মেয়েদের নৈপুণ্যে মুগ্ধ দেশবাসী : শামসুজ্জামান শামস

বাংলাদেশের দুরন্ত মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মেয়েদের চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা শুধু দেশের মাটিতেই নয় বিদেশেও দাপটের সঙ্গে খেলছে। ২০১০ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেপালের মোকাবেলা করে। ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবল দল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগমন করে ১১ মাসের মাথায় নিজেদের উন্নতির স্বাক্ষর রাখে বাংলাদেশের মেয়েরা। একই বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত সাফ ওপেন ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানকে ৯-০ গোলে এবং শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। গত শনিবার ৩ সেপ্টেম্বর অলিখিত ফাইনালে শক্তিশালী চাইনিজ তাইপেকে ৪-২, , সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের সুবাদে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ২০১৭ সালে চীনে অনুষ্ঠিত মূল পর্বে বাংলাদেশের খেলা নিশ্চিত করেছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। বাংলাদেশের মেয়েরা ইরানকে ৩-০, সিঙ্গাপুরকে ৫-০, কিরগিজস্তানকে ১০-০, চাইনিজ তাইপেকে ৪-২ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে ইরানের কোচ সাদি মাহিনির মুখ জুড়ে ছিল বাংলাদেশের প্রশংসা। সাদি মাহিনির চোখে মুখে শুধুই বাংলার মেয়েদের মুগ্ধতা, ‘আমরা ভেবেছিলাম এই ম্যাচটা একটু প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হবে। কিন্তু এভাবে বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচ বের করে নিয়ে যাবে আমি মোটেও ভাবিনি।’ দুই বছর আগে এই বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল ইরান। সেই হারের একটা বদলাও নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওই দলের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে সাদি মাহিনি বলেছেন, ‘দুই বছরের আগের দলটার চেয়ে এই দলটা অনেক উন্নতি করেছে খেলায়। আমরা যে দলটাকে হারিয়েছিলাম, এর চেয়েও অনেক ভালো দল এটি।’

ইরানকে ৩-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। বাংলাদেশের হয়ে দু’টি করে গোল করেছেন অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী ও অনুচিং মগিনি। একটি গোল করেন মৌসুমী। বাংলাদেশের মেয়েরা পুরো ম্যাচেই দারুণ দাপট দেখিয়ে খেলেছে। ম্যাচের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষকে একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে রাখে ছোটনের শিষ্যরা। কৃষ্ণা রানীদের পরিকল্পিত ও গতিময় খেলার সামনে এদিন বাংলাদেশ সীমানায় একটি আক্রমণও করতে পারেনি সিঙ্গাপুরের মেয়েরা। কিরগিজস্তান, চাইনিজ তাইপে এবং সংযুক্ত আরব অমিরাতের মেয়েরা বাংলাদেশের মেয়েদের বিপক্ষে শোচনীয় হারের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।

