‘নিজেকে সফল মনে হয়’

রোকসানা আক্তার, ৩০ বছর বয়সী এই নারী অনেক প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে আজ একজন সফল উদ্যোক্তা। ঢাকার অদূরে সাভার বাসস্ট্যান্ডে তিনি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির একটি কারখানা গড়েছেন। সেখানে এনার্জি বাল্ব থেকে শুরু করে সুইচ, সকেট, ইনডিকেটর, কাট আউটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম আর এস ইলেকট্রনিকস লিমিডেট। আর উৎপাদিত পণ্যের নাম হ্যাভেন।
রোকসানা আক্তার ঢাকার রায়েরবাজারের ইউসেপ টেকনিক্যাল স্কুল থেকে বৈদ্যুতিক বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন। তবে সেটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন রোকসানার পরিবার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে চলে যায়। কিন্তু পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে ভেবে তাঁদের সঙ্গে যাননি ছোট্ট রোকসানা। মাকে রাজি করিয়ে থেকে যান ঢাকাতেই। সেই বয়সেই বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের খরচ জোগাড় করতেন। বারবার ছেদ হলেও পড়াশোনাটা চালিয়ে যাচ্ছেন রোকসানা। তিনি এখন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে পড়ছেন।
২০০৯ সালে বিয়ে হয়। স্বামীকে স্বপ্নের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সেও ইলেক্ট্রিকসের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আমার আইডিয়া তার ভালো লাগে। আমার জমানো টাকা আর স্বামীর জমি বিক্রির টাকা দিয়ে শুরু করি ব্যবসা। ২০১০ সালে ছোট একটি কারখানা দেই। শুরুতে সেখানে শুধু এনার্জি বাল্ব উৎপাদন করতাম।’
রোকসানা ব্যবসার শুরুতেই আত্মীয়স্বজনসহ কাছের মানুষদের সমালোচনার মুখেও পড়েন। তবে সমালোচনা বা প্রতিকূলতা—কোনো কিছুতেই দমে যাননি তিনি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া ভাগের জমি বিক্রি করে বিনিয়োগ করেন। আস্তে আস্তে ব্যবসাটি দাঁড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘বাবা–স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছি বলেই যুদ্ধটা অনেক সহজ হয়েছে।’
রোকসানা অফিসে যাওয়ার আগে এবং অফিস থেকে ফিরে কারখানায় বসতেন। এ বছরের শুরুতে ছেড়ে দেন চাকরি। তাঁর অধীনে কাজ করেন ৩৭ জন। এর মধ্যে কারখানায় সাতজন আর পণ্য বাজার জাতকরণে ৩০ জন।
রোকসানা বলেন, ‘আমি জানি আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে। অনেক কষ্ট করতে হবে। তবেই না আমার পণ্যটি হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম ব্র্যান্ড। তবে এখন পর্যন্ত নিজেকে সফল মনে হয়।’