মজিদের মায়ের হাতে ল্যাপটপ

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নতুন কিছু গ্রহণ করার ক্ষমতা অনেক_ এভাবেই বলছিলেন প্রবাসে থাকা এক বাংলাদেশি। কেন এ ক্ষমতা_ এর উত্তরে তিনি বলেন, তারা এটা করে নিজের প্রয়োজনে। তারা বেশি বুঝতে চায় না। বেশি হিসাবে যেতে চায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন দরিদ্র লোক কিংবা নিম্নবিত্ত মাথা ধরলে অ্যাসপিরিন বা নাপা অথবা প্যারাসিটামল খেয়ে নেবে। তারা জানে, মাথাব্যথা সারানোর জন্য ডাক্তারের অপেক্ষায় থাকা চলবে না। তাকে কাজ করতে যেতে হবে। কাজ করে মজুরি পেলেই কেবল পরিবারের সদস্যদের খাবার জুটবে। কিন্তু বিত্তবান, যথেষ্ট লেখাপড়া জানে এমন কারও মাথা ধরলে চিন্তায় পড়ে যাবে_ কোন ওষুধটি খেলে কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তার সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরেই এসেছিল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রসঙ্গ। কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংকের হিসাব খোলার প্রসঙ্গ। ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালে তার সঙ্গে গিয়েছিলাম শেরপুরে। উপলক্ষ ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে একদল শহীদের পরিবারকে ট্রাস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি। সেখানেই শুনি কৃষকদের কাছে ব্যাংক সেবা পেঁৗছে দেওয়ার জন্মবৃত্তান্ত।

শেরপুর জেলার একটি আসনের সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। মন্ত্রী হওয়ার আগে ও পরে তার জীবনযাপনের ধারায় কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। সমকালের একটি লেখার বিষয়ে এক সকালে কথা বলার জন্য তার রমনা অ্যাপার্টমেন্টের বাসায় গেলে আমার বসার জায়গা হয় তার ডাইনিং কাম ড্রইংরুমে। এক কোনায় খাবার টেবিল, আরেক অংশে তিন-চারটি চেয়ার। তিনি মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার আগে খেয়ে নিচ্ছিলেন। খাদ্য তালিকায় ভাত, পুঁটিমাছ ভাজা, শাক ও ডাল। বাংলাদেশে কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রসঙ্গ উঠেছিল শেরপুর সফরের সময়। ঢাকায় নিজের বাসায় কিংবা গ্রামে কিংবা অন্য কোথাও সফরে গেলে তার জীবনধারায় কোনো পরিবর্তন ঘটে না। আতিউর রহমান বলেছিলেন, কৃষক-দিনমজুরদের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া ব্যাংকের জন্য আপাতভাবে লাভজনক কিছু নয়, বরং লোকসানের। একটি হিসাব খুলতে যে পরিমাণ কাগজ ব্যয় হয় তার দামও ১০ টাকার বেশি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী চাইছিলেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে। সরকার কৃষকদের মাঝেমধ্যে যে সাবসিডি দেয় সেটা যায় এই ব্যাংকিং চ্যানেলে। এখন হয়তো কৃষকরা ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা জমা রাখতে পারে না। কিন্তু একদিন তাদের জীবনেও সচ্ছলতা আসবে। এ জন্য তাদের ফসলের ন্যায্য দাম দিতে হবে। বন্যা, খরা বা অন্য কোনো কারণে ফসল নষ্ট হলে তারা যেন বীমার অর্থ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সন্তানদের পড়াশোনার সুব্যবস্থা করতে হবে। চাকরি দিতে হবে। তাহলেই তাদের ব্যাংক ব্যালান্স বড় হতে থাকবে। তারা নিজেদের বাড়ি পাকা করবে। কেউ কেউ গাড়ি কিনবে।

বাংলাদেশে এখন শিক্ষার্থী প্রায় ৫ কোটি। ১০-১৫ বছর আগেও কেউ কি এটা ভাবতে পেরেছিল? যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়, সেখানে পর পর কয়েকটি ঢিল ছুড়লে তার একটি নির্ঘাত কোনো না কোনো নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর মাথায় পড়বে। কারণ এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন অনেক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, যারা যত্রতত্র সাধারণ মানুষের মতো ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ান। আপনি ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় ঘুরলেই দেখবেন কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড। জেলায় জেলায় আছে তাদের ক্যাম্পাস। মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও অনেক। আবার সেই আশির দশকেই সরকারের নির্দেশ যায়_ প্রতি গ্রামেই গড়ে তুলতে হবে প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যালয়। স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণেও সরকার বাড়িয়ে দিয়েছে সহায়তার হাত। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সিদ্ধান্ত নেন_ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া হবে। দেখা গেল_ এখন প্রায় সাড় চার কোটি ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যের বই দিতে হয়। ধনী-দরিদ্র সবাই পাচ্ছে এ সুবিধা। যারা বস্তিতে থাকেন, যাদের গ্রামে জমিজমা নেই_ অন্যের দয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন_ তাদের সন্তানরাও এর ফলে সহজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সুযোগ সৃষ্টি হলেই কি সবাই পড়তে চায়? এ জন্য আগ্রহ চাই। পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি হবে, পরিবার ভালো থাকবে_ এমন আস্থা গড়ে ওঠা চাই। বহু বছর আমাদের ভাষায় প্রবাদ ছিল_ লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। দু’ভাবে এর ব্যাখ্যা করা যায়_ পড়াশোনা করলে ভালো চাকরি মেলে এবং তা থেকে গাড়ি-বাড়ি করা যায়। কিংবা এভাবেও বলা যায়, গাড়ি-বাড়ি যাদের আছে তারাই লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। কিন্তু এখন সবার জন্য শিক্ষার দুয়ার উন্মুক্ত। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান, বাসার ‘কাজের বুয়ার’ সন্তান, ড্রাইভারের সন্তান, পোশাক শিল্পের কর্মীর সন্তান

