তাল গাছের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বন্ধুর উদ্যোগ

ঐ দেখা যায় তাল গাছ/ ঐ আমাদের গাঁ/ ঐ খানেতে বাস করে/ কানা বগীর ছা।’ কবিগুরুর কবিতার উপজীব্য তাল গাছের এমন দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। তাল গাছে ‘কানা বগীর ছা’ ও ‘বাবুই পাখির বাসা’ও নেই আগের মতো। কালের বিবর্তনে অনেকটাই মøান হয়ে গেছে। তবে ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ থাকা তাল গাছের সুদিন ফিরিয়ে আনতে যশোরের পাঁচ বন্ধু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন; যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেলার মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙা গ্রামের উদ্যমী যুবক নাঈম রেজা। তার সঙ্গে সহযোগিতায় আছেন তারই বন্ধু সরোয়ার হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আশিকুর রহমান ও সোহেল রানা। স্বপ্নবাজ এই যুবকরা তাল গাছ লাগিয়ে গড়তে চান বিশ্ব রেকর্ড। এ লক্ষ্যে যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চলের শত কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অর্ধলাখ তাল গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের পাশে প্রায় ১৮ হাজার তালের আঁটি বপন করেছেন। প্রথম দিকে বপন করা প্রায় ১২ হাজার আঁটি থেকে ২ থেকে ৩ ফুট উঁচু তালের চারা গজিয়েছে, বেরিয়েছে দুই-তিনটি পাতা।
নাঈম রেজা জানান, ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম শুরু হয় বিশ্বের বৃহত্তম তাল গাছের সারি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া। প্রথমে মনিরামপুর উপজেলার চিনেটোলা বাজার এলাকার ফকিরের রাস্তা থেকে রাজগঞ্জ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ৬ হাজারের বেশি তালের আঁটি বপন করেন। বর্তমানে তা থেকে দুই-তিন ফুট উঁচু তালের চারা গজিয়েছে, বেরিয়েছে দুই থেকে তিনটি পাতা। এরপর ২০১৫ সালে নিজ গ্রাম হাসাডাঙা থেকে কেশবপুরের মধ্যকুল এলাকা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের পাশে আরও ৬ হাজার তালের আঁটি বপন করেন। সেখানেও দেড় থেকে দুই ফুট উঁচুতে পৌঁছেছে আঁটি থেকে বেরোনো তালের চারা। ২ সেপ্টেম্বর যশোর-রাজগঞ্জ-সাতক্ষীরা সড়কের দুই পাশে ১২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ৭ হাজার তালের আঁটি বপন করেছেন। ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বাকি অংশে তালের আঁটি বপন সম্পন্ন হলে তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে আশা করছেন।
নাঈম রেজা বলেন, কয়েক বছর আগে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের দুই পাশে গহের আলীর তাল গাছের সারির ওপর প্রতিবেদন দেখে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর ভ্রমণপ্রিয় নাঈম বেরিয়ে পড়েন তাল গাছের সারি দর্শনে। গিয়ে জানতে পারেন, বৃদ্ধ গহের আলী ভিক্ষা করতেন। কোনো বাড়িতে ভিক্ষা না দিলে চেয়ে নিতেন তালের আঁটি। পুঁতে দিতেন রাস্তার পাশে। দিনে দিনে তার লাগানো আঁটির তাল গাছে ভরে গেছে রাজশাহী-নওঁগা মহাসড়কের দুই পাশ। নিজ চোখে দেখে আসার পর শুরু করেন বিশ্বের বৃহতম তাল গাছের সারি গড়ার কাজ। এরই মধ্যে বপন করা ১২ হাজার তালের আঁটি থেকে ১০ হাজারেরও বেশি চারা গজিয়েছে। এসব গাছের পরিচর্যা করে চলেছেন তার বাবা আবদুল মজিদ। নাঈম রেজার স্ত্রী আসমা খাতুন এ কাজে সব সময় অনুপ্রেরণা জোগান। উদ্যমী নাঈম রেজার সঙ্গে সহযোগিতায় আছেন তারই বন্ধু সরোয়ার হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আশিকুর রহমান ও সোহেল রানা। নাঈম তালের আঁটি কেনা ও লাগানোর কাজে সাধ্যমতো খরচ বহন করেন। সহযোগিতা করেন তার বন্ধুরাও।