মেয়েদের ফুটবলে সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কলসিন্দুর। ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ছোট্ট গ্রাম কলসিন্দুর যেখানে মানুষের ঘুম ভাঙে ফুটবলের শব্দে। কলসিন্দুরের মেয়েরা সবার নজর কাড়েন ২০১৫ সালে। গত বছর এপ্রিলে নেপালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ১৮ সদস্যের বাংলাদেশ দলে সেবার একসঙ্গে খেলার সুযোগ পায় কলসিন্দুরের ১০ মেয়ে। এরা হলেন- মার্জিয়া আক্তার, সানজিদা আক্তার, নাজমা আক্তার, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্দা, মাহমুদা আক্তার, লুপা আক্তার, শামসুন্নাহার, তাসলিমা ও তহুরা আক্তার। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ১৮ সদস্যের দলে কলসিন্দুরের আট মেয়ে জায়গা করে নেন। এরা হলেন- মার্জিয়া আক্তার, সানজিদা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, মাহমুদা আক্তার, তহুরা, তাসলিমা ও মারিয়া মান্দা।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার হাসি এনে দেয়ার পর এবার কলসিন্দুরের মেয়েদের হাত ধরেই আরেকটি সাফল্য পেল বাংলাদেশ। শনিবার সন্ধ্যায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী চাইনিজ তাইপেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। আর সেখানেও দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেয় ময়মনসিংহের মেয়েরা। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে কলসিন্দুরের মেয়ে শামসুন্নাহার জোড়া গোল করে দলের জয়ে দারুণ অবদান রাখেন। পেনাল্টি থেকে দুই গোল করে বাংলাদেশকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বের টিকেট পাইয়ে দেন ময়মনসিংহের এই কিশোরী। এর আগে কিরগিজস্তানের বিপক্ষেও জোড়া গোল করেন কলসিন্দুরের এই মেয়ে। ময়মনসিংহের আরেক মেয়ে মার্জিয়া চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে গোলের দেখা না পেলেও গ্রুপ পর্বে দুই গোল করে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত দলের টিকেট পাইয়ে দিতে দারুণ ভূমিকা পালন করেন। কলসিন্দুরের অপর দুই মেয়ে তহুরা ও মারিয়াও গোলের দেখা পেয়েছেন। দু’জনই করেছেন একটি করে গোল। এর আগে নেপাল এবং তাজিকিস্তান থেকে শিরোপা জেতার পেছনে কলসিন্দুরের মেয়েদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ছোট্ট গ্রাম কলসিন্দুরে ভোর হয় ফুটবলের শব্দে। বিশেষ করে এই এলাকার অদম্য মেয়েরা নিয়মিত ফুটবল খেলে। চর্চা করে। সেই মেয়েরাই নান্দনিক ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে সবার নজর কেড়েছেন। ময়মনসিংহ জেলা শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে দুর্গম কলসিন্দুর গ্রামটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে দৃষ্টিনন্দন। ময়মনসিংহ থেকে তারাকান্দা হয়ে ধোবাউড়া উপজেলায় যেতে হয়। ধোবাউড়া থেকে কলসিন্দুর গ্রামে যেতে গারো পাহাড়ঘেরা এ গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ আর নদী মুগ্ধ করবে যে কাউকেই। হয়তো বা এ নির্মল প্রকৃতিই মেয়েদের বড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আর মেয়েদের এ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের সামর্থ্য উজাড় করে দিয়েছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলো। জেলার বাইরে খেলার সময় আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন তারা। মাঠ মাতানো এ মেয়েদের বেশির ভাগ পরিবারেরই মাথা গোঁজার ঠাঁই ছাড়া আর কিছু নেই।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের কিশোরীরা বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবল শিরোপা জয়ের মাধ্যমে গর্বিত করেছেন দেশকে।

বাংলদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল দল কাঠমান্ডুতে আয়োজক নেপালকে ১-০ হারিয়ে জিতে নেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া) শিরোপা। শিরোপা জয়ের নেপথ্যে ছিল কলসিন্দুরের মেয়েরা। কারণ ১৮ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশের স্কোয়াডে দশজনই ছিল কলসিন্দুরের মেয়ে। এদের সবাই নিম্নবিত্ত ঘরের সন্তান। ফুটবলকে ঘিরেই তাদের স্বপ্ন। শুরুটা ২০১১ সালে। কলসিন্দুর গার্লস হাই স্কুলের গেমস টিচার মফিজউদ্দিন তার স্কুলের মেয়েদের নিয়ে গঠন করেছিলেন একটি ফুটবল দল। লক্ষ্য বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ড কাপে অংশ নেয়া। তখন তিনি হয়তো ভাবতেও পারেননি তার মেয়েরা শুধু দেশ নয়, বিদেশের মাটিও কাঁপিয়ে আসবে। ২০১১ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ড কাপের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয় কলসিন্দুর। চূড়ান্ত পর্বে অবশ্য সাফল্য পায়নি। ২০১২ সালেও একই দশার পর ২০১৩ সালে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কলসিন্দুরের মেয়েদের। ২০১৩ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ড কাপের শিরোপা জয় করে নেয়।

এরপর জয় করে প্ল্যান বাংলাদেশ কর্তৃক সারাদেশে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা। এখানেই শেষ নয়। ২০১৪ সালে ফের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা গোল্ড কাপের শিরোপা জেতেন তারা। এরপর তারা আবির্ভূত হন জাতীয় পর্য়ায়ে। ময়মনসিংহ জেলাকে চ্যাম্পিয়ন করেন। সারাদেশ জেনে যায় কলসিন্দুরের মেয়েদের কথা।

অনূর্ধ্ব-১৪ দলে কলসিন্দুরের যে দশ জন মেয়েছিল তারা হলেন সানজিদা আকতার, মারজিয়া আখতার, মারিয়া মানডা, মাহমুদা আকতার, লোপা আকতার, নাজমা আকতার, শিউলি বেগম, শামসুন্নাহার, তসলিমা বেগম ও তহুরা অকতার। ফুটবল শৈলীতে তারা এতটাই এগিয়ে যে এই দশ জনের পাঁচজন আবার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়েও খেলে ফেলেছেন।

