মুসাপুর ক্লোজার সৈকত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট ফেনী নদী। এখানেই ডিঙি নৌকা আর ঢেউয়ের মিতালি। দুই নদীর কূলঘেঁষা সবুজ বনায়ন। পশ্চিমে সোনালি ফসলের মাঠ।

সম্প্রতি নদীর মোহনায় নির্মিত ক্লোজারের (বাঁধ) পাশে নতুন ডাকাতিয়া, পুরনো ডাকাতিয়া ও ছোট ফেনী নদী নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় খনন করা মাটির স্তূপের কৃত্রিম পাহাড়। আশপাশের পাকা-কাঁচা সড়কগুলোর দুপাশে সারিবদ্ধ গাছ।

এক কথায় অপরূপ সৌন্দর্য মিন্তুত এ এলাকাটি ‘মুছাপুর ক্লোজার সৈকত’ নামে পরিচিত। দর্শনার্থীদের কাছে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এটি। নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মনোরম প্রকৃতির টানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে ছুটে আসেন। ক্লোজারের দুই পাশে আছে পাথরের গাঁথুনি, পাশে মুছাপুর রেগুলেটর।

পাথর ও রেগুলেটরে বসে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন এ প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা। গত বছরও নদীর ভাঙনে এখানকার ভিটেমাটি বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের দাবির মুখে এখানে ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। ফলে সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে সকাল থেকেই নামে মানুষের ঢল। মানুষের সমাগমের কারণে মুছাপুর ক্লোজার এলাকা থেকে পশ্চিম-উত্তরে বাগতারা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটারেরও বেশি যানজট লেগে থাকে।

ছোট ফেনী নদীর ওপর উত্তর-দক্ষিণমুখী নির্মিত বাঁধের (ক্লোজার) দুপাশে পাথর গেঁথে দেওয়া হয়েছে। ক্লোজারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে বন বিভাগের বনায়ন। দক্ষিণে বামনিয়া নদীর সঙ্গে পুরনো ডাকাতিয়া, নতুন ডাকাতিয়া ও ছোট ফেনী নদীর পানি সরবরাহের জন্য নির্মিত রেগুলেটর।

পশ্চিমে বাগতারা বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত পাকা সড়ক। দুই পাশে সারিবদ্ধ ঝাউ গাছ। পশ্চিমে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। পানি যাতায়াতের জন্য খনন করা মাটির স্তূপে নির্মিত কৃত্রিম পাহাড়। এসব নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যই টেনে আনছে দর্শনার্থীদের।

নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা বেড়াতে আসছেন এখানে। যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে উন্নত হোটেল-মোটেল নির্মাণ হলে এখানে রাতেও থাকতেন দর্শনার্থীরা। এসব ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার আগেই স্থান ত্যাগ করতে হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী থেকে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সজীব কিছুদিন আগে ফেসবুকে বন্ধুদের দেওয়া পোস্ট ও ছবি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তাই সহপাঠীদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। নোয়াখালীতে ঘোরাঘুরির তেমন জায়গা নেই। এখানে এসে ভীষণ ভালো লেগেছে। কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে স্থানটিকে

পরিকল্পিতভাবে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটন এলাকায় রূপান্তর করতে পারলে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসবেন। এতে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো মজবুত হবে। এরই মধ্যে হাজার মানুষের ঢল ক্লোজার এলাকাকে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল-মোটেল নির্মাণসহ দর্শনার্থীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ এলাকা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

দেশের যে কোনো স্থান থেকে ফেনীর দাগনভূঞা কিংবা নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট আসা যায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে খুব সহজে এখানে আসা যায়।

এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানালেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। কোম্পানীগঞ্জ সংসদীয় আসনের সদস্য সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এরই মধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

প্রতিদিন মানুষের সমাগম ও এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য প্রশাসনেরও নজরে পড়েছে। এ এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় কিনা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।