জিপিএ ৫ পাচ্ছে। এ এক নতুন ধরনের জাগরণ। শিক্ষার মান নিয়ে আমাদের উদ্বেগ-দুর্ভাবনা আছে। শিক্ষার নামে কিছু লোক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছে। তারা ফাঁদ পেতেছে মুনাফার। শিক্ষার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের প্রবল আগ্রহকে তারা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিলের কাজে লাগাচ্ছে। আমাদের শিক্ষা বাজেট তুলনামূলক কম। অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়নের সময় ঋণখেলাপিদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায় তার প্রতি যতটা মনোযোগী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধার প্রতি যেন ততটাই উদাসীন। কিন্তু তারপরও বলব_ এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের সব ছেলেমেয়ে জ্ঞানের আলোর কিছু না কিছু ছোঁয়া পাচ্ছে। তাদের কাছে এ আলো আরও বেশি করে পেঁৗছানো হচ্ছে এখনকার মস্ত চ্যালেঞ্জ। তারা যেন প্রকৃত শিক্ষা পায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে ওঠে_ সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আরও একটি চ্যালেঞ্জ আছে_ অর্জিত শিক্ষাকে কাজে লাগানো। এ জন্য চাই উন্নতি_ কৃষি, শিল্পে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে। সবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা কিংবা ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে। সন্ত্রাস বাড়বে। লেখাপড়ার সুযোগবঞ্চিত লোকদের চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখলে যত না বিপদ, তার চেয়ে ঢের বিপদ যদি উচ্চশিক্ষিতরা চাকরি না পায় কিংবা উপার্জনের জন্য নিজে কিছু করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। এ অবস্থায় সেই প্রবাদ সত্য হয়ে উঠবে_ লিখিব পড়িব মরিব দুঃখে, মৎস্য মারিব খাইব সুখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে একদল ছাত্রছাত্রী প্রশ্ন করেছিল_ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কেন এ যুগে এত ভাবনা? শিক্ষার প্রসার ঘটলে ও মান বাড়লে, সব মানুষ স্বাস্থ্যবান হলে জিডিপি কেন বাড়ে? উত্তরে বলি_ প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর আছে। শিক্ষার সঙ্গে শ্রমের উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক সরাসরি। উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে কৃষি-শিল্প-ব্যবসা যেখানেই তারা কাজ করতে যাবে, নিজের জানাটা উজাড় করে দেবে। তাদের ফল মিলবে ভালো।

একই সঙ্গে চাই সুস্বাস্থ্য। দুর্বল বা অসুস্থ কেউ কারখানায়, জমিতে কিংবা অফিসে গেলে তার ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে না। এ কারণে শিক্ষা বা স্বাস্থ্য যার যার নিজের মাথাব্যথা হওয়া উচিত নয়। ধনবানদের ভাবতে হয়, তার কর্মীর যথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে কিংবা ভগ্নস্বাস্থ্যের হলে আখেরে কারখানারই লোকসান।

শিক্ষার মতোই বাংলাদেশের মানুষ খুব সহজে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষার আলোকপ্রাপ্ত কিংবা সামান্য সুযোগপ্রাপ্ত সবাই সাড়া দিচ্ছে এ আহ্বানে। শুরুর দিকে কিছুটা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ যে হয়নি, সেটা বলব না। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে_ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে দেওয়া শেখ হাসিনার এ স্লোগান ছিল কত বাস্তব। পাকিস্তান আমলে বেতারে ‘মজিদের মায়ের আসর’ নামের একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল, যাতে কৃষি-স্বাস্থ্য-গ্রামীণ জীবনের কথা সহজ ভাষায় বলা হতো। মূল চরিত্র মজিদের মা। তাকে দিয়েই গ্রামের কৃষক-মজুর-নারীদের জন্য নানা পরামর্শ দেওয়া হতো। এ যুগের মজিদের মায়েদের কেবল বেতার যন্ত্র নয়, চাই ল্যাপটপ। তারা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক কিছু জানতে পারে এবং তা জানাতে পারে। এখন হাজার হাজার গ্রামে বসেই কেউ চাকরির দরখাস্ত করতে পারে কিংবা বিভিন্ন দেশের ভিসার জন্য আবেদনপত্র পূরণ করতে পারে। মাত্র পাঁচ বছর আগে কেউ কি ভাবতে পেরেছিল যে একটি দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের ছেলে বা মেয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজ করবে?

মোবাইল টেলিফোনও এখন হাতে হাতে। এতেও আছে ইন্টারনেট। একই সঙ্গে তা কাজ করছে ব্যাংকের। প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ লেনদেন হয় এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে। কেউ টাকা পাঠায়, কেউ গ্রহণ করে। কেউবা মোবাইলে টাকা জমা রাখে। কেউ বিল পরিশোধ করে। কেউবা বেতন-ভাতা পায় এ সুবিধা ব্যবহার করে। আপনি কারও কাছে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারেন। আর কেউ দিনে তুলতে পারে ২৫ হাজার টাকা। পোস্ট অফিসের সাহায্য নিয়েও আপনি টাকা পাঠাতে পারেন। একবারে পাঠাতে পারেন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। যত খুশি টাকা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠান, কোনো সমস্যা নেই। ব্যাংকের মাধ্যমেও আপনি লেনদেন করতে পারেন। আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে ৫ লাখ, ১০ লাখ বা এক কোটি কিংবা ১০ কোটি উত্তোলন করেন কিংবা অ্যাকাউন্টে যত টাকা জমা করেন_ কোনো সমস্যা নেই। ব্যাংক কেবল টাকার উৎস জানতে চাইতে পারে_ যাকে বলা হয়_ আপনার গ্রাহককে জানুন। ব্যাংকের তুলনায় মোবাইল ব্যাংকিং বরং গরিবের। আপনি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রাপকেরও একটি ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। কোনো রিকশাচালক কিংবা কারখানার শ্রমিক বা দিনমজুর ৫০ বা ১০০ টাকাও পাঠিয়ে দিতে পারেন স্ত্রী বা পিতামাতার কাছে। এতে ঝামেলা প্রায় নেই। এ কারণেই গরিব মানুষ এত সহজে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে নিয়েছে। এক সময়ে গ্রামীণ ব্যাংককে বলা হতো গরিবের ব্যাংক। এখন অনেকের কাছেই মনে হবে_ মোবাইল ব্যাংকিংই প্রকৃত অর্থে গরিবের ব্যাংক। তারা প্রতিদিন লেনদেন করতে পারছে। জরুরি প্রয়োজনে দিনে-রাতে যেখানে-সেখানে টাকা পাঠানো কিংবা টাকা গ্রহণের সুবিধা এভাবে সৃষ্টি হয়েছে। মেয়েকে হোস্টেলে থাকার টাকা পাঠাবেন, ঢাকায় সকালে রিকশা চালিয়ে গ্রামে মাকে দুপুরের চাল কেনার টাকা পাঠাবেন_ সমস্যা নেই। হাতের কাছেই আছে মোবাইল ফোন ও ব্যাংক। এ সুবিধার অপব্যবহার কেউ করতেই পারে। সে বিষয়ে সতর্ক থাকা চাই। যেমন অপব্যবহার হচ্ছে শিক্ষার সুযোগের। একইভাবে, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রসারে যেমন সরকার থেকে অনেক কিছু করা হচ্ছে, তেমনি কিছু লোক তো ক্লিনিক-প্যাথলজি নিয়ে ব্যবসাও ফেঁদে বসেছে।

এক দশক আগেও অনেকের কাছে মনে হতো_ দরিদ্র দেশ হিসেবে টিকে থাকাই বাংলাদেশের নিয়তি। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, উন্নত দেশগুলোর কিছু বিশেষজ্ঞ_ তারা সবাই আমাদের মনে করতেন পরামর্শ বিলানোর উপযুক্ত ক্ষেত্র। একাধিক বিশিষ্টজনের কাছে শুনেছি_ বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ করা কেবল কল্পনা বা স্বপ্নেই সম্ভব। এ দেশকে কোনোদিন ধনী দেশ হিসেবে তারা ভাবতে পারেননি। ধনী অবশ্যই থাকবে, তবে তাদের সংখ্যা হবে হাতেগোনা। আর থাকবে বিশাল এক দরিদ্র বাহিনী, যাদের দেখে করুণা করবে ধনবানরা। পদ্মা সেতু নিজের অর্থে করা যাবে, সেটা তারা ভাবতেই পারতেন না। কিন্তু সময় যে বদলে যাচ্ছে! জেগে উঠছে এখন নতুন বাংলাদেশ!