নেপালের মাটি থেকে শিরোপা জয়ের সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশের মেয়েরা তাজিকিস্তান থেকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে। এ নিয়ে টানা দু’বার এ শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের অ্যাভিয়েটর স্টেডিয়ামে ১ মে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতা মার্জিয়া-তহুরারা সেমিফাইনালে স্বাগতিক তাজিকিস্তানকে ৯-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে বাংলাদেশের পক্ষে তহুরা হ্যাটট্রিক করার গৌবর অর্জন করেন। অপর গোলটি করেন অনুচিং মগিনি। ফাইনালে খেলার শুরুতেই অর্থাৎ প্রথম মিনিটে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তহুরা। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ ২-০ করেন অনুচিং মগিনি। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বিরতির পর ৫১ মিনিটে তহুরা গোল করলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৬৩ মিনিটে দলের পক্ষে চতুর্থ এবং নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা।

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতকে ৩-১ গোলে এবং নেপালকে ৯-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সামনে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি হিমালয়ের কন্যাখ্যাত নেপালের মেয়েরা। তহুরা-মার্জিয়ারা যেন নেপালকে গোলবন্যায় ভাসানোর সংকল্প করে মাঠে নেমেছিলেন। প্রথমার্ধে ৬-০ গোলে এগিয়ে থাকাই গোলবন্যার পূর্বাভাস। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন অধিনায়ক মার্জিয়া ও অনুচিং মগিনি। ম্যাচের শুরুতেই ২ মিনিটের মাথায় মার্জিয়ার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ ময়মনসিংহের ওই মার্জিয়া। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ছোটনের শিষ্যরা আরো গোলের নেশায় মরিয়া হয়ে পড়ে। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের মুহুর্মুহু আক্রমণে নেপালি মেয়েরা দিশা হারিয়ে ফেলে। ১৭তম মিনিটে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে এগিয়ে নেয় অনুচিং মগিনি। ২৮ মিনিটে আবারো লাল-সবুজের সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে ওই মগিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় আর দলের চতুর্থ গোলটিও করেন তিনি। মার্জিয়া আর মগিনির গোল করা দেখে নিজেকে আর সামলিয়ে রাখতে পারেননি বাংলাদেশ দলের আরেক গোলমেশিন সাজিদা খাতুন। ৩৩ মিনিটে দলের পক্ষে পঞ্চম ও নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। ৫-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও রিলাক্স মুডে খেলেনি ছোটনের শিষ্যরা। ৩৮তম মিনিটে বাংলাদেশ দলকে ৬-০ গোলে এগিয়ে নেন মগিনি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দল কিছুটা রিলাক্সে খেললেও ৬২ মিনিটে দলকে ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তহুরা খাতুন। আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান ৮-০ করেন ওই তহুরা। নিজের দ্বিতীয় আর দলের অষ্টম গোল করেন তহুরা। অধিনায়ক মার্জিয়া ৬৭ মিনিটে নেপালের জালে বল জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান ৯-০ করেন। ২০১৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এএফসি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ভুটানকে ১৬-০ গোলে হারানোর পর ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেমিফাইনালে এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ইরানের মেয়েদের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েরা ২-১ গোলে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে ইরানকে কোনোদিনই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। নেপালের মাটিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ইরানকে হারিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরাও উঠে আসছে।

২০ ডিসেম্বর থেকে ১ মে এই সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে নেপাল এবং তাজিকিস্তান থেকে দুই চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের কিশোরীদের এমন সাফল্য প্রমাণ করে বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলে এগিয়ে যাচ্ছে। নেপালে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে কলসিন্দুর মেয়ে মারিয়া, মার্জিয়া, সানজিদাসহ ১০ জন খেলোয়াড় ছিল কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। পরেরবার মার্জিয়ার নেতৃত্বে তহুরাসহ কলসিন্দুরের আটজন খেলেছে তাজিকিস্তানে। পুরো টুর্নামেন্টে ১০ গোল করে তহুরা একাই হারিয়ে দেয় ভারত, নেপাল ও তাজিকিস্তানকে। সর্বোচ্চ গোলদাতা ও ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতে সে।