অদম্য বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

সন্ত্রাসী হামলা, সাইক্লোন, বিক্ষোভ, সমাবেশ কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে। গত কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দেশে বেশ কিছু সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার ঘটনা পোশাক শিল্পের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আতঙ্কে ছিল পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। তবে আশার কথা হচ্ছে শত বাধা বিপত্তি এড়িয়েও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প তার নিজের গতিতেই এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে বাংলাদেশের একজন অন্যতম রফতানিকারক কি হাক সুং। বাংলাদেশের সব ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গেই পরিচিত তিনি। বন্যা, সাইক্লোন, বিক্ষোভ-সমাবেশ এগুলো নিজের চোখেই দেখেছেন কি হাক। তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিই বিক্ষোভ, অগ্নিকাণ্ড, রাজনীতি, হত্যা, সন্ত্রাসী হামলার মত ঘটনার শিকার হয়েছে বের কয়েকবার।
কোরিয়ান কোম্পানী ইয়োংগনের একজন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নিজেও বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এতসব বাধা বিপত্তি স্বত্ত্বেও সব সময়ই উদ্যোমী ছিলেন তিনি। তার মত এমন বহু উদ্যমী মানুষের জন্যই আজ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বন্দর শহর চিটাগাংয়ে নিজের অফিস থেকে কি হাক বলেন, আমি বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছি। এখন এটাই আমার সংস্কৃতি। এদেশের আলো-বাতাসকে আপন করে নিয়েছেন কি হাক। নিজেকে এখন এদেশেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইয়োংগনের আয় ছিল ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং তার মোট লাভ ছিল ১২৯ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮শ’ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে বাংলাদেশের তিনটি পৃথক এলাকার প্রায় ৬৫ হাজার শ্রমিকের তৈরি পোশাক থেকে। বাকি আয় এসেছে এল সালভাদোর, ভিয়েতনাম এবং চীনের কিংদাও থেকে।
বিক্রীত পন্য থেকে গত বছর বাংলাদেশ ২৮ বিলিয়ন অর্থ আয় করেছে। এর মধ্যে ৮২ ভাগই এসেছে দেশের তৈরিকৃত পোশাক রফতানি করে। দেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী।
বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাক রফতানি করছে। এদেশে বহু বিদেশি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। বরাবরই বিদেশিরা ব্যবসায়ের জন্য এদেশের পরিবেশকে বেশ উপযোগী বলে প্রশংসা করে আসছেন।
গত মাসে রাজধানী ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় ভারত, জাপান এবং ইতালির বেশ কয়েকজন নাগরিকও নিহত হন। এতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে সেসব দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এর প্রভাব আমাদের দেশের পোশাক খাতে পড়তে পারে বলেও সেসময় আশঙ্কা করা হয়েছিল।
বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রথম দিকে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত সব কিছুই এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি নজরদারিতে রাখছেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সব ধরনের বাধা বিপত্তি কাটিয়ে আমাদের পোশাক শিল্প আরো এগিয়ে যাবে এমনটাই আশা করছে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।