বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন মাত্রা

২৯ আগস্ট (২০১৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধনকে নতুনভাবে জাগ্রত করেছে। কেরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের মন্ত্রী। শান্তিতে নোবেলজয়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চার বছর আগে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তার সমর্থকরা খুশি হয়েছিল। গণতন্ত্রকামী মানুষের সপক্ষের শক্তি তিনি। গত এক দশকে বাংলাদেশ কৌশলগত ও নিরাপত্তার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নৌ-নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওবামার মতো যুক্তরাষ্ট্রের একটি উদার ও নমনীয় প্রশাসন বাংলাদেশকে বাড়তি স্বস্তি দিয়েছে। আগের টার্মে তার ঐতিহাসিক ‘কায়রো স্পিচ’ সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের মুসলমানদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে ও মানবাধিকার সমুন্নত করতে তার দল ডেমোক্রেটরা বেশি আন্তরিক। মূলত সুস্থ বিশ্বব্যবস্থা, গণতন্ত্র, আদর্শ কূটনীতি ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন বারাক ওবামা। ওবামার দল অভিবাসীদের প্রতি নমনীয় ও উদার। এ জন্য অভিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। এ কথা সত্য, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনসংক্রান্ত নানা পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিকে নানাভাবে প্রভাবিত করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। গত আট বছরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলেও জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। গত বছরগুলোতে বাংলাদেশ যেসব বাণিজ্যিক সুবিধা চেয়েছিল তা আদায় সহজতর হয়নি। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোটা দাবির বিষয়টিও ইতিবাচক হয়নি। অথচ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিবিড় হওয়ায় আগে দেখা গেছে, সেখানে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে এ দেশেও মন্দা দেখা দেয়। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও হানাহানিমুক্ত একটি কল্যাণময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করার যে অঙ্গীকার ওবামার মধ্যে ছিল তা বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারও লালন করে। তবে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্তৃত্ব পরিবর্তন এবং যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কিছু দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে সেই দূরত্ব কমে আসে। হিলারি কিনটনের পর জন কেরির প্রশাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সফরে সেই চিত্রই প্রকাশ পেল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের সমস্যাগুলো ব্যাপক। বেকারত্ব, ঋণগ্রস্ততা, স্বাস্থ্য সুবিধার সংকট, বৈষম্য, যুদ্ধব্যয় এসব প্রসঙ্গ প্রায় আলোচিত হয়। বলা বাহুল্য, আমেরিকায় বর্তমান অবস্থাতেও প্রায় তিন কোটি মানুষ কখনো না কখনো অনাহারে থাকে; ৪.৭ কোটি মানুষ চিকিৎসা বীমার বাইরে। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও উসকে দিয়েছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা, ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা এখন আগামী প্রেসিডেন্টের অন্যতম কাজ। নির্বাচনের প্রচারণায় দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যেই গণতান্ত্রিক ও সহনশীল আচরণ লক্ষ করা গেছে। ভোটারদের চূড়ান্ত রায়ের আগেই রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ এসেছে। অন্যদিকে হিলারি এগিয়ে আছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে মার্কিন ভোটাররা সব সময়ই উগ্রপন্থি অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে রাজনীতির সহনশীলতার পথকে উš§ুক্ত করে। ওবামার আমলে আমেরিকা তার নিজস্ব গন্তব্য নির্ধারণের অধিকার পায়। আমেরিকানরা যুদ্ধ ও হতাশাকে জয় করে। এখন প্রত্যেককে নিজ নিজ স্বপ্নের পথে নিয়ে যাওয়ার সময়। আমেরিকা এখন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের দিক থেকে বিশ্বে নেতৃত্বস্থানীয়। এর ফলে ভালো সব চাকরি ও নতুন নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে সেখানে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা বিবেচনায় আমরা প্রথমেই বলতে পারি প্রথম টার্মে ওবামা এশিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ফলে চিনও উদ্বিগ্ন হয়েছিল। ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরানের ওপর আরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করছেন। তবে সামরিক হামলার বিপক্ষে ছিল তার নীতি। আগের টার্মে সেনাবাহিনী নয়, পাকিস্তানের নাগরিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল; এখনো হবে। যদিও পাকিস্তান সরকারকে না জানিয়ে ইসলামাবাদের অদূরে অভিযান চালিয়ে আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে মালি থেকে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের নির্মূল করা এবং জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া ও সোমালিয়ায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের আগের মতোই তার সমর্থন আছে। বিশ্বময় শান্তি ও উন্নয়নে তার অবদান দ্বিতীয় মেয়াদে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কেরির সফর থেকে আমরা লক্ষ করলাম। ২০০১ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিলÑ ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তির সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্বের নীতির ভিত্তিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল সে সময়। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ইশতেহারে একইভাবে বলা হয়েছেÑ ‘বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এ জন্য জন কেরি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশের এগিয়ে চলার প্রশংসা করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন প্রশাসন কূটনৈতিক কারণে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সে সময় পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিবিড় ছিল আমেরিকার। উন্নয়নের স্বার্থে একাত্ম সেই আমেরিকা ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সমর্থন জানিয়েছিল। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখ-েই একাত্তরে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। প্রভাবশালী আইনজ্ঞ সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, কবি বব ডিলান, বিল প্রিসটন নিক্সন প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত গড়ে তুলেছিলেন। জর্জ হ্যারিসন ও রবিশংকরের নেতৃত্বে একাত্তরের আগস্টে নিউইয়র্কে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় এবং ৪০ হাজার মানুষকে একত্রিত করেছিল সেদিনের সেই অনুষ্ঠান; যা পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে যায়। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সর্বপ্রথম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭২ সালের জুনে ঢাকায় জাতিসংঘ তাদের স্থায়ী অফিসকে ঢেলে সাজায়। ১৯৭৪ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য দেয় জাতিসংঘ। একই বছর বঙ্গবন্ধু ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এর পর সে বছরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ঢাকা সফর করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনিরা সোভিয়েত ইউনিয়নকেন্দ্রিক বঙ্গবন্ধুর সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের স্থলে গড়ে তোলে মুক্তবাজার অর্থনীতির শোষণের নীতি। ১৯৮৩ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকে। ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিল কিনটন রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন। ২০০১ সালে শেখ হাসিনাও রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে একত্রে এক সভাতে বসান। দুই নেত্রী শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অঙ্গীকার ঘোষণা করেন। যদিও ২০০১-এর নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বিএনপি-জামায়াত জোটের কুখ্যাতিকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ একত্রে বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করেছে। ইরাকের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য ‘ওপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’-এ কুয়েতের স্বাধীনতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছে এ দেশ। বর্তমানে উভয় দেশের সম্পর্কে তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ইসলামি জঙ্গি দমনে নিবিড়ভাবে কাজে যুক্ত। এ ছাড়া প্রতিবছর বৈদেশিক সাহায্যের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসে। যদিও বর্তমান সরকারের আমলে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে এসেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমেরিকার সাহায্য পেয়েছি আমরা। ১৯৯১ ও ২০০৭ সালের সাইকোন ও সিডর আক্রান্ত অঞ্চলে ইউএস মেরিন সেনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্গতদের সাহায্য দেওয়ার জন্য একত্রে কাজ করেছে। ২৯ আগস্ট (২০১৬) পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশ সফরে এসে উভয় দেশের উন্নয়নের অংশীদারিত্ব বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ৯/১১-এর টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পরও বাংলাদেশে প্রধান সাহায্যদাতা দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। বিশেষত, আগেই বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের সহায়তা পেয়েছি আমরা। একটি মধ্যপন্থি মুসলিম দেশ হিসেবে জঙ্গিবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বর্তমান সরকারকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে তাদের পরামর্শ তৎকালীন সরকারের কাজে লেগেছিল। এক লাখ পঞ্চাশ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ কারণে দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিবিড়। সত্তর-আশির দশকে শুরু হলেও নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। নিউইয়র্ক সিটি, পাটারসন, নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, আটলান্টা, শিকাগো, ডালাস, মিয়ামি, মিশিগান প্রভৃতি স্থানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি। জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইট এখন খ্যাত হচ্ছে বাঙালিদের কারণে। এদের মধ্যে অনেকেই অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিচিত। অধিকাংশ বাংলাদেশি ট্যাক্সিকাব ড্রাইভার কিংবা ব্যবসায়ী হলেও তারাই ১৯৯৭ সাল থেকে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রবাসে তুলে ধরছে। ব্যাংক, দোকান, ফার্মেসিসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক বাংলাদেশিরা। এ জন্য দু’দেশের সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জন কেরিকে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরালো হবে।’ আগামী দিনগুলোতে আমাদের দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও জোরদারের অপেক্ষায় আমরা। আমরা মনে করি আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্ব এগিয়ে যাবে; জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন; মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করবে। জন কেরি পৃথিবীর অপর প্রধান ব্যক্তির সঙ্গে শেখ হাসিনাকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আমরা আশা করছি। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুদেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করবে। মার্কিন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জনগণের স্বার্থরক্ষায় কাজ করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়