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বছরের প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তেই সতর্ক থাকতে হবে। হামলার ভয়ঙ্কর ঘটনা যাতে মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি না করে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশ সরকার গুলশানের অর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনা সরাসরি টেলিভিশনে প্রচারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তাতে সতর্কতার পরিচয় দিয়েছে। এ ছাড়া কল্যাণপুরে জঙ্গিদমন অভিযানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গর্বিত অংশীদার মনে করায় বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বীকৃতি ঘটেছে।
জন কেরি বলেছেন, তিনি বাংলাদেশর স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন। সিনেটর টেড কেনেডি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সমর্থন না করলেও আমরা সমর্থন করেছি। সেজন্য বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন নিয়ে তিনি গঠিত বোধ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল বাংলাদেশে কারখানার নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা পরিদর্শন বাড়ানো, নিম্নমানের কারখানা বন্ধ করে দেয়া এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা বিষয়ে যাতে নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারে। মোট কথা বাংলাদেশের পোশাকশিল্প শ্রমিকরা যাতে উপকৃত হয় সেজন্য সরকার পদক্ষেপ নিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে গার্মেন্টশিল্পের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, ঈদের আগে মালিকপক্ষকে বেতন পরিশোধে বাধ্য করেছে, নিরাপত্তার জন্য গার্মেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগে গৃহীত হয়েছে। ফলে শ্রম অসন্তোষ আর দুর্ঘটনা কমেছে। সরকারের এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও মার্কিনীদের প্রদত্ত শর্তাবলি পূরণ হয়নি বলে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব সৃষ্টির ব্যাপার রয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে জেএমবি সুবিধা প্রদানের বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন। সরকার এ ব্যাপারে কোনো জোর দাবি উত্থাপন করেনি। দেখা যাক_ বাংলাদেশের অর্জন কতটুকু মূল্যায়িত হয়। তবে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে জন কেরির সামগ্রিক মূল্যায়ন ও দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। এ ধরনের মনোভাব অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ বিরোধী পক্ষ বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিয়ে কুৎসা রটনা কিংবা নিন্দাবাদ করতে পারবে না। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহসাচিব বান কি মুন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও বাংলাদেশ সফর করে এর অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। এ ছাড়া ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালাম বাংলাদেশের জাদুকরি উন্নয়নের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছিলেন। বাংলাদেশে ইতোপূর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এসেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ঘুরে উন্নয়নের নিদর্শন তুলে ধরেছেন। বিশেষত গার্মেন্টশিল্প, নারী নেতৃত্ব ও প্রবাসী আয়ের ঘটনা নিয়ে তিনি তার ভ্রমণবিষয়ক আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন অনেক কথা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর এবং নারীশ্রমিকের অগ্রগতি প্রাধান্য পেয়েছিল তার বইয়ে। জার্মানির জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। এভাবেই বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল এবং প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে অস্থিতিশীল ও অগি্নসংযোগের রাজনীতি দেশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে কালো করতে চেয়েছিল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এবং পরে ২০১৬ সালে নতুন করে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের প্রচেষ্টা চলেছিল। একদিকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য সারা দেশে হত্যা, ভাংচুর ও নির্যাতনের ঘটনা, শাপলাচত্বরে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন ও ভাংচুর ভোলেনি জনগণ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকি ও অগি্নসংযোগসহ হত্যা প্রচেষ্টা মোকাবেলা করতে হয়েছে সরকারকে। ২০১৬ সালে এসে বিদেশি নাগরিক হত্যা, ধর্মীয় পুরোহিত, যাজক, সেবায়েত ও ইমাম হত্যার ঘটনা সৃষ্টি করে গণআতঙ্ক। সর্বশেষ গুলশানে ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিত নাশকতা চালিয়েছিল।
সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সতর্ক পদক্ষেপে এসব হামলার পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রশংসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ইতিবাচক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতিরূপে ধরে নেয়া যায়।

রতনতনু ঘোষ: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক