বিএসএমএমইউতে হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি সুপার স্পেশালাইড হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে কোরিয়ান পরামর্শক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালট্যান্সি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত আন সং-ডু বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যেই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো হবে।
বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের পেছনে নিজস্ব ৩ দশমিক ৮২ একর জমিতে দেশের প্রথম সেন্টার-বেজড এ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। অত্যাধুনিক এ হাসপাতালে মোট ১১টি সেন্টার থাকবে। সেন্টারগুলো হলো কার্ডিওভাসকুলার, কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড অ্যান্ডোক্রাইনোলজি, এক্সিডেন্টাল ইর্মাজেন্সি, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, অনকোলজি উল্লেখযোগ্য। হাসপাতালটি নির্মিত হলে এসব সেন্টারে সংশ্লিষ্ট রোগের যাবতীয় চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে এবং জনসাধারণ দেশেই সুলভে সর্বোচ্চ মাত্রার স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। পাশাপাশি বিএসএমএমইউর বর্তমান অবস্থার আরও উন্নতি হবে। প্রকৃতপক্ষে এ হাসপাতালটি নির্মিত হলে বাংলাদেশে প্রথম সেন্টার-বেজড সুপার স্পেশালাইজড-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শুরু করা সম্ভব হবে।
বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, বিএসএমএমইউর অধীন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি বড় স্বপ্ন পূরণ হবে। এ হাসপাতাল হবে দেশের সব মানুষের সম্পদ। দেশের মানুষ এখান থেকে সুলভে সর্বোচ্চ মাত্রার স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করতে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নামের এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেন। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরীয় সরকারের ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড থেকে সহজ শর্তে ১ হাজার ৪৭ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। অত্যন্ত সহজ শর্তে মাত্র দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সুদে ৪০ বছরের মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রথম ১৫ বছর ঋণের কোনো টাকা পরিশোধ করতে হবে না। পরবর্তী ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া (স্বপন), কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ আলী আসগর মোড়ল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল হান্নœান, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জুলফিকার রহমান খান, দক্ষিণ কোরিয়ান কনসালট্যান্সি টিমের প্রধান মি হ্যান, প্রকল্পের উপপরিচালক ডা. নূর-ই-এলাহী (মীম) প্রমুখ।