‘ঢাকা চাকা’ সাধুবাদ পাওয়া গণপরিবহন

গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকার সড়কে নেমেছে গণপরিবহন ‘ঢাকা চাকা’। সুফলও পেতে শুরু করেছে রাজধানীর এই অভিজাত এলাকার সার্কেলে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। চারটি এলাকা ঘিরে পাঁচটি কাউন্টারে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে এই সার্ভিস। প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্তর গাড়ি পাওয়ায় যাত্রীদের মুখে এই উদ্যোগের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। রাজধানীর রাজপথে চলা অন্যান্য গণপরিবহনের তুলনায় বাসের পরিবেশ আর স্টাফদের আচরণে যাত্রীরা মুগ্ধ। একাধিক যাত্রীর সঙ্গে আলাপ ও বাসে অবস্থান করে এমন ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশানের শ্যুটিং ক্লাবসংলগ্ন কাউন্টারে বসে আছেন দায়িত্বরত শেখ মিরাজ হোসেন। বাসের যাত্রী কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাসগুলো নিয়মিত থাকায় যাত্রীরা বেশ খুশি। এই সার্ভিস নিয়ে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করছে। সার্ভিসটি সদ্যই চালু হয়েছে। সে জন্য এই পরিবহন ও কাউন্টার পয়েন্টগুলোর তথ্যও সবাই এখনো জেনে উঠতে পারেনি। তাই যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক একটু কম। তার পরও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া যাত্রীর চাপ মোটামুটি ভালো থাকে।’ মিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। কোনোভাবেই যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারিও রয়েছে। ঢাকা চাকা পরিবহনের চালক আবু সাঈদের সঙ্গে কথা হলো গুলশান ১ নম্বর গোল চত্বরে। বললেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট হলো সময়মতো গাড়ি কাউন্টারে পৌঁছানো। চেষ্টা করি প্রতি ১০ মিনিট পর পর কাউন্টারে যেতে। তবে যানজট থাকলে সময় একটু বেশি লেগে যায়। আরো ১০টি গাড়ি নামানোর পর এ সংকটও আর থাকবে না।’ জানা যায়, গত ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর গুলশান ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার পর থেকে গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় নাগরিকদের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে এসব এলাকায় নতুন করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ও বিশেষ রিকশা নামানোর ঘোষণা দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। অবশেষে তা বাস্তবায়ন করা হলো। জানা যায়, গত বুধবার গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় চালু হয়েছে নতুন বাস ও রিকশা। বিশেষ রঙের রিকশা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নামানোর পাশাপাশি ওই এলাকায় নিরাপত্তা প্রহরীও নিয়োগ করা হয়েছে। বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা। দুটি রুটে ১০টি বাস ও চারটি এলাকায় ৫০০ রিকশা নামানো হয়েছে। বাসগুলো গুলশান পুলিশ প্লাজা কনকর্ড থেকে গুলশান ১ ও ২ নম্বর গোলচত্বর হয়ে বনানী এবং গুলশান নতুনবাজার থেকে শুরু হয়ে ২ নম্বর গোলচত্বর হয়ে বনানী পর্যন্ত চলছে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর পর ৩৫ আসনবিশিষ্ট এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ২০ আগস্ট আরো ১০টি বাস নামানো হবে বলে ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে এই বাসের পাঁচটি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। গুলশান শ্যুটিং ক্লাবসংলগ্ন, গুলশান ১ নম্বর গোলচত্বর, গুলশান ২ নম্বর, বাড্ডা নতুনবাজার ও কাকলী মোড়—পাঁচটি কাউন্টারে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল দুপুরে বাড্ডা নতুন বাজার থেকে টিকিট কেটে বাসে ওঠেন যাত্রী সাজেদুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘আমি বাড্ডা নতুন বাজার থেকে গুলশান আজাদ মসজিদ এলাকায় যাব। কাউন্টারে এসে দাঁড়াতেই তিন মিনিটের মধ্যে বাস পেয়ে গেছি। এই সার্ভিস আসার আগে যাতায়াতে অনেক কষ্ট হতো। কখনো হেঁটে আবার কখনো রিকশায় চড়া ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। এখন ১৫ টাকা দিয়েই সহজে যেতে পারছি।’ জানা যায়, ডিএনসিসির উদ্যোগে এই বাস সার্ভিসে সহযোগিতা করেছে গুলশান সোসাইটি, বনানী সোসাইটি, বারিধারা সোসাইটি ও নিকেতন সোসাইটি। প্রতিটি বাসের গায়ে ডিএনসিসি ও চারটি সোসাইটির লোগো ও নাম চোখে পড়ে। তাদের সহযোগিতায় এ বাসগুলো চলাচলের দায়িত্বে রয়েছে নিটল নিলয় গ্রুপ। চালক ও কাউন্টারের লোকজনের পরনে থাকছে এই প্রতিষ্ঠানের লোগো ও নামসংবলিত পোশাক। এদিকে বাসের পাশাপাশি নতুন রিকশাও নামানো হয়েছে ওই সব এলাকায়। গুলশানে ও বনানীতে ২০০টি করে এবং বারিধারা ও নিকেতনে ৫০টি করে রিকশা নামানো হয়েছে। এসব রিকশার ভাড়া ও চলাচলের নিয়মও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রিকশাচালকদের গায়েও রয়েছে নির্দিষ্ট জ্যাকেট। এসব রিকশা ছাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় অন্য রিকশা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে ওই সব এলাকার রিকশা গ্যারেজ মালিকদের কাছে মৌখিকভাবে এই নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গতকাল একাধিক রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুলশান ২৯ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক আকবর হোসেন জানান, আসছে কোরবানির ঈদের পর থেকে আর বাইরের রিকশা এসব এলাকায় চলতে দেবে না কর্তৃপক্ষ।