শহরে অতিদারিদ্র্যের হার কমেছে

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার ২৩ থেকে কমে ৫-এ নেমে এসেছে। সরকারি-বেসরকরি নানা উদ্যোগের ফলে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার কমেছে বলেও বেসরকারি সংস্থা দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) ‘সিঁড়ি’ প্রকল্পের আওতায় একটি গৃহস্থালি জরিপে উঠে এসেছে। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া ‘সিঁড়ি’ প্রকল্পের সমাপ্তি উপলক্ষেই রোববার জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন বলেন, শহরে দারিদ্র্যের হার ১৯৯১ সালে ৪৩ ভাগ ছিল। ২০১৬ সালে তা ১৪ ভাগে পৌঁছেছে। আর এখন অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছে মাত্র ৫ ভাগ, যা ১৯৯১ সালে ছিল ২৩। জাতিসংঘের হিসাবে এ অঙ্ক ৩ শতাংশে পৌঁছলে শহরে অতিদরিদ্র শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে ধরে নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বলা যায় এ হার শূন্যের কোঠার কাছাকাছি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে এ অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবসান ঘটনো সম্ভব।
জরিপের মেয়াদকালে প্রায় ৮ বছরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০ হাজার বস্তিবাসীকে প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের প্রভাব দেখতে ২০১১ সালে একটি জরিপ পরিচালনা করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন। ৪ বছর পর প্রকল্প মেয়াদের শেষের দিকে তার নেতৃত্বে আরেকটি জরিপ করা হয়। ঢাকার মিরপুর, কড়াইল, কামরাঙ্গীরচর, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বস্তিবাসীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানান ডিএসকের সহ-সভাপতি নারীনেত্রী আয়েশা খানম।
বিনায়ক সেনের মতে, সাময়িকভাবে দারিদ্র্য দূর করলে তা অগ্নিকা-, উচ্ছেদ, দুর্যোগ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আবার ফিরে আসতে পারে। এর সঠিক সমাধান বা স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে। দারিদ্র্যের একটি সূচক হচ্ছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ক্যালরির উপস্থিতি। কিন্তু জীবনে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আরও অনেক মৌলিক চাহিদা থাকে। ‘সিঁড়ি’ প্রকল্পে দৃশ্যমান সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১১ সালে মধ্য পর্যায়ের জরিপেই দেখা গেছে, সাধারণ দরিদ্র মানুষের তুলনায় প্রকল্পের আওতায় থাকা দরিদ্র মানুষের কনজাম্পশন (ভোক্তা চাহিদা) ক্ষমতা ৪৭ শতাংশ বেশি ছিল। ৪ বছর পরের জরিপে সে প্রবণতা আরও ইতিবাচক হয়েছে। প্রকল্পের কিছু ব্যর্থতা তুলে ধরে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আবাসন ব্যবস্থায় কোনো উন্নতি পাইনি। গৃহস্থালির পণ্যে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাসস্থানের উন্নতি না হলে সার্বিক উন্নতি বলা যায় না। তিনি বলেন, দরিদ্র সমাজে মজুরি বাড়ায় মানুষের অবস্থার যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি বাড়তি মজুরির কারণে ছেলে শিশুদের স্কুল ছাড়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তারা দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার জন্য স্কুল ত্যাগ করতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় রকমের অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হবে। এজন্য বস্তি এলাকায় উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা চালু থাকা দরকার।