দুই মাসে রফতানি আয় ৫৮৩ কোটি ডলার

আশানুরূপ রফতানি আয়ের মধ্য দিয়ে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষ করলেও নতুন অর্থবছরের শুরুতে হোঁচট খেয়েছে রফতানি আয়। তবে অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে ‘আশাব্যঞ্জক’ প্রবৃদ্ধি এসেছে রফতানি আয়ে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রফতানি (জুলাই-আগস্টে) আয় অর্জিত হয়েছে ৫৮৩ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার। এ সময়ে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। একক মাস হিসেবে আগস্টে রফতানি আয় এসেছে ৩৩০ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার। আগের মাসের তুলনায় আগস্টে রফতানি আয়ে ৩ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে।

সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে গেল অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় সাড়ে ৩ শতাংশ রফতানি আয় কম এসেছিল। তবে সদ্য শেষ হওয়া আগস্টে রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও এই ‘প্রবৃদ্ধির’ ধারা এ অব্যাহত থাকবে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, আগস্ট মাসে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ৩৩০ কোটি (৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে, যা গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৭৬ কোটি (২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন) ডলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক পণ্য রফতানি কাক্সিক্ষত পরিমাণে না হওয়ায় রফতানি গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় কমে গেছে। ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি থাকায় অনেক কারখানার উৎপাদন কম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রফতানিতে। সম্প্রতি গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার প্রভাবে এ রফতানি কম হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নও উঠেছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গী হামলা রফতানির জন্য বাধা হয়নি। আমরা লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। রফতানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রফতানি কমার ক্ষেত্রে গুলশান হামলায় বিদেশী নাগরিক নিহত হওয়ার প্রভাব নেই। কেননা রফতানি হওয়া পণ্যের অর্ডার আগেই নেয়া। তবে আগামী মাসগুলোতে রফতানি কমতে থাকলে তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতনি হয়েছিল ২৫৩ কোটি ডলারের পণ্য। এ হিসাবে অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রফতনির পরিমাণ ৫৮৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রফতনির পরিমাণ ৫৩৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি রফতানি আয় দেশে এসেছে। এই রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক (নিট ও উভেন) থেকে এসেছে। গত বছরের জুলাইয়ের চাইতে গত জুলাইয়ে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি কমেছে প্রায় সাড়ে চার শতাংশ। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে ২২২ কোটি ডলার সমপরিমাণ গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হলেও গত জুলাইয়ে তা ২১১ কোটিতে নেমে এসেছে। অন্যদিকে জুলাইয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। জুলাইয়ে ৩০৩ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ২১১ কোটি ডলার। তৈরি পোশাকের বাইরে পাটের রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। এ খাতের সব ধরনের পণ্যের আয় বেড়েছে। এছাড়া চামড়া ও চামড়া পণ্যের রফতানি আয় বেড়েছে। ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্ট মাসে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। জুলাই মাসে যে রফতানি আয় দেশে এসেছিল তার অর্ডার এসেছিল ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে। ওই সময় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্ডার কম এসেছিল। সে কারণে আয়ও কমে গিয়েছিল।