শিবগঞ্জ পৌরসভায় ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ নামে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা চালু করা হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভায়। এই অটোরিকশাটি দিয়ে বিশেষভাবে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হয়েছে। এ অ্যাম্বুলেন্সে পৌর এলাকার জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীরা বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে আসা-যাওয়ার সেবা পাবেন।
১৫ জুলাই শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাংবাদিক তৌহিদুর রহমার মানিক তার পৌরসভায় এই সেবা চালু করেন। তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ পর্যন্ত পৌর এলাকার প্রায় ১০টি পরিবারকে বিনামূল্যে এ সেবা দেয়া হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি করতে মোট ব্যয় হয়েছে তিন লাখ টাকা। এতে কোনো তেল-মবিল লাগবে না। অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যাটারি দিয়ে চালিত, যা বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ হবে। একবার চার্জ দিলে চলবে দেড়শ’ কিলোমিটার। এজন্য পৌরসভা একজন অস্থায়ী চালকও নিয়োগ দিয়েছে। যার ডিউটি ২৪ ঘণ্টা। নাম দেয়া হয়েছে ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’। সেøাগান দেয়া হয়েছে ‘সেবা নিন, সুস্থ থাকুন’।
অ্যাম্বুলেন্স প্রসঙ্গে মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, পৌর এলাকার কোনো অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগী যেনো অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে চিন্তা থেকেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সেবা দেয়া হবে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। পৌর এলাকার যেকোনো নাগরিক এ সেবা পেতে পারেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ‘মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামীতে আরো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ইচ্ছে আছে। জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রথম শিবগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩৯টি পাড়া নিয়ে গঠিত পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
অ্যাম্বুলেন্সের চালক মাসুদ রানা বলেন, এ পর্যন্ত ১০টি পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে এক নারী রোগীকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে আনা-নেয়া করা হয়েছে। এ সার্ভিস চালু হওয়ায় পৌর এলাকার মানুষ দারুণ খুশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল-মানসুর মুছা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে বিকল। ওপর মহলে অনেক লেখালেখি করেও মেরামত করা যায়নি। সেক্ষেত্রে মেয়র মহোদয়ের ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এতে করে পৌর এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এতে পৌর নাগরিক উপকৃত হবেন।’
থানা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, ‘গরিবের জন্য তার এ ভালোবাসা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’ ভবিষ্যতে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে তিনি আরো গণমুখী সেবা চালু করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রহমান বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ের উদ্যোগটি খুবই ভালো। আগামীতে উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা করবে মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’