ড্রাগনে আসবে অর্থ-পুষ্টি

নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিদেশি ফল ড্রাগনের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে যশোরে। প্রায় ২ বছর আগে লাগানো গাছে ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। অত্যন্ত সুদৃশ্য সেই ফল চাষিরা নিজেরা খাচ্ছেন, পাঠাচ্ছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, করছেন বিক্রি। অল্প জায়গায় দীর্ঘজীবী এ ফল চাষ করে কৃষক পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
যশোরের মনিরামপুরের প্রত্যন্ত এলাকা পলাশী। এ গ্রামের চাষিরাই বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন ড্রাগন ফলের চাষাবাদ। এ গ্রামের ১০ চাষি ক্ষেতে এবং ৫০ চাষি বাড়ির আঙিনায় ড্রাগনের চাষ করেছেন। সে গাছে কমলালেবু বা আপেলের মতো বড় বড় ড্রাগন ফল ধরেছে, যা প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ড্রাগন ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক ছয় হাত অন্তর ড্রাগন গাছ লাগিয়েছেন। এর ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে কেউ লাগিয়েছেন বেগুন, কেউবা পটোল ও পেঁপে গাছ। ড্রাগন গাছগুলো খুঁটি পুঁতে বেঁধে দেয়া হয়েছে। সেগুলো লম্বা হয়েছে ছয় থেকে আট ফুট পর্যন্ত। গাছের কোনোটিতে ফুল এসেছে, আবার কোনোটিতে ফল ধরেছে। ক্ষেতে কথা হয় প্রদীপ বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ২ বছর আগে যশোরের কৃষি বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা জাগরণী চক্রের ‘সফল’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা ড্রাগন ফলের চাষাবাদে লাভ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তিনি চার শতক জমিতে ৫০টি চারা লাগান। আস্তে আস্তে বাড়ান পরিধি। বর্তমানে তার ক্ষেতে ২ শতাধিক ড্রাগনের চারা রয়েছে। ২৬টি চারা বিক্রি করেছেন ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি ফল ১০০ টাকা হিসেবে ৯০০ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে আরও বিক্রি করবেন। আরেক চাষি পলাশী দাসপাড়া গ্রামের পরিমল খা বলেন, তিনি দুই শতক জমিতে ৪০টি চারা লাগিয়েছেন। এরই মধ্যে ২২টি ফল পেয়েছেন। যেহেতু নতুন ফল, তাই নিজেরা কিছু খেয়েছেন আর বিক্রি করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষি প্রকাশ কুমার বলেন, তিনি তিন শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। গাছে ফল ধরা শুরু করেছে। বাড়িতে এখন দুই কেজি ফল রয়েছে। কিছু ফল নিজেরা খেয়েছেন। শহরে দাদার বাড়িতেও পাঠিয়েছেন। আরেক চাষি প্রদীপ কুমার জানান, তিনি চার শতক জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। এরই মধ্যে তিন কেজি ফল ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, একবার ড্রাগন গাছ লাগালে ১৫ থেকে ২০ বছর ফল দেয়।
‘সফল’ প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার নাজমুল হোসেন জানান, ড্রাগন ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ড্রাগন চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিরা ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রথমে ১০ জন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করলেও এখন আরও ৫০ জন বাড়িতে গাছ লাগিয়েছেন। প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, যশোরের কৃষকের যাতে এ ফল বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা না হয়, এজন্য তারা শহরের গ্রিন বাজারে লিংকেজ করে দিয়েছেন। সেখানে কৃষক যত খুশি ফল বিক্রি করতে পারবেন।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার মুঠোফোনে জানান, তারা ড্রাগন চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা দিচ্ছেন। তারা এ ফলের গুণাগুণ ও চাষাবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।